kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

কলাবাগানে শিক্ষার্থী মৌমিতার মৃত্যু : হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:৩২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কলাবাগানে শিক্ষার্থী মৌমিতার মৃত্যু : হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ফেলে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম তাজরিন মোস্তফা মৌমিতা (১৯)। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদনান নামের এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ বলেন, ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার মৌখিক অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

স্বজনদের দাবি, মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেও বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিল মৌমিতা। বাবাকে সে বলেছিল, ছাদ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফিরবে। কিন্তু বাসায় আর ফেরেনি মৌমিতা। বাসার নিচে রক্তাক্ত দেহ পড়েছিল তার। পরিকল্পিতভাবে সাত তলার ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর ঘটনার জন্য তারা ওই বাসার মালিকের ছেলেকে দায়ী করছে।

তাকে সন্দেহ করার কারণ জানতে চাইলে নিহতের ফুপু শাহনেওয়াজ খানম কালের কণ্ঠকে বলেন, বাড়ির মালিকের ছেলে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল মৌমিতাকে। ফলে পরিকল্পিতভাবে তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হতে পারে। তবে ঢাকা মেডিক্যালে মৌমিতার মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে মৌমিতার শরীরে ধস্তাধস্তির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। উচু ছাদ থেকে পড়ে মৌমিতার মৃত্যু হয়েছে।

জানতে চাইলে মৌমিতার মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ওপর থেকে পড়ার কারণে তার (মৌমিতা) মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ থেকে ‘ব্লাড, ভিসেরা ও হাইভেজনাল সোয়াব সংগ্রহ করে এগুলো পরীক্ষার জন্য হিস্ট্রোপ্যাথলোজিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বলা যাবে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল কিনা। তবে তার শরীরে ধস্তাধস্তির কোনো আলামত পাইনি। তবে তার শরীরে যেই আঘাত গুলো রয়েছে তা ভবন থেকে পড়ার কারণেই হয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তিন বোনের মধ্যে মেঝো মৌমিতা ছিল চাপা স্বভাবের। তবে সবসময় হাসিখুশি থাকতেন। ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের কলাবাগান শাখা থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে এশিয়ান প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির মালয়শিয়া শাখায় পড়ালেখা করছিলেন। গতবছর করোনার কারণে দেশে আসেন। অনলাইনে নিয়মিত ক্লাস করছিলেন তিনি।

এ ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। মামলা করতে দেরির কারণ জানতে চাইলে নিহত মৌমিতার বাবা কামাল মোস্তফা শামীম বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। অপর এক প্রশ্নের জবাববে তিনি বলেন, তাদের বাড়ি টাঙ্গাইল ভুয়াপুর ঘাটানদি গ্রামে। তিন মেয়ের মধ্যে মৌমিতা মেঝো। তারা সপরিবারে মালয়েশিয়াতে থাকতেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের পরে তারা ঢাকায় ফিরে আসে। এরপর থেকে কলাবাগান ৮নম্বর রোডের, ২নম্বরে একটি ৭ তলা বাসার ৪র্থ তলাতে থাকেন। তাজরিয়ান মোস্তফা মৌমিতা (১৯) মালয়েশিয়ার এশিয়ান প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির বিএসসি ইঞ্জিনিয়িরিং ২য় বর্ষে পড়তো। গত বছরের ১৮ জুলাই সেখান থেকে ঢাকায় আসে সে। ঢাকায় আসার পর থেকে অনলাইনে ক্লাস করতো।

তিনি দাবি করেন, কলাবাগানের ওই বাড়ির মালিকের ছেলে ফাইজার মৌমিতাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করত। ফাইজারের বন্ধু আদনানও তার সঙ্গে মিলে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করত। বাসার বাড়িওয়ালার একটিই ছেলে। সে বাইরে থেকে বিভিন্ন ছেলেদের বাসায় নিয়ে আসতো। গত সপ্তাহে মৌমিতার মা ফাইজারের মাকে বিষয়টি জানিয়েছিল। তবে তিনি উল্টা প্রতিক্রিয়া করেছে মৌমিতার মায়ের উপর। তিনি বলেন, আমার ছেলে যা মনে চায় তাই করবে, আপনার মেয়েকে বের হতে না দিলেই তো হয়, আমার ছেলেকে কেনো থ্রেট দিতে আসছেন।

কামাল মোস্তফা বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌমিতা ছাদে উঠে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি জানতে পারেন, মেয়ে ছাদ থেকে পড়ে গেছে। সেখানে আমার বাসার কাজের ছেলেও দেখেছে অনেকে ক্রিকেট খেলছে, হৈচৈ করছে। আমি মৌমিতাকে মেসেজ দিয়েছিলাম সে বলল আসতেছি। এরপর আমি গ্রিন রোডে আমার অফিসে চলে যাই তখন আমার ছোট মেয়ে ফোনে বলে, আব্বু তাড়াতাড়ি গ্রিন লাইফ হাসপাতালে আসো।

মৌমিতার ফুপু শাহনেওয়াজ খানম বলেন, ‘ঘটনার সময় ছাদে ফায়জার ছিল। বিকালে ছাদের দরজা লাগিয়ে দিয়েছিল। আমাদের ধারণা মৌমিতাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই সে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করছিল।

তদন্তের এ পর্যায়ে কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ বলেন, নিহত মৌমিতার পরিবার এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারা একটু দেরিতে অভিযোগ দায়ের করবে বলে শুক্রবার রাতেই আমাদের জানিয়েছে। অভিযোগ দায়ের করার পরই আমরা মামলা নেব।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদনান নামের একজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। অনুসন্ধান শেষে এটি আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা