kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

ডা. শাহাদাত হোসেন: বিএনপি প্রার্থী

সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কিত ভোটাররা

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:৪২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কিত ভোটাররা

কালের কণ্ঠ : আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ভোট, সামগ্রিক প্রচারণায় আপনি কেমন সাড়া পেলেন?

ডা. শাহাদাত হোসেন : চট্টগ্রাম নগরীর পুরো এলাকায় আমরা গণসংযোগ করেছি। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, মানুষের চোখের ভাষায় বোঝা যায় তারা ভোট দেওয়ার জন্য উম্মুখ হয়ে আছে। সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়ায় আমি অভিভূত। আমার একেকটি গণসংযোগ পরিণত হয় গণমিছিলে। প্রতিটি এলাকায় ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। জনগণ ভোট দিতে প্রস্তুত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—নির্বাচন কমিশন কিভাবে নির্বাচনকে হ্যান্ডেল করছে। আমরা একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনকে বারবার অনুরোধ করে আসছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ধানের শীষের জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

কালের কণ্ঠ : নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্য ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আপনার মত কী?

ডা. শাহাদাত হোসেন : নির্বাচন কমিশনের অসহযোগিতা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতি উৎসাহী কিছু সদস্যের কারণে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্ন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে পুলিশ যে ভূমিকা পালন করেছে তাতে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। কাজেই তাদের আস্থাহীনতার জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সেই পরিবেশ তাদেরকেই তৈরি করতে হবে। সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনের আবহ তৈরি করতে হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য পুরোপুরি ঠিক না। কারণ নির্বাচন নিয়ে পুলিশের উৎসাহী সদস্যদের বিষয়ে কমিশনে অভিযোগ করেও সুষ্ঠু সমাধান পাইনি। বৈধ অস্ত্রগুলো জমা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করার দাবি কার্যকর করেনি প্রশাসন। অতীতে যারা কেন্দ্রভিত্তিক সন্ত্রাস করেছে এবারও সেটা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। প্রতি রাতে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে, নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করছে। বিষয়গুলো কমিশনে জানানোর পরও কোনো সুরাহা হয়নি। এই অবস্থায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে আমি শঙ্কিত।

কালের কণ্ঠ : নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

ডা. শাহাদাত হোসেন : ভোটারদের কেন্দ্রে আনার ব্যাপারে তাদেরই দায়িত্বটা নিতে হবে। কিন্তু তারা সে দায়িত্ব পালন করছে না। ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে যেতে না পারে এবং কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বেশি না হতে পারে সে জন্য পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়নি।

কালের কণ্ঠ : প্রচার-প্রচারণা শেষ, নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রস্তুতি কেমন, কোনো ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে কি?

ডা. শাহাদাত হোসেন : আমরা আমাদের কৌশল নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছি। এত বড় একটি শহর, যত পরিকল্পনা করুন না কেন কোথাও না কোথাও কিছু অসংগতি থেকেই যায়। আমরা নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে, পাড়া-মহল্লার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণায় নিরন্তর কাজ করেছেন।

কালের কণ্ঠ : বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অন্য শরিক দলের নেতাদের আপনার প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না কেন?

ডা. শাহাদাত হোসেন :  বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নেতাকর্মীরা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। যেহেতু চসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ এটা একান্তই দলীয় সিদ্ধান্ত, তাই অন্য শরিক দলগুলো তাদের নিজস্ব স্ট্র্যাটেজিতে কাজ করছে। একেবারে যে মাঠে নেই তা বলা যাবে না।

কালের কণ্ঠ : আপনি কি মনে করেন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন প্রয়োজন?

ডা. শাহাদাত হোসেন : নির্বাচনে  সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। জনগণ ভোট দিতে পারবে। নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা নিজেরা বিভিন্ন স্থানে হাঙ্গামায় জড়িয়ে পড়ছেন। আমাদের প্রচারণায় কর্মী-সমর্থকদের ওপরও হামলা করছেন। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীদের কারণে এক ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর ও নির্বিঘ্ন করতে  কমিশন সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাবকে আমন্ত্রণ জানালে ভালো হয়।

কালের কণ্ঠ : নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী।

ডা. শাহাদাত হোসেন : নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ধানের শীষের জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

কালের কণ্ঠ : শেষ পর্যন্ত কি মাঠে থাকবেন?

ডা. শাহাদাত হোসেন : আমি নির্বাচন করার জন্যই নির্বাচন করছি। শেষ পর্যন্ত মাঠেই থাকব। আওয়ামী লীগ নিজেদের অন্তঃকোন্দল চাপা দিতে আমাদের প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। প্রচারকর্মীদের মারধর ও প্রচার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের লাঞ্ছিত করেছে। তারা পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে। আমার গাড়ি ভেঙেছে। এত কিছুর পরও আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠ ছেড়ে যাননি। আমরা ভোটের দিন শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব।

কালের কণ্ঠ : যদি নির্বাচিত হন তাহলে কোন বিষয়টিকে আপনি অগ্রাধিকার দেবেন?

ডা. শাহাদাত হোসেন : জলাবদ্ধতা হচ্ছে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এ সমস্যা নিরসন করতে হবে। নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে পর্যটন ও ব্যবসাবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাব। করোনা ও ক্যান্সার চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তুলব। চট্টগ্রামকে একটি স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা