kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় করণীয়

মো. জাকির হোসেন   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৩:৪৬ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় করণীয়

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকসহ আট জঙ্গির ফাঁসির রায় দিয়েছেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। ছয় বছর আগে বইমেলা থেকে ফেরার পথে অভিজিৎ রায়কে জঙ্গি হামলায় হত্যা করা হয়েছিল। গতকাল অভিজিৎ হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। দীপন হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউল হক, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আবু সিদ্দিক ওরফে সাদিব ও আকরাম হোসেন ওরফে সাকিব ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির অভিজিৎ হত্যা মামলার রায়েও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ফয়সল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে দীপনকে হত্যা করা হয়। বিচার শুরুর এক বছর তিন মাসের মাথায় আলোচিত এই মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত সবাই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। দীপনকে হত্যার মোটিভ উল্লেখ করে রায়ের পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞ বিচারক বলেন, ‘লেখক, ব্লগার ও প্রকাশকদের হত্যার অংশ হিসেবে অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশের জন্য জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে হত্যা করা হয়।’ সব আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে যুক্তি উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, ‘আসামিদের কারো ভূমিকা ছোট-বড় করে দেখার সুযোগ নেই। যারা বই প্রকাশের দায়ে মানুষ হত্যা করতে পারে, তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু। ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যায় অংশগ্রহণকারীরা বেঁচে থাকলে আনসার আল ইসলামের বিচারের বাইরে থাকা সদস্যরা একই অপরাধ করতে উৎসাহী হবে।’ বিজ্ঞ বিচারকের এমন আশঙ্কার পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। দীপনকে যে বছর হত্যা করা হয়েছিল, সেই ২০১৫ সালে অভিজিৎ রায়, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়সহ কয়েকজন ব্লগার-লেখককে হত্যা করা হয়। দীপনকে হত্যার দিন একই সময়ে লালমাটিয়ায় আরেক প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে এর কর্ণধার আহমেদুর রশিদ চৌধুরী টুটুলসহ তিনজনকে একই কায়দায় কোপানো হয়েছিল। তবে টুটুলসহ তিনজন প্রাণে বেঁচে যান। দুটি ঘটনায়ই জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের নাম আসে। রায়ের পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়েছে, ‘আসামিদের লক্ষ্য ছিল ব্লগার, লেখক ও প্রকাশকদের হত্যা করে মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া এবং মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা। আর এ সব কিছুর উদ্দেশ্য হলো মানুষের মতো প্রকাশের স্বাধীনতাকে বন্ধ করে দেওয়া। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ধ্বংস করে দেওয়া।’

ইসলামের নামে যাঁরা সন্ত্রাস করছেন, জঙ্গিবাদে জড়িয়ে এমনকি মানুষ হত্যা করছেন, তাঁদের উদ্দেশে কয়েকটি বিষয় বিবেচনার জন্য নিবেদন করছি—এক. মানুষ আল্লাহর অত্যন্ত ভালোবাসার সৃষ্টি। মহান রব ফেরেশতাদের আপত্তি উপেক্ষা করে মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং এই পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি বলে ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আর আপনার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন তারা বলল, আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা প্রতিনিয়ত আপনার গুণকীর্তন করছি এবং আপনার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি (আল্লাহ) বললেন, নিঃসন্দেহে আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩০) মহান স্রষ্টা মানুষকে এতটাই ভালোবেসেছেন যে তাঁর সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর অবয়ব দিয়েছেন মানুষকে। সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে।’ (সুরা : ত্বীন, আয়াত : ৪)। মহান আল্লাহ ভালোবাসার সৃষ্টি মানুষের জীবন, মর্যাদা, সম্পদ ও সম্মান সুরক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। একজন মানুষ হত্যা করাকে গোটা মানবজাতিকে হত্যার সমতুল্য অপরাধ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষ হত্যা কিংবা জমিনে সন্ত্রাস সৃষ্টির কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করল সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকেই হত্যা করল, আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচাল, সে যেন সকল মানুষের প্রাণ বাঁচাল।’ (সুরা: মায়িদা, আয়াত : ৩২) রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আসমান-জমিনের সমস্ত অধিবাসী একত্রে মিলিত হয়েও যদি একজন মুমিনকে হত্যা করার কাজে অংশগ্রহণ করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাদের সকলকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’ (তিরমিজি : ১৩৯৮) মানুষ হত্যা এতটাই ভয়ংকর অপরাধ যে হত্যার অপরাধের ক্ষেত্রে অসীম দয়ার আধার মহান রবের কাছেও ক্ষমা পাওয়ার আশা ক্ষীণ। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) বলেন, ‘যেসব বিষয়ে কেউ নিজেকে জড়িয়ে ফেলার পরে তার ধ্বংস থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় থাকে না, সেগুলোর একটি হচ্ছে অন্যায়ভাবে রক্ত প্রবাহিত করা (অর্থাৎ অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা)।’ (বুখারি : ৬৮৬৩) মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি গুনাহ আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেবেন। তবে দুটি গুনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করবেন না। প্রথমটি হচ্ছে, কোনো মানুষ কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা, অপরটি হলো ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করা।’ (নাসায়ি : ৩৯৮৪) রাসুল (সা.) তাই বলেছেন, ‘আমার পরে তোমরা একে অপরকে হত্যা করে কাফির হয়ে যেয়ো না।’ (বুখারি : ১২১) দুই. কেউ হয়তো আমার যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত করে হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলবেন, রাসুল (সা.)-কে গালমন্দ, অপমান, অবমাননার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় ও সাহাবিদের জামানায় রাসুল (সা.)-কে অবমাননার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হাদিসের উদ্ধৃতি বিষয়ে কোনো মুসলমানের দ্বিমত করার সুযোগ নেই। কিন্তু এ কথাও তো সত্য, রাসুল (সা.) ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে কাফির, ইহুদি ও মুনাফিকদের নির্যাতনে রক্তাক্ত হয়েও ধৈর্য ধারণ করেছেন। তারা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে উপহাস করেছে, মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, কষ্ট দিয়েছে, পাথর ছুড়ে মেরেছে। তারা বলেছে, তিনি জাদুকর, পাগল, নিন্দিত ব্যক্তি। তারা তাঁকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বলেছে যে তিনি কবি বা গণক। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘দেখুন, ওরা আপনার জন্য কেমন সব উপমা দেয়। ওরা পথভ্রষ্ট হয়েছে। অতএব, ওরা পথ পেতে পারে না।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল : ৪৮)। এত কিছুর পরও রাসুল (সা.) ধৈর্য হারাননি, তাদের হত্যা করেননি। তিন. হত্যা-সন্ত্রাস করে কি রাসুল (সা.) ও তাঁর প্রিয় সাহাবিরা (রা.) ইসলাম প্রচার করেছেন? মানুষ হত্যা করে, সন্ত্রাস করে কি ইসলামের কোনো উপকার হয়েছে? কখনো যাচাই করে দেখেছেন ইসলামের নামে উগ্রবাদকে কত শতাংশ মুসলমান সমর্থন করে? বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক সময় এমনকি স্বজনরাও নিহত উগ্রবাদীর মৃতদেহ গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। উগ্রবাদিতার কারণে বাংলাদেশের মানুষ কি ইসলামের আদেশ-নির্দেশের প্রতি আরো অনুরক্ত হয়েছে? সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, ধর্ষণ, বলাৎকার, পর্ন ছবি দেখা, কিশোর গ্যাংস্টার—এসব বন্ধ হয়েছে? বাস্তবতা হলো, এসব বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি জরিপ বলছে, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মুসলমান দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। তাই সন্ত্রাস নয়, শান্তি ও সম্প্রীতিকে পাথেয় করে হিদায়াত ও সংশোধনের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। রাসুল (সা.) জাহেলি শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য জোরজবরদস্তি, নৈরাজ্য ও ধ্বংসাত্মক পন্থা অবলম্বন করেননি। রাসুল তাঁর সাহাবিদের (অনুসারীদের) আত্মঘাতী হওয়ার, চোরাগোপ্তা হামলার শিক্ষা দেননি। বরং সুন্দর ব্যবহার, উত্তম চরিত্র, আল্লাহর পথে আহ্বান, আত্মগঠন ও সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন। আপনারা তাহলে কার অনুসরণ করছেন? আল্লাহর আইন বা ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ করতে হলে তা শুধু আল্লাহর কোরআন ও রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথেই করতে হবে। ইসলামের নামে কোনো শায়খের খামখেয়ালিপনা কিংবা ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শবিরোধী পন্থায় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। বরং ইসলামের নামে উগ্রতার কারণে দেশে-বিদেশে টুপি-দাড়িওয়ালা মানুষ শুধু সন্দেহ আর অবিশ্বাসেরই শিকার হচ্ছে না, অনেক ক্ষেত্রে হামলা, অপমান, অবহেলা ও বিদ্রুপের শিকার হচ্ছে। ইসলামের নামে বোমাবাজি, হত্যা, সন্ত্রাস আর আত্মহননের কারণে মসজিদে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, সীমিত সময়ের জন্য মসজিদ খোলা থাকছে। ফলে মসজিদভিত্তিক ইসলামী জ্ঞানচর্চা বন্ধ হয়ে গেছে।

নাস্তিকতাকে যারা বেছে নিতে চায়, তাদের উদ্দেশে বলছি, ইসলামে ধর্মের ব্যাপারে জবরদস্তি নেই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাসুল (সা.)-কে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি বলুন, আপনার প্রতিপালক-প্রভুর পক্ষ থেকে পূর্ণ সত্য সমাগত, অতএব যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে অস্বীকার করুক।’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ২৮) তবে নাস্তিকতার নামে কোনো ধর্মের স্রষ্টা, নবী-রাসুলকে আক্রমণ করা প্রচলিত আইন অনুযায়ীই অপরাধ। আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় আইনে মত প্রকাশ ও বাকস্বাধীনতার নামে ইচ্ছাখুশি সব কিছু করা যাবে না। কারণ মত প্রকাশ ও বাকস্বাধীনতার সঙ্গে বিশেষ কর্তব্য ও দায়িত্ব জড়িত থাকায় কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচার-প্রচারণা, যা বিভেদ, শত্রুতা অথবা সহিংসতা উসকে দেয়, তা নিষিদ্ধ।

দীপন হত্যা মামলার রায়ে বিজ্ঞ বিচারক বলেছেন, ‘আসামিরা কোনো সহানুভূতি পেতে পারে না এবং সে জন্য আসামি সবাইকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এটা হবে একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এতে একদিকে নিহতের আত্মীয়রা মানসিক শান্তি পাবে, অন্যদিকে ভবিষতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করতে অন্যরা ভয় পাবে এবং নিরুৎসাহ হবে।’ জঙ্গিবাদ ধর্ম, মানবতা ও সভ্যতার শত্রু। একে নিরুৎসাহ করা যথেষ্ট নয়। জঙ্গিবাদের শিকড় উৎপাটন করতে হবে। দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হলে শুধু তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা কিংবা তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই যথেষ্ট হবে না। যে মতবাদের ভিত্তিতে তারা সংগঠিত হচ্ছে এবং সন্ত্রাস করছে, সেই মতবাদের ভ্রান্তি বিশেষ করে তরুণসমাজের কাছে পরিষ্কার করতে হবে। ইসলামের নামে উগ্রতার উদ্ভবের একটি কারণ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও বিকৃত ধারণা। তরুণদের বোঝাতে হবে উগ্রবাদ ইসলামে শুধু নিষিদ্ধই নয়, এটি ইসলামের দৃষ্টিতে ভয়ংকর অপরাধ ও পাপ। কারণ ইসলাম অন্যায়ের প্রতিবাদ অন্যায় পদ্ধতিতে করতে অনুমতি দেয় না। ইসলাম একের অপরাধে অন্যকে শাস্তি প্রদানের অনুমতি দেয় না। সর্বোপরি ইসলাম কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীকে বিচার বা শাস্তির দায়িত্ব নিজে গ্রহণের অনুমতি দেয় না। আশার কথা, সরকারের পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদে জড়িতদের ফিরিয়ে আনতে ও পুনর্বাসনে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেকে আত্মসমর্পণ করে জঙ্গিবাদী তৎপরতা থেকে ফিরে আসায় উগ্রবাদ এখন প্রায় স্তিমিত হয়ে পড়েছে।

লেখক : অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা