kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

জিয়ার খেতাব ইস্যু

সতর্ক থাকবে বিএনপি, চলবে প্রতিবাদও

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৩:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সতর্ক থাকবে বিএনপি, চলবে প্রতিবাদও

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বীর-উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও বিএনপি এই ইস্যুতে এখনই কঠোর কোনো কর্মসূচিতে যাবে না। বরং এ ব্যাপারে পদক্ষেপ ও কর্মকৌশল নেওয়ার বিষয়ে দলটি সতর্ক থাকবে। কারণ সরকার ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে কি না তা নিয়ে বিএনপিতেই রয়েছে সংশয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ইস্যুতে আপাতত বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ সমাবেশের মতো দুই-একটি কর্মসূচি আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হতে পারে। বিকেল ৩টায় চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি সংবাদ সম্মেলনও ডেকেছে।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী শনিবার ঢাকায় এবং পরের দিন রবিবার জেলায় জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। অবশ্য সরকারের ওই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হলে বিএনপি কঠোর কর্মসূচি দিতে পারে বলে জানা গেছে।

জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের খবরে গতকাল বিকেলে তাত্ক্ষণিকভাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিক্ষোভ-সমাবেশের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। তবে বৈঠকে আলোচনা হয়, জিয়ার খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয় কি না সেটি দেখার বিষয়। একাধিক নেতা মনে করেন, দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম এখন আলজাজিরায় প্রচারিত প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় মশগুল। ওই ঘটনা থেকে জনগণের নজর অন্যদিকে ফেরানোর জন্য সরকারের এটি কৌশল হতে পারে। এ প্রসঙ্গে কয়েক নেতা মত দেন, এর আগে চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে জিয়াউর রহমানের কবর অন্যত্র সরানোর উদ্যোগ নিয়েও সরকার শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করেনি।

২০১৯ সালের জুনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রী জাতীয় সংসদ চত্বর থেকে জিয়াউর রহমানসহ আরো যেসব কবর রয়েছে তা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। সরকারের মন্ত্রীদের তখন যুক্তি ছিল, জাতীয় সংসদে মূল নকশার বাইরে এসব কবর দেওয়া হয়েছে। ওই কবরগুলো সরিয়ে তখন মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নেওয়ার আলোচনা শোনা গিয়েছিল। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরেও একবার সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের উদ্যোগের কথা শোনা যায়।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশ-বিদেশের সমালোচনায় সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এ কারণে তারা এখন জিয়াউর রহমানকে অপদস্থ করার জন্য মাঠে নেমেছে। কিন্তু দেশের জনগণ সরকারের এই নোংরা খেলা মেনে নেবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আলজাজিরায় প্রচারিত প্রতিবেদনে সরকার নিয়ে মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে যা করছে মানুষ এটাও মানবে না। আমরা সব নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে মাঠে থাকব।’

সিঙ্গাপুর থেকে গতকাল রাতে টেলিফোনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি বলতে এখন আর কিছু নেই। জিয়াউর রহমানকে অপমান করার জন্য এখন তারা মাঠে নেমেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, মানুষকে তারা আলজাজিরার মনোযোগ থেকে দূরে সরাতে চায়। তবে মানুষ যা বোঝার বুঝে গেছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত আরেক নেতা বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রায় সব নেতা একমত যে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় আছে। কারণ তারা আলজাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে বিপদে আছে। এ জন্যই আমরা সতর্কতার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা