kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন আবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি জালিয়াতি

হাইকোর্টে রায় ১১ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন আবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি জালিয়াতি

বহুল আলোচিত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কুয়েতে কারাবন্দী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ের জামিন আবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি জালিয়াতির ঘটনায় আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি রায় দেবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি জালিয়াতির অভিযোগের ঘটনা তদন্ত চাইলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রপক্ষ এবং জামিন আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, নথি জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এরসঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা তদন্ত হওয়া দরকার।

পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, তার মেয়ে ওয়াফা ইসলামের জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকালে দাখিল করা এক নথির পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা সুয়োমোটো রুলের ওপর শুনানিকালে এ আদেশ দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। জামিন আবেদনকারীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ। বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক মো. আরেফিন আহসান মিঞার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন তানভীর পারভেজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

পাপুল, তার স্ত্রী, কন্যা ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের মামলায় দাখিল করা ওই জামিন আবেদনের সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক মো. আরেফিন আহসান স্বাক্ষরিত একটি নথি দাখিল করা হয়। ওই জামিন আবেদনে বলা হয়, এই নথি এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে তারা পেয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা আরেফিন আহসানআদালতকে জানান, তিনি এ জাতীয় কোনো কিছু লেখেননি। এরপর এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে লিখিতভাবে হাইকোর্টকে জানানো হয়, তারা এ ধরনের কোনো নথি দেয়নি। এ অবস্থায় হাইকোর্টের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী গতকাল এ সংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করে আদালতে বলেন, জামিন আবেদনে দেওয়া নথির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নথির মিল নেই। জামিন আবেদনে যা দাখিল করা হয়েছে তা জালিয়াতি হয়েছে। এর সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তার তদন্ত হওয়া দরকার।

শুনানিতে জামিন আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, ওই নথি জালিয়াতি যদি হয়ে থাকে তবে এর সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা তদন্ত হওয়া দরকার। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এবিষয়ে তদন্ত চাওয়া হয়।

দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার অর্থ পাচারের অভিযোগে শহিদ ইসলাম পাপুল ও তার স্ত্রী, কন্যা ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে গতবছর ১১ নভেম্বর মামলা করে দুদক। এ মামলায় গতবছর ২৬ নভেম্বর তারা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। তবে পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। এই শুনানিতে নথি জালিয়াতির অভিযোগ আদালতের সামনে আসে।

গতবছর ৬ জুন কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) শহিদ ইসলাম পাপুলকে কুয়েতে গ্রেপ্তার করে। কুয়েত সিআইডি তার বিরুদ্ধে সেখানে মানবপাচার ও অর্থপাচারের মামলা করেছে। এখন পাপুল কুয়েতে কারাবন্দী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা