kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

ভুয়া জামিননামা, যুবলীগ নেতাসহ ৩০ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ হাইকোর্টের

এটা আদালতের সঙ্গে প্রতারণা : অ্যাটর্নি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভুয়া জামিননামা, যুবলীগ নেতাসহ ৩০ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ হাইকোর্টের

হাইকোর্টের ভুয়া জামিননামা তৈরি করায় বগুড়া সদর উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) ও কাউন্সিলর মো. আমিনুল ইসলামসহ ৩০ আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই আদেশ বাস্তবায়ন করে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে(ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ন জালিয়াতি। একটি চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠিনতর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, এই আদালত কোনোদিনও আগাম জামিনের আবেদন শোনেন না। আর জামিননামায় যেসকল আইন কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে দুইজন ২০১৯ সাল থেকে আর অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নেই। আর একজন পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, এই কাগজটি সম্পূর্ণ ভুয়া। তিনি বলেন, এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতরা পার পেয়ে গেলে সমাজের কাছে একটি খারাপ বার্তা যাবে। এ কারণেই আদালতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেছি। আদালত তাদের গ্রেপ্তারের নিদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে বগুড়ার আদালতকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়াতে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। এরমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের ছোটভাই মশিউল আলম বাদী হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় যুবলীগের সহসভাপতি মো. আমিনুল ইসলামসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আমিনুল ইসলামসহ ৩০ জনের জামিন নেওয়ার একটি আদেশনামা তৈরি করা হয়। আদেশনামায় দেখানো হয়েছে যে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে আসামিদের ৬ সপ্তাহের জামিন দেওয়া হয়েছে। এই জামিন শেষে তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের এই আদেশের তথ্য সংশ্লিস্ট আদালতের নজরে আসে। এরপর এবিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চান। অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করে জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানান। এরপর আদালত আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিষয়ে জানতে আমিনুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে কল করা এবং ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি ধরেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা