kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

কোরআন অবমাননার অভিযোগে পুড়িয়ে হত্যা, চারজনের জামিন আবেদন খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:১২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কোরআন অবমাননার অভিযোগে পুড়িয়ে হত্যা, চারজনের জামিন আবেদন খারিজ

পবিত্র আল কোরআন অবমাননার অভিযোগে লালমনিরহাটের বুড়িমারী উপজেলার শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চার আসামির জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। যাদের আবেদন খারিজ করা হয়েছে তারা হলেন- মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. বাইজিদ বোস্তামি, মো. আবদুর রহিম ও মো. হেলাল উদ্দিন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

নিহত শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। গত বছর চাকরিচ্যুত হওয়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শহিদুন্নবী জুয়েল গত বছরের ২৯ অক্টোবর বিকেলে সুলতান রুবায়াত সুমন নামে এক সঙ্গীসহ বুড়িমারী বেড়াতে যান। বিকেলে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করেন তারা। নামাজ শেষে মসজিদের সানসেট থেকে আল কোরআন নামাতে গিয়ে কয়েকটি কোরআন ও হাদিসের বই পড়ে যায়। এ নিয়ে তার সঙ্গে মসজিদের মুয়াজ্জিনের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুলতান রুবায়াত সুমনকে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। সন্ধ্যায় পুরো বাজারে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, কোরআন অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় উত্তেজিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে প্রশাসনের কাছ থেকে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ টেনে পাটগ্রাম বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

এ ঘটনায় জাতীয় মানবধিকার কমিশনের তদন্তদল গত বছরের ১ নভেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানায়, মসজিদে কোরআন অবমাননার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও কোরআন অবমাননার সত্যতা পায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা