kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

অ্যান্টিবডি টেস্ট সবার জন্য নয়

তৌফিক মারুফ    

২৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অ্যান্টিবডি টেস্ট সবার জন্য নয়

দেশে বুধবার থেকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরুর পর বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশ্ন বা কৌতূহল বাড়ছে অ্যান্টিবডি টেস্ট নিয়ে। টিকা দেওয়ার আগে বা পরে কেউ চাইলে এই টেস্ট করাতে পারবে কি না, পারলে কোথায় কিভাবে তা করবে, খরচ কত পড়বে কিংবা আদৌ অ্যান্টিবডি টেস্টের দরকার আছে কি না—এমন আরো অনেক বিষয় সামনে চলে এসেছে।

এসব প্রশ্নে কিছুটা ধোঁয়াশা যুক্ত হয়েছে গত ২৪ জানুয়ারি সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের বক্তব্যে। তিনি ওই দিন দেশে অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, এখনো বাস্তবে সাধারণভাবে অ্যান্টিবডি টেস্ট চালু হয়নি। দু-তিন দিনের মধ্যে একটি বৈঠক হবে, এর পরই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন পর্যন্ত গত বছরে অ্যান্টিবডি টেস্ট নিয়ে যে গাইডলাইন তৈরি হয়েছিল, সে অনুসারেই শুধু সেরোসার্ভেইল্যান্সের (গবেষণার জন্য পর্যবেক্ষণ) আওতায় অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমতি আছে। আইইডিসিআরসহ আরো একাধিক প্রতিষ্ঠানে শুধু গবেষণার জন্য ব্যবহার করা যাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যেকোনো হাসপাতালে বা যে কেউ চাইলেই অ্যান্টিবডি টেস্ট করাতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘অনেক হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অ্যান্টিবডি টেস্ট চালুর আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু আমরা কোনো সিদ্ধান্ত দিইনি। দু-তিন দিনের মধ্যেই টেকনিক্যাল কমিটির একটি বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে গত বছর যে গাইডলাইন তৈরি হয়েছে, তার আলোকেই কিভাবে অ্যান্টিবডি টেস্টের ব্যবস্থাপনা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এর পরই শুধু পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি ওই কমিটি সিদ্ধান্ত দেয় সব হাসপাতালে অ্যান্টিবডি টেস্ট হবে, তখন সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এ ছাড়া অ্যান্টিবডি টেস্টের কিট আমদানি ও অনুমোদনের বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরেরও দায়িত্ব রয়েছে। কোন কিট ব্যবহার করা যাবে বা যাবে না সেটা তারা ঠিক করবে। আগের নীতিমালা অনুসারেই কিটের কার্যকারিতা দেখা হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শক ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ব্যক্তিপর্যায়ে অ্যান্টিবডি টেস্টের এখনো অনুমোদন নেই। আর এটা করারও যুক্তি নেই। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে অ্যান্টিবডি টেস্টের ক্ষেত্রে কিছু বিভ্রান্তিও থাকে। কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল সেটা যেমন একটি সমস্যা তৈরি করতে পারে, আবার সবার শরীরে যেহেতু সমান অ্যান্টিবডি থাকে না, ফলে সে ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ক্ষেত্রে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে সেটা খুবই সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া উচিত।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নতুন কোনো নির্দেশনার ব্যাপারে আমাদের জানা নেই। আমরা এখনো জানি, সেরোসার্ভেইল্যান্স ছাড়া অ্যান্টিবডি টেস্টের কোনো অনুমোদন নেই। গবেষণার বাইরে এখনো কোনো সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিবডি টেস্ট করা যাবে না।’

এই বিজ্ঞানী পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কেন অ্যান্টিবডি টেস্ট করতে হবে? মানুষের মাথায় কেনই বা বিষয়টি আমরা ঢুকিয়ে দিচ্ছি? সাধারণ মানুষ এটা জেনে কী করবে—কার শরীরে অ্যান্টিবডি কী পরিমাণ আছে না আছে; সেটা জানার দরকার থাকলে চিকিৎসকরা বা গবেষকরা জানবেন।’ তবে সেই সঙ্গে ড. আলমগীর বলেন, টিকা দেওয়ার আগে অ্যান্টিবডি টেস্টের কোনোই প্রয়োজন নেই। টিকা দেওয়ার পরে গবেষকরা কিংবা যাঁরা পর্যবেক্ষণে থাকবেন, তাঁরা যদি মনে করেন তবে প্রথম ডোজ দেওয়ার দু-তিন সপ্তাহ পরে এক দফা এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার দু-তিন সপ্তাহ পরে আরেক দফা অ্যান্টিবডি টেস্ট করতে পারেন।

বাংলাদেশে চালু করা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার কার্যকারিতার মেয়াদ বিষয়ে তিনি বলেন, টিকার সঙ্গে থাকা কাগজেই পরিষ্কারভাবে লেখা আছে, এই টিকা দেওয়ার পরে কত দিন মানুষের শরীরে কার্যকর থাকবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। ফলে এটি নিশ্চিত করে বলা যাবে না। এ ছাড়া যাদের করোনা হয়েছে, তাদের টিকা দিতেও বাধা নেই। ফলে তাদের আগে অ্যান্টিবডি টেস্ট করার কোনো গুরুত্ব নেই।  ড. মুশতাক হোসেন বলেন, যাদের করোনা হয়েছে, তারা টিকা থেকে বাদ যাবে না, শুধু আগে যাদের করোনা হয়নি, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের নতুন কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। তাই গবেষণার বাইরে কোথাও অ্যান্টিবডি টেস্ট করা যাবে না। ফলে এই টেস্টের কোনো ফি নির্ধারণেরও প্রশ্ন আসে না। যদি কখনো সরকারি-বেসরকারি  সব প্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যিকভাবে টেস্ট চালু হয়, তখন প্রয়োজনে ফি নির্ধারণ করার বিষয়টি দেখা যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা