kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিন্দা

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৭:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিন্দা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটককৃত লেখক মোশতাক আহমেদের কারাগারে আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিন্দা জানিয়ে এর মাধ্যমে জনগণের বাক-স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা, সকল সাংবিধানিক অধিকার, স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে চলেছে বলে অভিযোগ করে দলটি।

আজ রবিবার অনুষ্ঠিত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় আরো বলা হয়, গণবিরোধী স্বৈরাচারী সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য সকল সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে বিভিন্ন কালা-কানুন বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মত একটি ভয়ংকর নির্যাতন মূলক আইন প্রয়োগ করছে।

বিএনপি দাবি করে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ইতিমধ্যে প্রায় ৭০০ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা রুহুল আমীন গাজী, দৈনিক সংগ্রামের বয়োবৃদ্ধ সম্পাদকসহ অসংখ্য সাংবাদিক, লেখক, পেশাজীবী আটক করে বিনা বিচারে কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

সভায় সাংবাদিক বুহান উদ্দিন হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া অবিলম্বে লেখক মোশতাক আহমেদের কারাগারে অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ধারের এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছে।

সভায় ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের আওতায় আটককৃত সকল ব্যক্তিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয় এবং গণবিরোধী ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছে।

খুলনার জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে আটক, বাস মালিকদের ধর্মঘটে বাধ্য করা এবং পুলিশ কর্তৃক বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জনগণকে নজিরবিহীন পুলিশী তল্লাশী ও বাধা প্রদানের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানানো হয় সভা থেকে। এই ঘটনার মধ্যদিয়ে আরেকবার প্রমাণিত হলো যে, সরকার জনগণের মত প্রকাশের অধিকার, সভা, সমাবেশের অধিকারসহ সকল গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক অধিকার নগ্নভাবে খর্ব করে চলেছে বলে দাবি করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে তালা দিয়ে অসহায় ছাত্রছাত্রীদের বল প্রয়োগের মাধ্যমে হল ছাড়তে বাধ্য করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা এলাকাবাসীর সঙ্গে বিরোধ-মীমাংসার কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে ছাত্রছাত্রীদের এইভাবে বের করে দেওয়া চরম মানবিক অপরাধ বলে মনে করে।

সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন ও সকল পৌরসভার নির্বাচনে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে চরম ব্যার্থতার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানানো হয় সভা থেকে।

বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই চরম প্রতিকুল অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। কিন্তু সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, এই নির্বাচন কমিশন কোন ও নির্বাচনই নিরপেক্ষ অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের যোগ্য নয়। এই অনির্বাচিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই তাদের প্রধান কাজ। এই এছাড়াও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বিরোধীতা বিএনপি সব সময়ই করেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আগামীতে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিএনপি অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ভার্চুয়াল এ সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা