kalerkantho

রবিবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৫ রজব ১৪৪২

বেসরকারিতে টিকা দিতে সরকারের ওপর চাপ

তৌফিক মারুফ    

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০২:৫৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বেসরকারিতে টিকা দিতে সরকারের ওপর চাপ

করোনার টিকা নেওয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ প্রতিদিনই বাড়ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সারা দেশে বিনা মূল্যে গণটিকাদান শুরুর চতুর্থ দিনে গতকাল বুধবার টিকা নিয়েছে দেড় লাখের বেশি মানুষ। তবে সরকারের যে প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে প্রতিদিন তিন লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে। তা সত্ত্বেও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে টাকার বিনিময়ে ‘টিকা বাণিজ্য’র সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছেন বেসরকারি উদ্যোক্তারা।

তবে সরকারের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা এখনই প্রাইভেট সেক্টরকে টিকা বাণিজ্যের সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে অনড় রয়েছেন। তাঁরা প্রাইভেট সেক্টরের আবদারে সায় না দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন সরকারকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের কোনো দেশই এখন পর্যন্ত প্রাইভেট সেক্টরের হাতে টিকা দেয়নি। এ ছাড়া বিনা মূল্যে যেখানে সরকার ভালোভাবেই টিকা দিতে পারছে, সেখানে কেন টাকার বিনিময়ে টিকা দেওয়ার দরকার হবে।

এত দিন বেসরকারি উদ্যোক্তারা ভেতরে ভেতরে দেন-দরবার ও বৈঠক করে টিকার ভাগ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁরা ২০টি প্রাইভেট হাসপাতালে টিকা চালুর দাবি জানিয়ে আবেদন করেন সরকারের কাছে। তাতেও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সাড়া না পেয়ে গতকাল বুধবার তাঁরা রাজধানীর একটি হোটেলে এক আয়োজনের মাধ্যমে প্রকাশ্যেই টিকায় বেসরকারি হাসপাতালকে যুক্ত করার দাবি তুলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দাবি পূরণের সরাসরি কোনো আশ্বাস না দিয়ে বেসরকারি খাতের এগিয়ে আসাকে খুশির খবর মন্তব্য করে ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সাপেক্ষে বিবেচনার আশ্বাস’ দেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সংগঠনের সভাপতি মুবিন খান ১০ লাখ ডোজ টিকা সরকারের পক্ষ থেকে প্রাইভেট সেক্টরকে দেওয়ার আবদার করেন। একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালকে করোনার টিকা দেওয়ার অনুমতি এবং এ জন্য দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানান। সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, বেসরকারি খাতে টিকা দেওয়ার সুযোগ পেলে মানুষের উপকার হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূইয়া, প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের ডা. সরদার এ নাঈম, এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার ডা. আরিফ মাহমুদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট সে দেশে নো মাস্ক-নো সার্ভিস কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশে তিন মাস আগেই এই কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। ফলে বলা যায় আমেরিকা আজ যা ভাবে, বাংলাদেশ তিন মাস আগেই তা করেছে।’

শুধু সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরাই নন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারাও চান না এখনই টিকা প্রাইভেট সেক্টরের হাতে দিতে। সবাই বলছেন, মহামারির এই সময়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা মূল্যে দেশের উপযুক্ত সব মানুষ যাতে টিকা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার যদি এখনই প্রাইভেট সেক্টরকে টিকা দেওয়ার অনুমতি দেয় সেটা বড় ভুল হবে। কোনো দেশই এখন পর্যন্ত প্রাইভেট সেক্টরের হাতে টিকা দেয়নি। যেখানে দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভালোভাবেই বিনা মূল্যে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি চলছে, সেখানে কেন টাকার বিনিময়ে টিকা দেওয়ার দরকার হবে। এটা শুধু প্রাইভেট সেক্টরের বাণিজ্যের একটা কৌশল। সরকারের উচিত হবে না টিকা নিয়ে বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া। এ ছাড়া সামনে যদি প্রয়োজন হয় তখন প্রাইভেট সেক্টরকে টিকা আমদানি করার অনুমতি দেওয়া যাবে। সরকারের টিকা কখনোই প্রাইভেটে ছাড়া ঠিক হবে না।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কিনে সারা দেশে বিনা মূল্যে প্রয়োগ গত রবিবার থেকে শুরু করেছে সরকার। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলে টিকাদান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, গত রবিবার ৩১ হাজার ১৬০ জন, সোমবার ৪৬ হাজার ৫০৯ জন, মঙ্গলবার এক লাখ এক হাজার ৮২ জন এবং গতকাল এক লাখ ৫৮ হাজার ৪৫২ জন টিকা নিয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত টিকা নিয়েছে তিন লাখ ৩৭ হাজার ৭৬৯ জন। এর মধ্যে দুই লাখ ৪৬ হাজার ৪২৬ জন পুরুষ ও ৯১ হাজার ৩৪৩ জন নারী। গতকাল ঢাকায় টিকা দেওয়া হয়েছে ১৯ হাজার ১১৫ জনকে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৭৬৬ জন পুরুষ ও বাকিরা নারী। আর এ পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে মোট টিকা নিয়েছে ৪৪ হাজার ৪৪৮ জন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা