kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

রাবির সাবেক শিক্ষার্থী

সিফাত হত্যা মামলায় স্বামী আসিফের আপিল বিভাগে জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৭:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিফাত হত্যা মামলায় স্বামী আসিফের আপিল বিভাগে জামিন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলায় নিহতের স্বামী মো. আসিফ প্রিসলিকে জামিন দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ রবিবার আসিফের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আসিফের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ।

সিফাত হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের রায় বাতিল ও পুনরায় নিম্ন আদালতে বিচার করতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) করা আবদেন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

হাইকোর্ট গতবছর ৬ সেপ্টেম্বর এক রায়ে নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে নতুন করে বিচারের নির্দেশ দেন। তিনমাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতে খালাসপ্রাপ্ত তিন আসামিকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল আবেদন করেন মো. আসিফ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতের সঙ্গে মো. আসিফের বিয়ে হয় ২০১০ সালে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের সংসারে বিবাদ শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে ২০১৫ সালে ২৯ মার্চ শশুর বাড়িতে মারা যায় সিফাত। এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত করা হয়। এতে বলা হয়, সিফাত আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু ওইবছরের ২ এপ্রিল সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার বাদী হয়ে রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে সিফাতের মরদেহ কবর থেকে তুলে রংপুর মেডিকেলে ময়না তদন্ত করা হয়। দ্বিতীয়দফা ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিফাতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ তদন্ত শেষে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে সিফাতের স্বামী মো. আসিফ প্রিসলি, আসিফের পিতা অ্যাডভোকেট মো. রমজান হোসেন, মা নাজমুন নাহার ও প্রথমদফা ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক ডা. জোবাইদুর রহমানকে আসামি করে ২০১৬ সালের ২২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়। মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এই আদালতে ২০১৬ সালের ১১ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর বিচার শেষে একমাত্র আসিফকে(সিফাতের স্বামী) দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রায় দেয় আদালত। রায়ে আসিফের বাবা, মা ও প্রথমদফা ময়না তদন্তকারী ডাক্তারকে খালাস দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসিফ এবং বাদীপক্ষ হাইকোর্টে পৃথক পৃথক আবেদন করেন। এ দুটি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতে পুনরায় বিচারের নির্দেশ দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা