kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

মহামারিকালেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল: সরকারি দল

দলীয় এমপিদের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ জাতীয় পার্টির ফিরোজ রশীদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:২৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহামারিকালেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল: সরকারি দল

ফাইল ফটো

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে করোনা মহামারিকালেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল ও চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে বলে মনে করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তারা এমনটি দাবি করেন। এই আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ দলীয় সদস্যদের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  

রবিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় অংশ নেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সরকারি দলের এ কে এম শাহজাহান কামাল ও দীপংকর তালুকদার এবং জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ। এরআগে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর টেবিলে উপস্থাপন এবং ৭১ বিধির নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ২০৪১ সালের মধ্যে দেশ বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশে পরিণত হবে। এজন্য তাঁর নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, গত এক যুগে শিল্প খাতের ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিশেষ করে এসএমই খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে সহায়তার মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা হয়েছে। নতুন নতুন অর্থনৈতিক এলাকা তৈরি করায় বিদেশি বিনিয়োগ অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক মহামারি সফলভাবে মোকাবেলা করে দেশ যে আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। গত এক যুগে দেশে আবাসন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। এছাড়া পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলি বঙ্গবন্ধু ট্যানেলসহ ২৪টি মেগা প্রকল্প সাফল্যের সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলে দেশের অর্থনীতি বদলে যাবে।

বিরোধী দলীয় সদস্যের ক্ষোভ ॥ সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যের শুরুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সব দলের সদস্যরা আছেন। জোট করে নির্বাচন করেছি। বিরোধী দলে বসেছি, এটা হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমাদের কারো কারো বক্তব্যে বোঝা যায় না কোন দলের সদস্য। কোনো কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির নাম উচ্চারণ করেনি, এরশাদের নাম উল্লেখ করেন নাই। অথচ দল থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছি। কিন্তু নমিনেশন দিয়েছিল আমাদের দল। দলীয় ফোরামে এটা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের উন্নয়নের পিছনের জাতীয় পার্টির ‘ভূমিকা আছে’ দাবি করে ফিরোজ রশীদ বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো নেতা একবারও জাতীয় পার্টির কথা বলে না। ২০১৪ সালে যে ধ্বংসযজ্ঞ ছিল, সে নির্বাচনে জাতীয় পার্টি না এলে নির্বাচন হত না। সরকার, সংবিধান, সংসদ কিছুই থাকত না। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেই জাতীয় পার্টি নির্বাচনে এসেছিলো।

প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন, অথচ টাকা ‘লুটপাট’ হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় সদস্য বলেন, ব্যাংক খাতে লুটপাট চলছে। লিজিং কোম্পানির হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। টাকা  চলে গেছে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে। তিনি আরো বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা চলে গেল। বাংলাদেশ ব্যাংকের অসাধু কর্মকতরা জড়িত। তারা কেন খবর রাখেনি। সবকিছু অটোমেশন এখন। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বন্ধেরও দাবি উত্থাপন করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে কিছু সংগঠন আছে। একটি সংগঠন আছে ‘নাস্তিক নির্মূল কমিটি’। আরেকটি সংগঠন হচ্ছে ‘ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’। এই নির্মূল করার ক্ষমতা এদের কে দিয়েছে? আমি জানতে চাই। তুমি কে নির্মূল করার? আমার দেশে কোর্ট-কাচারি আছে না? অনেক বিচার করেছে এই সরকার। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হচ্ছে, রাজকারদের বিচার হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, তুমি কেন? আমি মনে করি যে এদেরকেই প্রতিরোধ করার দরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, এই সমস্ত সংগঠন গুলো বন্ধ করুন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে চতুর্থ দিনের মতো আলোচনা হয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেন। গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সরকারি দলের সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ এ প্রস্তাব সমর্থন করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা