kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

বিএনপির সিরাজের বক্তব্য নিয়ে সংসদে হট্টগোল, জবাব দিলেন ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:৪৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিএনপির সিরাজের বক্তব্য নিয়ে সংসদে হট্টগোল, জবাব দিলেন ডেপুটি স্পিকার

বিরোধী দল বিএনপি’র সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের বক্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে হই হট্টগোল হয়েছে। রবিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে সরকারের সমালোচনা করে তার দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সরকারী দলের সদস্য হট্টগোল শুরু করেন। পরে তার বক্তব্যের জবাব দেন সংসদে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জি এম সিরাজ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ না করায় তাকে ধন্যবাদ জানাতে পারছি না।’ এ সময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা তার কথার প্রতিবাদ জানান। এরপর তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, হত্যা-ধর্ষণ নিয়ে কোনও কথা বলেননি এবং দিকনির্দেশনা দেননি বলে আমি তাকে ধন্যবাদ দিতে পারছি না।’ এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ করতে থাকেন। সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার সংসদে ‘গণতান্ত্রিক চর্চার’ আহ্বান জানিয়ে তাদের শান্ত হতে অনুরোধ করেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘তাকে বলতে দেন। উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হলে উত্তর দেবেন।’ কিন্তু এরপরও হইচই বেড়ে যায়। পরে ডেপুটি স্পিকার ওই বক্তব্যের জবাব দেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্য সিরাজ সাহেব মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে ২-১টি কথা বলেছেন। সেটি সঠিক নয়। আমি চিন্তা করে দেখবো এক্সপাঞ্জ করা যায় কিনা।’ তিনি বলেন, ‘আপনি চর্চার কথা বললেন। এই চর্চা আপনারা ওই গ্যালারি থেকে থুথুর চর্চা আমার গায়ে দেখিয়েছিলেন। ৯০-৯১, ২০০১ সালে। গায়ে থুথু দিয়েছিলেন। আমি তখন জাতীয় পার্টি করতাম। আই অ্যাম কনফেসিং। যেহেতু আমি বিএনপিকে অ্যাটাক করে বক্তব্য দিয়েছিলাম, আমার গায়ে থুথু দেওয়া হয়েছিল। এই প্র্যাকটিসও আপনারা দেখিয়েছেন। সকলকে অনুরোধ করবো, সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য সহনশীলতা থাকতে হবে। আপনি হঠাৎ করে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে একটি কথা বলবেন, আর আমরাও পাল্টা উত্তর দেবো, এটা গণতন্ত্রের ভাষা না। সুতরাং, গণতন্ত্রের ভাষা যদি আপনি পেতে চান, আপনাকেও গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলতে হবে।’

এরআগে সরকারী দলের সদস্যরা হট্টগোল শুরু করলে জিএম সিরাজ বলেন, আমার সহকর্মীরা অযথা হইচই করছেন। জনগণ আমাদের কথা শুনতে চায়। সংখ্যায় কম হলেও শুনতে চায়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা রেখে, মাননীয় স্পিকার আপনাকে শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, এই প্র্যাকটিস আগে দেখিনি। আমি ৯৬ সালে এমপি ছিলাম। তখনও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। তখন এমন ছিল না। এটা ব্যাড প্র্যাকটিস। আওয়ামী লীগের পলিটিক্যাল ক্যারেক্টার চেঞ্জ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ আবারও ফিরে যাক মানুষের কাছে। ফিরে যাক ভালোবাসার কাছে। ভয়ভীতির চর্চা বাদ দিয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করুক। আমার নেতা প্রধানমন্ত্রী আছেন সামনে। আসুন, আমরা ফিরে যাই জনগণের কাছে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে বিএনপির সংসদ সদস্য সিরাজ বলেন, সরকারি দলের সর্বস্তরের নেতারা গ্রাম পর্যায়ে ইউনিয়ন থেকে রাজধানী পর্যন্ত সর্বগ্রাসী দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। বিচারহীন দেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। চলমান সংসদেও এক ডজন সংসদ সদস্য দুর্নীতি, সরকারি-বেসরকারি জমি দখল, বিদেশে অর্থপাচার, মানবপাচারে জড়িত। তাদের কোনও জবাবদিহি নেই। তিনি বলেন, ভোটের মালিক পুলিশ, প্রশাসন আর নির্বাচন কমিশন। ভোট মানে উইং সার্টিফিকেট। হাজার কোটি টাকা, জনগণের অর্থ ব্যয় করে প্রহসনের নির্বাচন করে কী লাভ?

স্বাস্থ্য ও আর্থিক খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, টাকা পাচারকারীরা অদৃশ্য ও অধরা রয়ে গেছে। এদের পৃষ্ঠপোষক কারা? এরা সবাই সরকারের মদতপুষ্ট, সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বেসিক ব্যাংকের আব্দুল হাই বাচ্চু থেকে আজকের প্রশান্ত কুমার হালদার পর্যন্ত সরকারের ঘনিষ্ঠ। তিনি আরো বলেন, এই সংসদের সদস্য পাপুল, যাকে ঘুষের দায়ে কুয়েত সরকারের বিচার বিভাগ জেল দিয়েছে। পাপুল শুধু সংসদ নয়, এই দেশকে কলঙ্কিত করেছে। অর্থপাচার মামলায় রায় আরো কঠিন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা