kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

'জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার শামিল'

অনলাইন ডেস্ক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১১:৫৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার শামিল'

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ফাইল ছবি

জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার শামিল মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, 'স্বাধীনতার ডাক দিয়ে জিয়াউর রহমান প্রথম সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। তিনি সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। স্বাধীনতার পরে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীর-উত্তম’ পেয়েছেন। এখন ৫০ বছর পরে যদি সরকার সেটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়, তা হবে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর চরম অবমাননা।'

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কর্তৃক জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এসব কথা বলেন তিনি।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, 'আমরা এখনো বিষয়টি জানি না। তবে সরকার যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটা হবে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর চরম অবমাননা। বাংলাদেশের মানুষ ও সারা বিশ্বের মানুষ জানে যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ২৬ তারিখ সকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে প্রথম রিভল্ট করেন। তারপর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে গিয়ে নিজে প্রথমে স্বাধীনতার ডাক দেন, পরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্বাধীনতার ডাক দেন।'

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত খারাপ নজির হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের জনগণ মেনে নেবে না। জনগণের কাছে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক এবং শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই থাকবেন। তারা যতই খেতাব মুছে দিতে চেষ্টা করুক, জনগণের মন থেকে কখনো জিয়াকে মুছে দেওয়া সম্ভব হবে না।'

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিএনপির কোনো কর্মসূচি থাকবে কি না জানতে চাইলে বিএনপির প্রবীণ এই নেতা বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানি না। যেহেতু জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি না সেটা জানি না। সিদ্ধান্ত হলে আমরা দলের মধ্যে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।

বিএনপির অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, 'এটা তো মুক্তিযোদ্ধাদের গায়ে আগুন লাগিয়েছে। জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি বাতিল মানে হলো মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করা, অস্বীকার করা। দল-মত-নির্বিশেষে সব মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা। এটা জনগণ মানে না, মানবেও না।'

মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে জিয়াউর রহমানকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব 'বীর-উত্তম' প্রদান করে। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর তাঁর রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা