kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

ইসলামের প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টান্ত

মুজিববর্ষের উপহার ৫৬০ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
দেশে পদ্মা সেতুর পর নিজস্ব অর্থায়নে সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রকল্প

এস এম আজাদ, উত্তরাঞ্চল থেকে ফিরে   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৩:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইসলামের প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টান্ত

রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে তৈরি হচ্ছে বড় স্থাপনা। সম্পূর্ণ ভিন্ন অবকাঠামোর চারতলা ভবনের ভেতরের দেয়ালের কাজ প্রায় শেষ। বাইরের দেয়ালের কাজ চলছে। এই কর্মযজ্ঞ দেখতে ভিড় করছে উত্সুক এলাকাবাসী। তাদের একজন মুফতি কাওসার আহমেদ পাশের জলকর জামে মসজিদের খতিব। স্থাপনার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের স্বপ্ন, যার বাস্তব রূপ দিচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বিরাট মসজিদ। এক জায়গায়ই থাকছে হিফজখানা, পাঠাগার, শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা, ইমাম প্রশিক্ষণ, হজের নিবন্ধনসহ অনেক কিছু। সারা দেশে নাকি এমন শত শত মসজিদ হচ্ছে। ইসলামের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসার দৃষ্টান্ত এটি।’ পাশে দাঁড়ানো রংপুর শহরের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল শিক্ষক মো. আব্দুল কাহার যোগ করেন, ‘এই মসজিদে একসঙ্গে হাজার মুসল্লি নামাজই আদায় করতে পারবে। সাধারণ মানুষ কোরআন ও হাদিস শিক্ষার মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করবে।’

রংপুরের মতো সারা দেশেই এমন নির্মাণাধীন বড় মসজিদগুলো ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও আলেম সমাজের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ নামে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পদ্মা সেতুর পর সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে সর্বোচ্চ ব্যয়ের (রাজস্ব খাতের আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা) প্রকল্প এটি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য উপহার হিসেবে এসব মসজিদ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলোর মধ্যে ১৭০টি এ বছরই চালু হয়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে হবে বাকিগুলো। ইসলামী চিন্তাবিদরা বলছেন, বিশ্বের কোনো দেশে এমন মেগাপ্রকল্পের মাধ্যমে একযোগে এত মসজিদ নির্মাণের নজির নেই। এই মসজিদগুলোর মাধ্যমে দেশে প্রকৃত ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার ও শক্তিশালী ইসলামী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে।

আওয়ামী লীগের ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে চলছে এই কার্যক্রম। গত বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলীয় জনপদ ঘুরে দেখা গেছে, জেলা ও উপজেলার মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘বিভাগীয় শহর হিসেবে এখানে চারতলা মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হচ্ছে। এর ৯১ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। জেলার সব উপজেলা মিলে ৯টি মসজিদ হবে।’

প্রকল্পের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নজিবর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পটির ব্যয় আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা, যা পদ্মা সেতুর পর সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে (রাজস্ব খাত) সর্বোচ্চ। আমরা এ বছর ১৭০টি মসজিদ উদ্বোধন করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী ৩০ এপ্রিলের পর যেকোনো দিন প্রথম পর্যায়ে ৫০টি মসজিদ উদ্বোধন করবেন। বাকি ১২০টি চলতি বছরেই উদ্বোধন হবে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে বাকিগুলোর কাজ হবে।’

চারতলা মসজিদে একসঙ্গে এক হাজার ২০০ এবং উপজেলা পর্যায়ে তিনতলা মসজিদে একসঙ্গে ৯০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া ইসলামী লাইব্রেরি, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইসলামী গবেষণা, হেফজখানা, মরদেহ গোসল, হজ নিবন্ধন, অটিজম কর্নার, শিশু ও গণশিক্ষা, ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসন, অতিথিশালাসহ ১৪ ধরনের সুবিধা থাকবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মসজিদগুলোতে বছরে সর্বমোট ১৪ হাজার হাফেজ তৈরির ব্যবস্থা থাকছে। প্রাথমিক শিক্ষা পাবে এক লাখ ৬৮ হাজার শিশু। তিন মডেল বা ক্যাটাগরিতে মসজিদগুলো নির্মিত হচ্ছে। ৬৪ জেলা শহর ও চার সিটি করপোরেশনে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৬৯টি চার তলাবিশিষ্ট মডেল মসজিদ হচ্ছে। ‘বি’ ক্যাটারির তিনতলা মসজিদ হবে ৪৯১টি। এর মধ্যে ‘সি’ ক্যাটাগরির উপকূলের মসজিদ হবে ১৬টি। এসব মসজিদ ভবনের নিচতলা ফাঁকা থাকবে, যা সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহার হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়নে অনুমোদন হলেও সৌদি অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এই পর্যায়ে অনেকটা পদ্মা সেতু প্রকল্পের মতোই সাহসী সিদ্ধান্তে নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৮ সালে সংশোধিত প্রকল্পটি শুরু হয়, যা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। এরই মধ্যে সময় বাড়ানোর আবেদন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা