kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

সুখবর নেই ভোজ্য তেলের বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক    

৩১ জানুয়ারি, ২০২১ ০৮:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুখবর নেই ভোজ্য তেলের বাজারে

আমদানিনির্ভর ভোজ্য তেলের বাজারে এই মুহূর্তে কোনো সুখবর নেই। সুখবর পেতে আরো এক থেকে দেড় মাস অপেক্ষা করতে হবে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা ও আবহাওয়ার বিরূপতার কারণে উৎপাদন ঘাটতিতে বর্তমানে সব ধরনের ভোজ্য তেলের দাম যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা নামাতে পারে নতুন মৌসুমের সরবরাহ। আর সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত।

ওই সময় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, মালয়েশিয়াসহ ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী বড় দেশগুলোতে চলতি বছরের নতুন মৌসুম শুরু হবে। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের ভোজ্য তেলের সরবরাহ বাড়বে। এতে দাম কমে টনপ্রতি এক হাজার ডলারের নিচে নেমে আসবে। আন্তর্জাতিক বাজারে কমলে দেশের বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে দেশের বাজারে কমাতে হলে সরকারের কঠোর মনিটরিং থাকতে হবে। এখন যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে বেড়েছে, তখন যেন দেশের বাজারেও কমে সেদিকে নজর রাখতে হবে।

এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ভোজ্য তেলের দাম কমলেও বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দুই বছর সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে করোনার পরে যে চাহিদা তৈরি হয়েছে তা চলতি বছরের উৎপাদন দিয়ে মিটবে না। ধীরে ধীরে বাজার স্বাভাবিক হবে।

আমদানিকারকদের তথ্য বলছে, দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদার ৯০ শতাংশই পূরণ হয় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করে। করোনা ও আবহাওয়ার বিরূপতার (লা লিনা নামে পরিচিত) কারণে ভোজ্য তেলের উৎপাদন ও সরবরাহ কম ছিল। এতে অক্টোবর থেকে দাম চড়তে থাকে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি টন এক হাজার ৩০ ডলারের ওপরে রয়েছে। এ ছাড়া অপরিশোধিত পাম তেলের দাম ৯৪০ থেকে ৯৫০ ডলার প্রতি টন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যখন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ ডলার এবং পাম তেল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলারে নামবে তখন তাকে স্বাভাবিক বলা যাবে। এর নিচে নামলে কম এবং বেশি হলে দাম বেশি বলা যায়। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাসহ দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে সয়াবিনের বড় মৌসুম হলো মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত। এ ছাড়া মালয়েশিয়াতেও এ সময় পাম তেলের পিকসিজন শুরু হয়। এবার আবহাওয়া এখনো ভালো দেখা যাচ্ছে। ভ্যাকসিন বিতরণ শুরু হওয়ায় করোনার প্রভাবও কমে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মার্চ মাস থেকে সয়াবিন ও পাম দুই ধরনের তেলের উৎপাদন ও সরবরাহই বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সয়াবিনের দাম টনপ্রতি হাজার ডলার ও পাম তেলের দাম টনপ্রতি ৯০০ ডলারের নিচে নামবে। এ ক্ষেত্রে টনপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। এরপর আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে সয়াবিনের মৌসুম শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্রে। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ আরো বাড়বে।

জানতে চাইলে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (বাংলাদেশ ও নেপাল) এ কে এম ফখরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ভোজ্য তেলের দাম স্বাভাবিক হতে আরো দুই বছর সময় লাগবে। তবে মার্চের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে শুরু করবে। কারণ মার্চ থেকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে এবং আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে সয়াবিনের মৌসুম শুরু হবে। মার্চে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের পিকসিজনও শুরু হবে। মার্চের আগ পর্যন্ত কিছুটা ওঠা-নামা করতে পারে। তবে দেশের খুচরা বাজারে দাম কমাতে বাজার তদারকি বাড়াতে হবে। কারণ খুচরায় যে যেমন খুশি দামে বিক্রি করে।

দেশের ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত সপ্তাহে ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে কিছু পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি বলেন, 'দাম নির্ধারণে একটি কমিটি কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণে গঠিত কমিটি বিশ্লেষণ করে একটা মানসম্মত দামের তালিকা তৈরি করবে।' এ ছাড়া আমদানি ও বিপণনে ভ্যাটের স্লাব কমিয়ে এক জায়গায় করার জন্য এনবিআরকে আবারও চিঠি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। খুচরা বাজারে দামের বৈষম্য কমাতে তেলের প্যাকেজিং ও বোতলজাতকরণে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা