kalerkantho

রবিবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৫ রজব ১৪৪২

কারাগারে বন্দির নারীসঙ্গ : সিনিয়র জেল সুপার ও জেলার প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১৪:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কারাগারে বন্দির নারীসঙ্গ : সিনিয়র জেল সুপার ও জেলার প্রত্যাহার

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ এ এক তরুণীর সঙ্গে হলমার্কের বন্দি তুষার আহমেদের একান্ত সময় কাটানোর ঘটনায় সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার নুর মোহাম্মদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদেরকে প্রত্যাহার করে কারা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন।  তিনি জানান, কারাগারে নারীর সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির সময় কাটানোর ঘটনায় সিনিয়র জেল সুপার, জেলারসহ মোট পাঁচজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে তিনজন ও আজ দুজনকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে যে তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয় তাঁরা হলেন- ডেপুটি জেল সুপার মোহাম্মদ সাকলাইন, সার্জেন্ট আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী খলিলুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত ৬ জানুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-১-এর বন্দি হলমার্ক কেলেঙ্কারির হোতা তানভীরের ভায়রা কম্পানির জিএম তুষারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এক নারী। ডেপুটি জেলার সাকলাইন সাক্ষাতের অনুমতির জন্য ১২টা ২২ মিনিটে সুপারের রুমে প্রবেশ করেন। সুপারের রুম থেকে অনুমতি নিয়ে ১২টা ৪০ মিনিটে বের হন সাকলাইন। ১২টা ৫৬ মিনিটে ওই নারী কারাগারে প্রবেশ করেন। 

ডেপুটি জেলার সাকলাইন ১২টা ৫৭ মিনিটে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে ১টা ৪ মিনিটে তুষারকে সঙ্গে নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে একটি কক্ষে নেন। ১টা ১৫ মিনিটে জেল সুপার কারাগার থেকে বের হয়ে যান। এরপর তুষার একটি কক্ষে প্রায় ৪৬ মিনিট সময় কাটায় ওই নারীর সঙ্গে। সম্প্রতি ওই ঘটনা নিয়ে সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল হয়। এর পরই শুরু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ। 

দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম কেলেঙ্কারি হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদের ভায়রা ও হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমদকে গত ৬ জানুয়ারি কারা কর্মকর্তাদের কক্ষে নারীসঙ্গের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসেনকে প্রধান করে উপসচিব (সুরক্ষা বিভাগ) আবু সাঈদ মোল্লাহ ও ডিআইজি (ময়মনসিংহ বিভাগ) জাহাঙ্গীর কবিরকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। 

এ ছাড়া একই ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) আবুল কালামকে প্রধান করে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা ও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা