kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

আলজাজিরার বাংলাদেশ বিরোধিতা

মো. জাকির হোসেন   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৪:১৩ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



আলজাজিরার বাংলাদেশ বিরোধিতা

আধুনিক জীবনের একটা অঙ্গ হলো গণমাধ্যম। গণমাধ্যম হচ্ছে সভ্যতার অগ্রগতির প্রমাণপত্র। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, Newspaper is the herald of the civilization. সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে সমাজকে আলোর পথে পরিচালিত করতে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের অনেক গৌরবময় ভূমিকা ও ইতিহাস থাকলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও ব্যক্তির কারণে গণমাধ্যম কলঙ্কিত হয়েছে। শুধু ভুল তথ্য উপস্থাপন নয়, বরং নির্জলা মিথ্যাচার ও বিতর্কিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে গণমাধ্যমজগতে যোগ হয়েছে নতুন টার্ম ‘হলুদ সাংবাদিকতা’। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো ব্যক্তি বা সমাজের চরিত্র হননে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের উপস্থাপন করে দেশ ও জাতিকে বিভ্রান্ত করে সংবাদপত্রের ঔজ্জ্বল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আলজাজিরা সেই কলঙ্কিত হলুদ সাংবাদিকতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। নব্বই দশকের শুরুতে আল-থানি রাজপরিবারের লৌহশাসনের অধীনে কাতার মধ্যপ্রাচ্যে একক আধিপত্য কায়েমের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। অন্যদের পাশাপাশি প্রপাগান্ডা তথা সরকারি মালিকানায় সংবাদ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠাকে একটি সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছিল। রাজপরিবারের স্বপ্নের হাত ধরেই গড়ে ওঠে আলজাজিরা সংবাদমাধ্যম বা টিভি নেটওয়ার্ক। আলজাজিরার বিশ্বমঞ্চে প্রভাবের শুরু মূলত ২০০১ সালে নিউ ইয়র্কে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর থেকে। আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন তাঁর বক্তব্য প্রচার করার জন্য এই টিভি চ্যানেলটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। হঠাৎ করেই বিশ্বজুড়ে টিভি সংবাদে আলজাজিরা নামটি আলোচনায় আসে। আধুনিক, গতিশীল শৈলীর সংবাদ উপস্থাপনার সঙ্গে সঙ্গে কাতারভিত্তিক সংবাদ টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরা অনবরত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের কলঙ্কিত অধ্যায় শুরু করে সেই নব্বইয়ের দশকেই। আলজেরিয়ার সরকার হলুদ সাংবাদিকতার জন্য প্রথম আলজাজিরাকে নিষিদ্ধ করে। মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষে কাজ করা, সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া, উগ্র মতবাদ ও সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি আরব, বাহরাইন, আরব আমিরাত, জর্দান ও মিসরে আলজাজিরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আলজাজিরা আরব বিশ্বের বিভিন্ন সরকার উৎখাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাজ করেছে। বেশ কয়েকটি দেশে তারা আরব বসন্তের প্রভাবকে প্রশস্ত করেছে এবং বিপক্ষ রাজনৈতিক পক্ষের জন্য অফিশিয়াল মুখপাত্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বাহরাইনের আলজাজিরার সংবাদদাতাকে নিষিদ্ধ করার কারণ হিসেবে বাহরাইনের তথ্যমন্ত্রী নাবিল আল-হামর দাবি করেছিলেন, এই সংবাদমাধ্যম উপসাগরীয় অঞ্চলে জায়নিস্ট অনুপ্রবেশের অন্যতম অঙ্গ। ২০১৭ সালে সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। এরপর সেই সম্পর্ক উন্নয়নে ১৩ দফা শর্ত দেয়। এর মধ্যে আলজাজিরা বন্ধের দাবিও রয়েছে। চ্যানেলটি সন্ত্রাসবাদ প্রসারে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ ওই রাষ্ট্রগুলোর। এর আগেও আলজাজিরাকে ঘিরে পারস্য উপসাগরীয় দেশ ও মিসরের সঙ্গে কাতারের সম্পর্কে বেশ কয়েকবার চিড় ধরেছিল। ২০২০ সালে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনে সৌদি আরবের নেওয়া শান্তি পরিকল্পনা বিষয়ে আলজাজিরার কাভারেজ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছিল সৌদি আরব। ফলে কাতার থেকে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল দেশটি। সিরিয়ার জীবিত মানুষকে মৃত হিসেবে মিথ্যা প্রচার করার হলুদ সাংবাদিকতার কারণে আলজাজিরা থেকে একসঙ্গে ২২ জন সাংবাদিক পদত্যাগ করেছেন। বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানে যে ধরনের তথ্য পাওয়া যায়, তাতে এটি শুধুই একটি গণমাধ্যম, নাকি গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নে কোনো গোষ্ঠীর মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে—এ প্রশ্ন উঠেছে বারবার! এ বিষয়টি যে উপেক্ষা করার মতো নয়, তা বোঝা যায় আলজাজিরা ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৬২৪ নম্বর রেজল্যুশনে, ‘Freedom of expression cannot be used to justify and shield the promotion of extremist narratives.’ কাতারভিত্তিক আলজাজিরা বরাবরই বাংলাদেশবিরোধী, বিশেষ করে বর্তমান সরকারবিরোধী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যেদিন থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করল, সেদিন থেকেই এই বিচারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার পাঁয়তারা চালাতে থাকে; এমনকি আলজাজিরা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ বলে দাবি করে বিতর্কিত সংবাদ পরিবেশন করে। ৫ মে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৫০ জনের অধিক নিহত হয়েছিল বলেও আলজাজিরা মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে। আলজাজিরার বাংলাদেশবিরোধী তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থানের আরেকটি উদাহরণ উল্লেখ করছি। আমরা জানি, একটি সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়কের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছিল। এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আন্দোলনে সরকারবিরোধীরা সরকার উৎখাতের সুযোগ খুঁজছিল। তাদেরই একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার শহীদুল আলম, যিনি মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের গণ-আন্দোলন নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বারবার মিথ্যাচার করেছেন। সড়ক আন্দোলনকে নিয়ে শহীদুল আলমের কাছে আলজাজিরার উদ্দেশ্যমূলক প্রশ্নটি ছিল : Is this all about road safety or is there something larger going on there? শহীদুল আলম জবাব দিয়েছেন, ‘এই আন্দোলনটি নিছক সড়ক নিরাপত্তার আন্দোলন নয়; তার চেয়ে অনেক বড় কিছু। এই সরকার একটি অনির্বাচিত সরকার এবং তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো ম্যান্ডেট নেই, কিন্তু তবু তারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে। তারপর তিনি বর্তমান সরকারের দুর্নীতি, এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং ইত্যাদির খতিয়ান দিয়ে বলেছেন, ‘So, it really is that pent-up energy, emotion, anger that has been let loose this particular incident.’ নিরাপদ সড়ক চেয়ে যে শিশু-কিশোররা রাস্তায় নেমে এসেছিল, তারা কি সরকারের ম্যান্ডেট, দুর্নীতি, ব্যাংক ডাকাতি ইত্যাদি নিয়ে কোনো কথা বলেছিল! এসবের কারণেই পুঞ্জীভূত রাগ থেকে রাস্তায় নেমে এসেছিল? অবশ্যই না। একটি পুকুরের পানির তথ্য সংগ্রহ করতে হলে স্বাভাবিক প্রশ্ন হতে পারে—এই পুকুরের পানির বিশেষত্ব কী, এতে কী কী উপাদান আছে ইত্যাদি। কিন্তু আপনি যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেখাতে চান এ পানিতে কমলার রস আছে, তাহলে হয়তো প্রশ্ন করবেন—এ পুকুরের পানিতে কত শতাংশ কমলার রস আছে? সড়ক আন্দোলন নিয়ে আলজাজিরার প্রশ্নটি তেমনিই উদ্দেশ্যমূলক ছিল। নেপথ্যের কারণ সরকারকে বেকায়দায় ফেলা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের মর্যাদাহানি করা। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কারণেই রাজনৈতিকভাবে আলজাজিরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও আওয়ামী লীগ সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেয় শুরু থেকেই। বাংলাদেশবিরোধী কিছু মানুষ বিদেশে বসে আমাদের গর্ব, আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য—বর্তমান সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দূরত্ব সৃষ্টি করা। সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার এই প্রয়াসে সশস্ত্র বাহিনীবিরোধী এই ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে আলজাজিরাও। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্রয়ে কয়েকজন ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ঠিকাদারিতে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছে বলে আলজাজিরা সিরিজ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দুর্নীতি হচ্ছে না—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই দুর্নীতির ঘটনায় বঙ্গবন্ধুকন্যাকে জড়ানো ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের অংশ। বঙ্গবন্ধুকন্যা দুর্নীতি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। দলীয় বা আত্মীয় পরিচয়ে কেউ ছাড় পাচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধী এই যুদ্ধে। বঙ্গবন্ধুকন্যার অসাধারণ নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতায় স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আগেই উন্নয়ন আর অগ্রগতিতে বাংলাদেশ এক বিস্ময়ের নাম। বাংলাদেশকে এখন অন্যদের জন্য রোল মডেলের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একসময় যেসব দেশ বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ দিত, তারাই এখন প্রশংসাবাণে ভাসিয়ে ফেলছে। বলছে, এই বাংলাদেশ আর সেই আগের বাংলাদেশ নয়। গত এক যুগে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বদলে গেছে এর সব কিছুই। বিশ্বব্যাংক বলছে, অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক বেশির ভাগ সূচকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়াকে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে ছাড়িয়েছে তো অনেক আগেই। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতিসংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। স্বপ্ন দেখছে দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশে জায়গা করে নেওয়ার। অতি সম্প্রতি ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০২১’ নামের রিপোর্টে এই পূর্বাভাস দিয়েছে যে, বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। যেসব দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ ২৫তম অর্থনীতির দেশ হবে তার মধ্যে আছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ডেনমার্ক, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা, ইসরায়েল, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নাইজেরিয়া, বেলজিয়াম, সুইডেন, ইরান ও তাইওয়ান। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, একটি জনবহুল ও নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেভাবে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্র্য দূর এবং বৈষম্য কমানোকে সংযুক্ত করেছে, তা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন উদাহরণ দেওয়ার মতো একটি দেশ বলেও মন্তব্য করেছে আইএমএফ। সরকারও পিছিয়ে পড়া ও অতিদরিদ্রদের জন্য সামাজিক কর্মসূচি খাতে অব্যাহতভাবে বাজেট বাড়িয়ে চলেছে। যেমন বেড়েছে দেশের অর্থনীতির আকার, তেমনি বিস্তৃত হয়েছে বৈদেশিক বাণিজ্য। ভারতের পার্লামেন্টে গত ১ ফেব্রুয়ারি যে বার্ষিক বাজেট পেশ করা হয়েছে সেখানে প্রতিবছরের মতো বিগত আর্থিক বছরের সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। দুই খণ্ডের রিপোর্টে বাংলাদেশের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি অধ্যায় লেখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রপ্তানি থেকে যে রাজস্ব আয় করেছে সেটা ভারতের কাছে শিক্ষণীয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিগত দশক ধরেই বাংলাদেশ রপ্তানিনীতিতে ভারতকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

গণতন্ত্রের তিনটি দিক আছে—রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক। বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক গণতন্ত্রে বিশ্বের অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। সবার জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক কল্যাণ ও অংশীদারি নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশে রূপকথার অগ্রগতি হয়েছে। রাজনৈতিক গণতন্ত্রের ঘাটতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যার সরকার উৎখাতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আলজাজিরা সেই ষড়যন্ত্রকে বাস্তবায়ন করতে ষড়যন্ত্রীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কয়েক দিন আগেও ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের শামিল। মুক্তচিন্তার গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আমাদের কাম্য; কিন্তু এমন স্বাধীনতা নয়, যা মিথ্যা ও বানোয়াট। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে মিথ্যাচারের লাইসেন্স নয়। সংবাদপত্র আধুনিক সভ্যতার আশীর্বাদ। এই আশীর্বাদকে মানুষ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। সংবাদপত্রকে কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহার করা হলে কালের আবর্তনে তা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। আলজাজিরা এই সত্য অনুধাবন করে, সত্য ও সুন্দরের পক্ষে বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করবে—এটাই কাম্য।

লেখক : অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা