kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

আলোচনায় নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন

বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িকতা ভারতসহ সবার শিক্ষণীয়

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:১১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িকতা ভারতসহ সবার শিক্ষণীয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাম্প্রদায়িকতা বর্তমান ভারতসহ সবার জন্য শিক্ষণীয় বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাতে লন্ডনে স্কুল অব ইকনোমিকসে (এলএসই) আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এলএসই অধ্যাপক অমর্ত্য সেন বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন চমৎকার মানুষ। এর পাশাপাশি তিনি একজন মহান নেতাও ছিলেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তাঁর আদর্শ কেউ ছিনিয়ে নিতে পারেনি।’

অমর্ত্য সেন বলেন, আদর্শিক দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া এখন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে আছে। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িকতা ভারতসহ সবাই শিখতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশও নানা চড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে বঙ্গবন্ধু দেখিয়ে গিয়েছিলেন যে তিনি কী ধরনের বাংলাদেশ চেয়েছিলেন।

অমর্ত্য সেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় বিভাজনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রেও এক ধরনের অসাম্প্রদায়িকতা আছে। কিন্তু লোকজনের মনে ঈশ্বর ও খ্রিস্টধর্ম বেশ জোরালো। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ ছিল সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা।

অমর্ত্য সেন বলেন, ভারতের বিভিন্ন স্থানে যেমন গরুর মাংসের বিষয়ে ধর্মীয় স্পর্শকাতরতা আছে। কোথাও কোথাও আন্তর্ধর্মীয় বিশ্বাসীদের মধ্যে বিয়ের ব্যাপারেও বিধিনিষেধ আছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেননি। এটি বিশ্বে দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধু শুধু বঙ্গবন্ধুই ছিলেন না, বিশ্ববন্ধুও ছিলেন।

অধ্যাপক অমর্ত্য সেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করলে শ্রীলঙ্কা গৃহযুদ্ধ ও রক্তপাত এড়াতে পারত। বঙ্গবন্ধু যে ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ ধারণ করতেন তা বিশ্বকে বদলে দিয়েছে।

আলোচনায় যুক্ত হয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্ম বিশ্বাসকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আরেকটি আদর্শ ছিল সমাজতন্ত্র, যা বর্তমান বিশ্বে প্রায় অনুপস্থিত। বঙ্গবন্ধু ট্রেনে তৃতীয় শ্রেণির কামরায় কৃষকদের সঙ্গে চড়তেন। তিনি তাঁদের বুঝতে পারতেন। আলোচনার শুরুতে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা