kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধে বিশেষজ্ঞ মত জানাবেন ৬ অ্যামিকাস কিউরি

প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্মানহানি হয়েছে : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৭:৩৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্মানহানি হয়েছে : হাইকোর্ট

কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরার বাংলাদেশে সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে দাখিল করা রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য কি না, একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সম্প্রচার বন্ধে আদেশ দিতে পারে কি না সে বিষয়ে আইনি মতামত জানতে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র ছয় আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনের কপিসহ আদেশটি দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ছয় আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। যে ছয় আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, অ্যাডভোকেট কামালুল আলম, সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, প্রবীর নিয়োগী ও ড. শাহদীন মালিক। আদালত আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি তাদের বক্তব্য শুনবেন। আদালতে রিট আবেদনকারী ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন নিজেই শুনানি করেন। আর বিটিআরসির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই রাকিব।

এদিকে শুনানিতে আদালত বিটিআরসির নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিটিআরসি যদি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে না পারে তাহলে তারা ওখানে বসে আছে কেন? আদালত বলেন, এটা সত্য যে এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূণ ব্যক্তিদের সম্মানহানি হয়েছে। সুনির্দিষ্ট আইন ও কর্তৃপক্ষ থাকার পরও গত দশ দিনে কেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ভিডিও অপসারণ করা গেল না। এরই মধ্যে দেশে-বিদেশে কোটি কোটি লোক (ভিউয়ার্স) ওই প্রতিবেদন প্রত্যক্ষ করেছে। এখন এটা অপসারণ করে লাভ কী? এখন এটা অপসারণ করা আর না করা সমান কথা।

শুনানির শুরুতে রিট আবেদনকারী নিজেই আবেদনটি তুলে ধরেন। এস ময় আদালত তার কাছে জানতে চান, আপনি ব্যক্তিগত এই রিট আবেদন করতে পারেন কি না? সংবিধানের ১০২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপনি কিভাবে সংক্ষুব্ধ হলেন? আর এই রিট আবেদনে একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সম্প্রচার বন্ধের আদেশ দিতে পারি

কি না? কিন্তু রিট আবেদনকারী কোনো জবাব দিতে না পারায় আদালত তার কাছে একই প্রশ্ন বারবার করতে থাকেন। এ সময় রিট আবেদনকারী বলেন, ওই প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর আঘাত করা হয়েছে। এ কারণে দেশের একজন নাগরিক হিসেবে এই রিট আবেদন করা হয়েছে।

এ সময় আদালত তার কাছে জানতে চান যে রিট আবেদন করার আগে আল-জাজিরাকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না? আইনি নোটিশ না দিয়ে রিট আবেদন করতে পারেন কি না? আর এর ভিত্তিতে আমরা (আদালত) আদেশ দিতে পারি কি না? আর সম্প্রচার বন্ধের আদেশ দিলেও তা কার্যকর করা যাবে কি না?

আদালত বলেন, এটা সত্য যে এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্মানহানি হয়েছে। কিন্তু দেশে-বিদেশে কোটি কোটি লোক (ভিউয়ার্স) ওই প্রতিবেদন প্রত্যক্ষ করেছে। এখন সরিয়ে লাভ কী? এখন এটা অপসারণ করা আর না করা সমান কথা।

জবাবে রিট আবেদনকারী বলেন, যে নীতিমালা আছে, তাতে আদালতের আদেশ ছাড়া পদক্ষেপ নিতে পারে না। তিনি বলেন, এর আগেও আদালতের আদেশে অনেক কনটেন্ট সরানো হয়েছে।

এ সময় আদালত বলেন, সুনির্দিষ্ট আইন ও কর্তৃপক্ষ থাকার পরও গত দশ দিনে কেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ভিডিও অপসারণ করা গেল না। এটা সরাতে আদালতের আদেশ লাগবে কেন? যাদের দায়িত্ব তারা যদি পদক্ষেপ নিতে না পারে তবে বসে আছে কেন? তাদের কাজ কী?

রিট আবেদনকারী সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় একপর্যায়ে বিটিআরসির আইনজীবী রেজা-ই রাকিব আদালতে বলেন, এটা সত্য যে এখান থেকে আদেশ দিয়ে আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করা সম্ভব না। স্বাভাবিকভাবে ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে কিছু সরানো যায় না। তবে আদালত আদেশ দিলে সংশ্লিষ্টদের কাছে সেই আদেশ পাঠিয়ে বলা যায়, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর কিছু থাকলে তা সরাতে। অতীতে এ রকম নজির আছে। যেমন নোয়াখালীর এক নারীর নির্যাতনের ঘটনায় দেওয়া হয়েছিল।

এ সময় আদালত বলেন, কেন আদেশ লাগবে? আমরা তো দেখেছি, রাষ্ট্রবিরোধী বা সরকারবিরোধী কোনো স্ট্যাটাস দিলে তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পারলেন না কেন? জবাবে রেজা-ই রাকিব বলেন, আদালত ঠিকই বলেছেন। তবে যা হবার হয়ে গেছে। রিট আবেদনকারীর আশঙ্কা, আরো কিছু আসতে পারে। তাই এখন আদালত আদেশ দিতে পারেন।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটনি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী বলেন, বিটিআরসির আগেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তারা নিষ্ক্রিয়তা দেখিয়েছে। তিনি বলেন, আরো পর্ব আসতে পারে বলে রিট আবেদনকারীর আশঙ্কা।

বাংলাদেশে আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন। রিট আবেদনে বাংলাদেশকে নিয়ে সম্প্রতি আল-জাজিরায় প্রচারিত প্রতিবেদন ইউটিউব, টুইটার, ফেসবুকসহ সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিট আবেদনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্টদেরকে বিবাদী করা হয়েছে।

‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার মেন’ শিরোনামে গত পহেলা ফেব্রুয়ারি আল-জাজিরায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে এ প্রতিবেদন ভিত্তিহীন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রণালয়, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর), পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পৃথক পৃথক বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মহল থেকেও প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংবাদিক মহল থেকেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের) বিএফইউজে) একাংশ বাংলাদেশে আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এ অবস্থায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা