kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ৯ বছর

হতাশার আরেকটি বছর পার

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৩:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হতাশার আরেকটি বছর পার

‘কী বলব। দায়সারা তদন্ত। সরকারও বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবু আমরা অপেক্ষায় আছি খুনিরা একদিন গ্রেপ্তার হবে। একদিন তাদের বিচার হবে।’ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে গতকাল বুধবার এভাবেই হতাশার কথা জানান রুনির ভাই ও মামলার বাদী নওশের আলম রোমান।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এই হত্যাকাণ্ডের ৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও র‌্যাবের ছয়জন কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ পর্যন্ত মোট ৭৮ বার সময় নিয়েছেন; অগ্রগতি বলতে এটুকুই। ভুক্তভোগী পরিবার দুটির সদস্যরা বলেন, হতাশার মধ্য দিয়ে আরেকটি বছর পার করলেন তাঁরা।

তবে র‌্যাবের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্তে কিছুটা অগ্রগতি আছে। খুনি গ্রেপ্তার হবে বলে তাঁরা এখনো আশাবাদী। আগামী ১১ মার্চ মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা একটি চ্যালেঞ্জিং মামলা। মামলা তদন্তে কিছু বিষয়ে অগ্রগতিও আছে। তদন্ত অব্যাহত আছে। আমরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করছি।’

মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন শেরেবাংলানগর থানার এসআই জহুরুল ইসলাম। তাঁর কাছ থেকে তদন্তের দায়িত্ব যায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক রবিউল আলমের কাছে। ৬২ দিন পর ডিবি আদালতের কাছে ‘ব্যর্থতা’ স্বীকার করলে ২০১২ সালের এপ্রিলে তদন্তের দায়িত্বে আসে র‌্যাব।

ঘটনাস্থলে গিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার’ মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে। দুই দিন পর তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছিলেন, ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে।

জানতে চাইলে সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির আক্ষেপ করে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অপেক্ষায় আছি। সন্তানদের খুনের বিচার চাই। মৃত্যুর আগে সন্তান হত্যার বিচারটা যেন দেখে যেতে পারি।’

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, মামলার তদন্তে র‌্যাবের ৬৯টি অগ্রগতি প্রতিবেদনেই ‘গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা এক প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগার থেকে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। সেই রিপোর্ট ও অপরাধচিত্রের প্রতিবেদন (ক্রাইম সিন রিপোর্ট) পর্যালোচনায় দুজন পুরুষের ডিএনএর পূর্ণাঙ্গ প্রফাইল পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার আট আসামি, নিহত দুজন এবং স্বজন মিলে ২১ জনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল। এসব পরীক্ষায় সন্দেহভাজন খুনি শনাক্ত হয়নি।

রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান দুই বছর কারাগারে থাকার পর ২০১৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। দারোয়ান পলাশ রুদ্র পালও জামিনে বাইরে রয়েছেন। এ অবস্থায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে পরিবার।

রোমান জানান, খুনের সময় সাগর-রুনি দম্পতির একমাত্র ছেলে মেঘের বয়স ছিল পাঁচ বছর। তার বয়স এখন ১৫। রাজধানীর ইন্দিরা রোডে নানার বাসায় মামার সঙ্গে থাকছে সে। একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁরা মেঘকে মা-বাবার স্মৃতি আঁকড়ে থাকতে দেন না। তবে প্রায়ই মা-বাবার কথা বলে মেঘ।

অন্যদিকে এত দিনেও খুনের রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ সাগর-রুনির সহকর্মীরা। মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান রেজোয়ানুল হক রাজা বলেন, ৯ বছরেও এ হত্যা মামলার সুরাহা হয়নি, এটা বিশ্বাস করাই কঠিন। বিষয়টি চরম হতাশার। তিনি এর পেছনে বড় কোনো রহস্য আছে বলে সন্দেহ করেন।

এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করবেন সাংবাদিকরা।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু ভূইয়া বলেন, মামলাটি সম্পর্কে সবাই জানতে চায়। তাই এটি ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করা উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা