kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

শুদ্ধভাবে বাংলা চর্চার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরার

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৪:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুদ্ধভাবে বাংলা চর্চার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরার

নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধভাবে বাংলা চর্চা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

আজ রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত শিশু একাডেমির মিলনায়তনে 'শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য' বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কাজী রওশন আক্তার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিশু একাডেমির মহাপরিচালক জ্যোতি লাল কুরী।

শিশুদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও ২০৪১ সালের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তোমরাই মূল ভূমিকা রাখবে। একুশ মানে মাথা নত নয়, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে অনুপ্রেরণা। যারা নতুন প্রজন্ম আছো,  তোমাদের কাছে আশা করি তোমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ  করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িকতায় বেড়ে উঠবে। এটাই হবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মতৃভাষা দিবসের অঙ্গীকার।'

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, 'আজকের শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবসকে ১৯২টি দেশ মর্যাদার সঙ্গে পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই একযুগ শাসন আমলে বাংলাদেশ বদলে গেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে।'

ইন্দিরা আরো বলেন, দেশ বিভাগের পর থেকেই বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তানি শাসকেরা বাঙালির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হলেও আবার নতুন শোষণের কবলে পড়েছে দেশ। তিনি ১৯৪৭ সালেই বাংলা ভাষাকে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের লেখা ও আইন- আদালতের ভাষা করার দাবি করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করা আন্দোলনের মূল সংগঠক। ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষার পক্ষে যে লিফলেট বিতরণ করা হয়, সেখানে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অন্যতম স্বাক্ষরকারী। তিনি ভাষার দাবিতে আন্দোলন করে দুইবার গ্রেপ্তার হন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্রীরা রাজপথে মিছিল করেছিলেন। জাতির পিতা তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইয়ে ভাষা আন্দোলনে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ নিয়ে লিখেছেন, 'বহু ছাত্র গ্রেপ্তার ও জখম হলো। কয়েকজন ছাত্রীও মার খেয়েছিল। মুসলিম গার্লস স্কুলের ছাত্রীরা সকাল ১০টায় স্কুলের ছাদে উঠে স্লোগান দিতে শুরু করত আর ৪টায় শেষ করতো'।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে  তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকজন আল বদর, রাজাকার ব্যতীত সাড়ে সাত কোটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কেউ যদি মনে করে কোনো এক অজ্ঞাতনামা মেজরের ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল তাহলে এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের উচ্চতা, গভীরতা ও ব্যাপকতার সঙ্গে কারো তুলনা হয় না। খলনায়ক কিন্তু খলনায়কই থাকে, খলনায়ক যেমন কোনোদিন নায়ক হতে পারে না। তেমনি কোনো পাঠকই কিন্তু ঘোষক হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের যারা বিরোধিতা করেছিল, তারাই কিন্তু তাদের পরাজয়ের গ্লানি মোচনের জন্য বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব কাজী রওশন আক্তার বলেন, 'মাতৃভাষার আন্দোলন যে কত গভীর তা দিনে দিনে বুঝেছি।' তিনি নতুন প্রজন্মের শিশুদের কাছে শুদ্ধভাবে মাতৃভাষা বলার আহ্বান জানান। এ ছাড়া যথাযোগ্য মর্যাদায় যেনো বাংলাভাষা ব্যবহার হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ঢাকা কেন্দ্র, জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের শিশুদের পরিবেশনায় ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। 



সাতদিনের সেরা