kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ৯ মার্চ ২০২১। ২৪ রজব ১৪৪২

‘বিএনপি সবচেয়ে বড় স্বাধীনতাবিরোধী’

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:২২ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



‘বিএনপি সবচেয়ে বড় স্বাধীনতাবিরোধী’

ফাইল ফটো

বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারী হচ্ছে জিয়াউর রহমান, আর তার হাতে তৈরি দল বিএনপি সবচেয়ে বড় স্বাধীনতাবিরোধী। যারা বঙ্গবন্ধুর খুনী, যুদ্ধাপরাধী, একাত্তরের গণহত্যাকারীদের সঙ্গে দল করে, জোট করে, মন্ত্রী বানিয়ে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া তারা কখনোই স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি হতে পারে না। বিএনপির উচিত জাতির কাছে ক্ষমতা চেয়ে সুস্থ্য রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসা।

সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা এসব কথা বলেন। প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা ক্ষমতাসীন দলকে আওয়ামী লীগকে ‘স্বাধীনতার বিপক্ষ’ শক্তি বলায় সংসদ অধিবেশনে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। এরআগে জনমনে সংশয় দুর করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদের সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের একদিনে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু।

আলোচনাকালে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংসদ সদস্যরা একদিনে ভ্যাকসিন নিলে কারো মধ্যে আর বিভ্রান্তি থাকবে না। অর্থখাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা নিয়ে কথা এসেছে। পিকে হালদার সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা মেরে দিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক করে কী? হলমার্ক শত শত কোটি টাকা পাচার করেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কী এসব দেখে না? তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ আসে শুধু রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে। কানাডার বেগম পাড়ায় ২৮টি বাড়ির মধ্যে ২৪টি বাড়িই হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের। আমলারা কী সবকিছুর উর্ধ্বে? কোন কর্মকর্তার ছেলে-মেয়ে বিদেশে পড়ে না? তিনি অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সংরক্ষিত আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের সকল ব্যর্থতাকে ছাড়িয়ে গেছে করোনাকালীন ব্যর্থতা। শুরু থেকে করোনা পরীক্ষা, মাস্ক, পিপিই, হাসপাতাল শয্যা, অক্সিজেন সরবরাহ, আইসিইউ, প্রণোদনাসহ সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনা এই কঠিন সময়কে কঠিনতর করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, পৃথিবীতে একমাত্র দেশ বাংলাদেশ যেখানে নকল করোনা সার্টিফিকেট বিক্রি হয়েছে। এই সবকিছুর পরে এখন যুক্ত হয়েছে করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে ব্যবসা। সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি না করে বেক্সিমকোর সঙ্গে চুক্তি করার কারণে বাংলাদেশকে ভারতের তুলনায় ৪৭ ভাগ বেশি দামে করোনা টিকা কিনতে হচ্ছে। তাতে ৩২৫ কোটি টাকা যাবে কোম্পানির পকেটে। তিনি দাবী করেন, মিথ্যা হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনকে কারাগারে পাঠানো, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনকে দেশে ফিরতে না দেওয়া এবং দলের মহাসচিবকে দফায় দফায় জেলে পাঠানো সবকিছুই হয়েছে বিএনপিকে ধ্বংস করে ফেলার উদ্দেশ্যে।

বিএনপির এই সংসদ সদস্যদের এসব অভিযোগের কড়া জবাব দেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারী হচ্ছে জেনারেল জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি কে? সেটি তো আপনারাই (বিএনপি)। যারা বঙ্গবন্ধুর খুনী, স্বাধীনতাবিরাধী, একাত্তরের গণহত্যাকারীদের নিয়ে জোট করে, মন্ত্রী করে তাদের গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়- তারা কী স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি? তিনি বলেন, তাঁরা (বিএনপির এমপি) আইএমএফসহ কতকগুলো ডাটা দেন এবং বিভিন্ন সংগঠনের কথা বলেন। এসব ভুঁইফোড় সংগঠন যেমন বাংলাদেশে আছে, তেমনি সারা পৃথিবীতে আছে। এদের ফান্ড করলে তারা যে কোন রিপোর্ট আপনাকে তৈরি করে দেবে।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, সুযোগ পেলেই তারা নির্বাচন নিয়ে কথা বলে! নির্বাচন করেন না কিন্তু সংসদে ঠিকই এসে বসেন, নির্বাচনের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এতোই যদি নির্বাচন খারাপ হয়ে থাকে তবে এমপি হিসেবে কেন সুযোগ-সুবিধাগুলো নিচ্ছেন? কেন ১০ কাঠা জমির আবেদন করেছিলেন? জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ-না ভোটের নির্বাচন? ১১০ ভাগ হ্যাঁ ভোট, না ভোট একটিও পড়েনি। ওই নির্বাচন আপনারা চান? এমন নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণ হতে দেবে না। তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান কত হাজার মুক্তিযোদ্ধকে হত্যা করেছে, আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর কত অফিসারকে কোর্ট মার্শাল দিয়ে হত্যা করেছে, অপরারেশন ক্লিনহার্ট করে কত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে হত্যা ও নির্বাচন ঠেকানোর নামে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম বলেন, যাদের (বিএনপি) কিছু ভাল লাগে না, তারা বলেন সরকার ভ্যাকসিন আনতে পারবে না। এখন টিকা আসার পর বলছে, এগুলো কী ভালো? আসলে সরকারের কোন ভাল কাজই তাদের চোখে পড়ে না। এমন নজীর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সৃষ্টি করেছেন- কেউ কোনদিন দেখেনি, বিশ্বের কেউ করতে পারেনি। ভূমিহীন-গৃহহীনদের ৭০ হাজার পাকা ঘর করে দিয়েছেন, আরও এক লাখ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি শিল্প সম্প্রদায়কে ভ্যাকসিনে অগ্রাধিকার প্রদানের দাবি জানান।

সরকারি দলের সাইমুন সরওয়ার কমল বলেন, মিথ্যা কথা বলতে বলতে বিএনপি এখন করোনা রোগী হয়ে গেছে। তাই বিএনপি নেতাদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত। বিএনপি বিশ্বের সেরা মিথ্যাবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে তার প্রমাণ, একাত্তরের পরাজিত রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমরান খান নিজেই বলেছেন- ইউরোপ-আমেরিকা থেকে নয়, উন্নয়ন করতে হলে বাংলাদেশ থেকে শিখতে হবে।

জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রস্তাব রেখে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটসহ অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্র থেমে নেই, তারা সুযোগ পেলেই ছোবল দিতে পারে। তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবেই সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, অনেকে অনেক কথা বলেন, কিন্তু কখনও শুনি না ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের কথা। তবে কীভাবে চার মূলনীতি বাস্তবায়ন হবে বুঝি না। দেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে, অনেক দূর এগিয়েছে। তবে ক্ষমতা এককেন্দ্রিক হওয়ায় ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট বেড়েছে।

সরকারী দলের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় বলেন, করোনায় মানব সভ্যতা গভীর সঙ্কটে। এ সময়ে দেশের মানুষের একমাত্র আশার বাতিঘরই হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একসঙ্গে ৭০ হাজার পরিবারকে বিনামূল্য জমিসহ বাড়ি নির্মাণ করে দিয়ে বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এটাও প্রধানমন্ত্রীর কালজয়ী মানবতার আরেক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এই আলোচনায় আরো অংশ নেন সরকারি দলের মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী, আহসানুল হক টিটু, বেগম হোসনে আরা ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পনির উদ্দিন আহমেদ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা