kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

‘নারীর প্রতি সহিংসতা উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে’

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:২৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘নারীর প্রতি সহিংসতা উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ঢাকা মহানগর কমিটি আয়োজিত অব্যাহত নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রতিকারের দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ) বিকাল ৩.০০ টায় আহম্মদনগর পাইকপাড়া, কল্যাণপুর পাইকপাড়া ও মিরপুর সেনপাড়া আহ্বায়ক কমিটির তত্ত্বাবধানে রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড অঞ্চলের কাছে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অব্যাহত নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি মোমেনা শাবনূর ।

প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচিতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর কমিটির কল্যাণপুর পাইকপাড়া শাখার সভাপতি মানছুরা বেগম।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাড. মাকছুদা আক্তার লাইলী,আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামী,সিনিয়র অ্যাড. দীপ্তি রানী সিকদার। সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটি পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি হোময়ারা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, উত্তর সিটি করপোরেশনের ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব মুরাদ হোসেন, দেওয়ান আব্দুল মান্নান, মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরিন রুকসানা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, নারীর ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতন  প্রতিরোধে ও প্রতিকারের দাবিতে এবং সহিংসতার শিকার নারীদের পাশে থেকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তবে নারীকে দুর্বল ভেবে তার প্রতি শক্তির প্রদর্শন ও নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি দেশের এই সামগ্রিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব  সৃষ্টি করছে। গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি হয়েছে, তা খুবই আশাপ্রদ। অর্থনীতির এই উন্নয়নে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। সামাজিক অগ্রগতির সূচকে নারীর ক্ষমতায়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

এসবের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সূচকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।আমরা সবাই জানি, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান নারীকে সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার দিয়েছে। কিন্তু এখনও নারীর অগ্রযাত্রার পথে এখানে অজস্র প্রতিবন্ধকতা। প্রতিনিয়ত তাকে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশে নারীর সমান অধিকারের অন্যতম প্রধান বাধা অবশ্যই পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।

দেশজুড়ে ঘটে চলা সহিংসতার ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক অস্থিরতা সামাজিক অবক্ষয়, নারী ও শিশু নির্যাতন ধর্ষণ, ধর্ষণের পরবর্তী হত্যা এসব আমাদের নারী সমাজের উন্নয়নের পথ অবরুদ্ধ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যে হারে ধর্ষণ, গণধর্ষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে সমাজে শিশু থেকে বৃদ্ধ নারী কেউই নিরাপদে নেই। ধর্ষণের বিচার পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়।

বক্তারা জানান মেয়েদের পোশাক, সৌন্দর্য, স্বাধীনভাবে  চলাফেরা, বন্ধুত্ব, আচরণ যদি ধর্ষণের কারণ হয়ে থাকে, তাহলে কেন শিশু ধর্ষণের হার বছর বছর বাড়ছে? সমাজ জোটবদ্ধভাবে ধর্ষিতাকে একঘরে করে। তাকেই জবাবদিহি করতে হয় কেন সে ধর্ষিত হল? আইনের পাশাপাশি সমাজকে বুঝতে হবে, মানতে হবে—লজ্জা ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর নয়, লজ্জা ধর্ষকের। তা না হলে সমাজে ধর্ষণের মত অপরাধ থামানো কঠিন। নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীর নিজের কোনো দোষ নয়, বরং নির্যাতনকারীই এর জন্য দোষী। ধর্ষণের শিকার নারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে। এসব কিছু বহাল রেখে কেবল মৃত্যুদণ্ডের আইন পাস করলেই ধর্ষণ বন্ধ হবে না। সবাইকে একত্রিত করে চিন্তা ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার নারীকে সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে আনতে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।

ধর্ষণের ঘটনা প্রতিহত করতে অপরাধীদের প্রতি এলাকাভিত্তিক গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ধর্ষণকারীরা কোনো দলের এবং কারো প্রতিবেশী হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন । সমাজ থেকে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জোর প্রতিরোধ গড়ে না উঠলে শুধু আইনি তৎপরতা দিয়ে এটি বন্ধ করা যাবে না।

ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কমিশন গঠন করতে হবে। ধর্ষণসহ নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বন্ধে সরকারকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। ধর্ষণের জন্য অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করতে হবে। অপরাধীকে যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক আশ্রয়- প্রশ্রয়দাতাদের জবাবদিহি, প্রয়োজনে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা নারী নির্যাতন মুক্ত পৃথিবীর চাই এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায়  সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।

সমাবেশে সাধারণ প্রস্তাব পাঠ করেন ঢাকা মহানগর কমিটি  লিগ্যাল এইড সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরিন । প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচিতে উপস্থিত সকলকে সাধারণ প্রস্তাব পাঠের প্রস্তাবিত বিষয়বস্তু ও পদক্ষেপ সম্পর্কে একাত্মতা ঘোষণা করে সমর্থন জানিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা