kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

লেখক মুশতাকের মৃত্যু ষড়যন্ত্র কি না খতিয়ে দেখা উচিত : হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লেখক মুশতাকের মৃত্যু ষড়যন্ত্র কি না খতিয়ে দেখা উচিত : হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। বেদনাদায়ক। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো মৃত্যু কাম্য নয়, আওয়ামী লীগও তা সমর্থন করে না। বিশেষ করে কারাগারে একজন ব্যক্তির মৃত্যু কখনও কাম্য নয়। সে হতে পারে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। কিন্তু সে যখন কারাগারে থাকবে তার স্বাস্থ্য বা সবকিছুর দেখভালের দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। কার গাফলতিতে মুশতাক আহমেদ কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করল। এটা সরকারকে বিব্রত করতে কি না তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট (স্বরাষ্ট্র) মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছি। একই সঙ্গে আমি অনুরোধ করব-বিভাগীয় তদন্ত করে, কারও গাফলতির কারণে এই মৃত্যু হয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুব উল আলম হানিফ এসব কথা বলেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি ও মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান রেজোয়ানুল হক রাজা, সাবেক সচিব মো. আক্তারুজ্জামান, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আ কা ম সরোয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জজ, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মো. জাহিদুল হাসান ও কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সভাপতি রবিউল ইসলাম।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গ টেনে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, প্রতিটি আইনের দুটি দিক আছে। আর আইন যারা প্রয়োগ করেন, তাদের আরো সচেতন হওয়া উচিত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোন ধারায় কতটুকু কী আছে, তা আইনজীবী ও সাংবাদিকরা ভালো বলতে পারবেন।

অনেক সরকারবিরোধী প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকেন জানিয়ে ওই অনুষ্ঠানে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, সুযোগ পেলেই তারা সরকারকে বিব্রত করেন। বিপদে ফেলতে চান। মুশতাক আহমেদের সেই ঘটনা, সেই ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ কি না এটা খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এমন ধরনের ঘটনা অনাকাক্ষিত। এটাকে সরকার কখনই সমর্থন করে না।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, গণমাধ্যমে দেখলাম মুশতাকের বিরুদ্ধে মামলা হবার পর ছয় বার জামিন আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত তাকে জামিন দেননি। এক বছর ধরে তিনি কারাগারে ছিলেন। আদালত সর্বোচ্চ জায়গা। তাদের উপরে আমাদের কোনো কথা নেই। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা আছে। কিন্তু আমার অনুরোধ থাকবে- এই যে মুশতাকের মতো একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র একটি লেখার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হবার পর ছয়বারেও জামিন  দেওয়া হলো না। এই জামিন না পাওয়াটা কতটা যৌক্তিক, বিচারপতিদের এটা ভাবনার বিষয়। ভবিষ্যতে যাতে কোনো মানুষ, এইভাবে যেন আর কোনো ঘটনায় পতিত হয়ে সরকারকে বিব্রত না করে।

আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে জাতিসংঘ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জানিয়ে আওযামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা জাতির জন্য গর্বের।যেটার জন্য আমরা দীর্ঘদিন লড়াই করেছি। একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। মিসকিন বা গরিবের রাষ্ট্রও বলা হতো। আজকে সেই বাংলাদেশ আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত। এসব সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষতার জন্য। চলার পথে ছোটখাটো ভুল থাকতে পারে। কিন্তু সব মিলিয়ে আমাদের সফলতা সঠিকভাবে তুলে ধরাটাও সাংবাদিকদের নৈতিক দায়িত্ব। যারা দেশকে ভালোবাসেন, যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি চান তারা সরকারের সফলতা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।

করোনার দুর্যোগে প্রায় এক বছর ধরে সারা বিশ্ব বিপর্যস্ত জানিয়ে তিনি বলেন, ধনী, শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ এখনো পরিপূর্ণভাবে সফল হয়নি। করোনায় প্রতিদিন তাদের দেশে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। সেই তুলনায় আমরা বাংলাদেশ সীমিত সম্পদ ও সক্ষমতা নিয়ে সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। যে মন্ত্রণালয়কে মিডিয়ায় ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

ভ্যাকসিন ইস্যুতে হানিফ বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ ভ্যাকসিন পাচ্ছে না। জুন-জুলাইয়ে পেতে পারে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায় এই ভ্যাকসিন দেশের মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে গেছে। প্রায় পাঁচশ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থেকে একযোগে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ এরই মধ্যে ভ্যাকসিন পেয়েছে। আরো ভ্যাকসিন আসছে। মার্চের মধ্যে তিন কোটি মানুষের ভ্যাকসিন দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের হাতে থাকবে এবং তা দিতে সক্ষম হবো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা