kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ অবশ্যই ইতিহাস : ফখরুল

‘জিয়ার খেতাব বাতিলের অর্থ মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৩:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ অবশ্যই ইতিহাস : ফখরুল

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিগত ১২ বছরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিতর্কিত, বিকৃত করার হেন চেষ্টা নেই, যা করা হয়নি। যিনি প্রথম যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, যিনি প্রথম সেক্টর কমান্ডার, প্রথম ফোর্সেস কমান্ডার, তাঁকে বিতর্কিত করার জন্য কী না করা হয়েছে। সর্বশেষ তাঁর খেতাব বাতিলের জন্য আজ সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করার অর্থ মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করা,  মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা।

রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে গতকাল শনিবার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির আয়োজনে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় ড. মোশাররফ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতেই বিএনপি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘শুধু ৭ মার্চ নয়, আমরা ২ মার্চ, ৩ মার্চ পালন করছি। ২ মার্চ প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তখনকার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা আ স ম আবদুর রব। ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন শাজাহান সিরাজ। এটাকে কিভাবে অস্বীকার করব? একইভাবে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ অবশ্যই ইতিহাস। অবশ্যই তার সম্মান, তার মর্যাদা তাকে দিতে হবে। জিয়াউর রহমানের যে ঘোষণা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং সমগ্র জাতি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, এটাও ইতিহাস। এগুলো কোনোটাই অস্বীকার করা যাবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসে জাতি হিসেবে আমরা বিভক্ত হয়ে পড়েছি। আওয়ামী লীগ প্রথম থেকেই জাতিকে স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে, চেতনার পক্ষে-বিপক্ষে নিয়ে গেছে। ওই চেতনা নিয়ে কি দেশ স্বাধীন হয়েছিল? ডিজিটাল আইনে সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। কাজল, শহিদুল আলমসহ প্রায় ৪০০ জন বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগী। কতজনকে জেল খাটতে হয়েছে! সাগর-রুনিকে হত্যা করা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, কে কার খেতাব নিল না নিল, তাতে জিয়াউর রহমানের কিছুই যায় আসে না। এ দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষেরও কিছু যায় আসে না। বিএনপিরও কিছু যায় আসে না। জিয়াউর রহমান এটা অর্জন করেছিলেন তাঁর ঘোষণার মধ্য দিয়ে, কাজের মধ্য দিয়ে, যুদ্ধের সময় জনগণকে অনুপ্রাণিত করার মধ্য দিয়ে।

খালেদা জিয়া কারাগারে, আপনাদের সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না—এ রকম পরিস্থিতিতে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান কেন করছেন প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা—এটা আমার, এ দেশের মানুষের, কৃষকের, শ্রমিকের, সকলের। আমি এখানে স্বাধীনভাবে জাতিকে নির্মাণ করতে চাই। কে কী করল না করল, বড় কথা নয়। আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর অবশ্যই পালন করব। এটা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অনির্বাচিত সরকারের পালন করার সঙ্গে কোনো সম্পর্কিত নয়।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণপত্র তাদের কাছে যাবে। আজই (গতকাল) যাবে।’

মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব শ্যামা ওবায়েদের পরিচালনায় মতবিনিময়সভায় দলের নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, শওকত মাহমুদ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মিডিয়া কমিটির সদস্য মীর হেলাল উদ্দিন, আতিকুর রহমার রুমন, শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কারাগারে বন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা