kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

কত দূর যেতে পারবেন জো বাইডেন

আবদুল মান্নান   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:৫২ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



কত দূর যেতে পারবেন জো বাইডেন

বিশ্বের মুরব্বি বলে খ্যাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম  প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০ জানুয়ারি শপথ নিলেন ৭৮ বছর বয়স্ক জো বাইডেন। সঙ্গে তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, যাঁর মা ভারতীয় ও বাবা ক্যারিবিয়ান। বাইডেন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। রোনাল্ড রিগান যখন প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৬৯। বাইডেন তাঁকে টপকে গেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, পরবর্তীকালের ঘটনাবলি, শপথ গ্রহণ দিনের প্রস্তুতি—সব কিছু সেই দেশের ইতিহাসে একাধিক নানা তর্ক-বিতর্ক জন্ম দিয়ে স্মরণ করার মতো বিষয় হয়ে থাকবে। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, তিনি হারতে পারেন না আর যদি তিনি না জিতেন, তাহলে তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন না। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো শালীনতা বোধ ছিল না। তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী জো বাইডেনকে সব সময় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলতেন। বাইডেন দীর্ঘদিন ধরে সিনেটর ছিলেন, পরবর্তীকালে বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। কমলা হ্যারিস একজন তুখোড় আইনজীবী থেকে সিনেটর হয়েছিলেন। তাঁর মা-বাবা দুজনই উচ্চশিক্ষিত ও মার্জিত। সেই তুলনায় ট্রাম্পের কোনো রাজনৈতিক অতীত ছিল না। তিনি একজন ব্যবসায়ী। অভিবাসী পিতামহ ছিলেন পতিতার দালাল।  ১৯৯১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ট্রাম্পের মালিকানাধীন পাঁচটি হোটেল ও ক্যাসিনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছিল। বাংলাদেশ থেকে ট্রাম্পের কম্পানি বিপুল পরিমাণের তৈরি পোশাক আমদানি করে। অন্য ১০ জন মার্কিনের মতো তিনিও একজন অভিবাসীর সন্তান ছিলেন। ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ২০০৬ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পান। ছিলেন মডেল। 

২০১৬ সালে যখন ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সাবেক ফার্স্ট লেডি ও বারাক ওবামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তখন মানুষ প্রথম তাঁর নামের সঙ্গে পরিচিত হয়। সবার ধারণা ছিল হিলারি বুঝি জিতে যাবেন। হিলারি ট্রাম্পের চেয়ে ৩০ লাখ বেশি সাধারণ ভোটারের সমর্থন পেয়েও ট্রাম্পের কাছে হেরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জটিল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কারণে। শুরুতে একজন অজানা ট্রাম্প কেমন প্রেসিডেন্ট হবেন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সে প্রশ্ন ছিল অনেকের। তবে ট্রাম্প যখন তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা করছিলেন, তখন বোঝা গিয়েছিল নির্বাচনে বিজয়ী হলে কেমন প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি। বোঝা গিয়েছিল চারিত্রিকভাবে তিনি ছিলেন মারাত্মক একরোখা এবং নিজেকে ছাড়া অন্যকে তেমন একটা গুরুত্ব দিতেন না। তাঁর নৈতিকতা ছিল একেবারেই অনুল্লেখ্য। দেহব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর যে সম্পর্ক ছিল, তা তিনি কখনো গোপন করেননি। দেশ ও সরকার কিভাবে পরিচালিত হয় সে সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান একজন হাই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সমপর্যায়েরও ছিল না। ট্রাম্পের কথাবার্তায় সব সময় মনে হতো তিনি কোনো গণতান্ত্রিক দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য লড়াই করছেন না, করছেন একজন স্বৈরাচার হওয়ার জন্য। তিনি যখন দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘আমেরিকা হবে আমেরিকাবাসীর জন্য’, তখন বস্তুতপক্ষে তিনি ঘোষণা করেছেন আমেরিকা হবে সাদাদের, অন্যরা, যেমন—কালো, হিসপানিক, এশীয়,  চীনা, মেক্সিকান প্রভৃতি দেশ বা অঞ্চলের মানুষের জায়গা যুক্তরাষ্ট্র নয়। ঘোষণা করেছিলেন বিশ্বায়নের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব কর্মকাণ্ড দেশের বাইরে চলে গেছে তা তিনি আবার দেশে ফিরিয়ে আনবেন, যা বাস্তবে তেমন একটা সম্ভব নয়।

আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সি নিয়ে লিখে রিচার্ড নিউস্টাডাট বেশ যশ ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, হোয়াইট হাউস কোনো আনাড়ির জায়গা নয়। চার বছর মেয়াদকালে ট্রাম্প তাঁর পদের মর্যাদা কখনো বুঝতে পারেননি। আচরণ করেছেন একজন নিম্নমানের আনাড়ির মতো। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মিডিয়া হিসাব করে দেখিয়েছে, ট্রাম্প গত চার বছরে গড়ে প্রতিদিন ২১টি মিথ্যা কথা বলেছেন। বিশ্লেষকরা বলেছেন, অজ্ঞতা ছিল ট্রাম্পের বৈশিষ্ট্য আর নিজ দেশের সংবিধান বা ইতিহাস সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না। তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে তিনি তাঁর একান্ত বশংবদ ফক্স টিভির সংবাদ ও তথ্যের বাইরেও যে একটি বাস্তব জগৎ আছে, তা বিশ্বাস করতে অস্বীকার করেছিলেন। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে প্রশাসনের কেউ যুক্তি দিয়ে কথা বললে বা দ্বিমত করলে তিনি তাঁকে তাৎক্ষণিক ছাঁটাই করতে দ্বিধা করতেন না। এর ফলে শেষের দিকে ট্রাম্পের প্রশাসন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বর্ণবাদীদের ঈশ্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল, তিনি নিজের স্বার্থকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। ট্রাম্প যুগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই দেশের শিল্প-কারখানা। এর অন্যতম কারণ চীনের সঙ্গে সৃষ্ট বাণিজ্যযুদ্ধ (ট্রেড ওয়ার)। চীন থেকে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর তিনি বাড়িয়ে দিলেন শুল্ক ও নানা ধরনের কর। এর প্রভাব পড়ল যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তুত বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ের ওপর, যার ফলে এসব পণ্যের চাহিদা কমে গেল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে। শেষের দিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই দেশের গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এর ফলে বেকারত্ব বেড়ে গেল জ্যামিতিক হারে। এটি বেশি হয়েছে ট্রাম্পের করোনা অতিমারিকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে। তিনি তখন এতই বেপরোয়া যে একজন প্রেসিডেন্ট হয়েও তিনি বলছেন, এই অতিমারি চীনের সৃষ্টি, তাদের দেশকে কোনো ক্ষতি করবে না, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। নিজের দেশের বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন পরামর্শ দিল অতিমারি থেকে সুরক্ষার জন্য মাস্ক পরতে, ট্রাম্প সবাইকে অবাক করে দিয়ে নির্দেশ দিলেন কোনো সরকারি ভবনে মাস্ক পরা যাবে না। এটা নাকি সন্ত্রাসীরা পরে। ফলে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে এই পর্যন্ত চার লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনার কারণে। ধারণা করা হচ্ছে, আরো এক লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রত্যাহার করে নিতে নির্দেশ জারি করলেন। 

শেষ পর্যন্ত নভেম্বরের নির্বাচনে বিনয়ী জো বাইডেন ও তাঁর রানিং মেট কমলা হ্যারিস ট্রাম্পকে হারিয়ে দিলেন। ট্রাম্প বললেন, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। আসল বিজয়ী তিনি। মানেন না তিনি এই নির্বাচনী ফল। ছাড়বেন না ক্ষমতা। উসকে দিলেন তাঁর বর্ণবাদী গুণ্ডাদের। তারা রাস্তায় বের হলো আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে। আমাদের দেশের যেসব রথী-মহারথী সুযোগ পেলেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছুটে যান ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই’ বলে নালিশ করতে, তাঁরা এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত নিশ্চুপ। গত ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে (বলা যেতে পারে সে দেশের সংসদ ভবন) যখন নির্বাচনী ফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা চলছিল, তখন ঘটে গেল সেই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা। ফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতার সভায় পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করছিলেন ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। কাছেই হোয়াইট হাউস। তার কাছেই একটি পার্কে ট্রাম্পের আমন্ত্রণে জড়ো হয়েছিল  তাঁর কয়েক হাজার উগ্র বর্ণবাদী সমর্থক। ট্রাম্প কোনো রাখঢাক না করেই বললেন, ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে তাঁর বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার সব আয়োজন চলছে। সমর্থকদের আহ্বান জানালেন তারা যেন কালবিলম্ব না করে সেখানে অভিযান চালায়। তিনিও তাদের সঙ্গে থাকবেন। হ্যাঁ, এটি ঘটেছিল গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী যুক্তরাষ্ট্রে। পরবর্তী দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। হাজার হাজার ট্রাম্প সমর্থক, অনেকে সশস্ত্র অবস্থায় ঝাঁপিয়ে পড়ল ক্যাপিটল ভবনে। নিরাপত্তাকর্মীরা সম্পূর্ণ পর্যুদস্ত। ভেতরে অবস্থানরত কংগ্রেস ও সিনেটের  কয়েক শ সদস্য যেখানে আত্মগোপন করলেন। একদল দুর্বৃত্ত ফাঁসির দড়ি নিয়ে মাইক পেন্সকে খুঁজতে শুরু করল। যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটা ঘটনা ঘটতে পারে তা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। যখন এই তাণ্ডব চলছিল তখন ট্রাম্প একটি পার্টিতে মদপান করতে করতে বেশ আনন্দ উপভোগ করছিলেন। সেদিন ঘটে যেতে পারত এক ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। এরই মধ্যে সেদিনের ঘটনার জন্য ট্রাম্প সিনেটে অভিশংসিত হয়েছেন। সেই অভিশংসনে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ১০ জন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। ট্রাম্প শুধু নিজ দেশকেই বিভাজিত করেননি, তিনি তাঁর দলকেও বিভাজিত করেছেন। এর আগে ট্রাম্প ২০১৯ সালেও অভিশংসিত হয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনি হচ্ছেন প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি নিজ মেয়াদকালে দুবার অভিশংসিত হয়েছেন। এরপর সিনেটে তাঁর বিচার হওয়ার কথা। তাহলে তিনি শাস্তি পেতে পারেন। এর অর্থ হচ্ছে, তিনি আর কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। হারাবেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেক সুযোগ-সুবিধা।

এক কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে গত ২০ জানুয়ারি জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সঙ্গে তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। এই সময় পুরো ওয়াশিংটন ডিসিতে কার্যত কারফিউ অবস্থা বিরাজ করছিল। নিরাপত্তার জন্য আনা হয়েছিল ২৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ড, যা ইরাক ও আফগানিস্তানে অবস্থানরত মোট মার্কিন সেনার চেয়েও বেশি। নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। প্রায় ২৪৪ বছরের ঐতিহ্য ভেঙে ট্রাম্প ২০ তারিখ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সস্ত্রীক হোয়াইট হাউস ছেড়ে যান। তাঁকে বিদায় জানাতে রেওয়াজ অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা অন্য কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।

নতুন প্রেসিডেন্টের হাতে অনেক কাজ, যার অন্যতম হচ্ছে বিভাজিত যুক্তরাষ্ট্রে ঐক্য ফিরিয়ে আনা, যা মোটেও সহজ নয়। কারণ ট্রাম্প মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকের সমর্থন পেয়েছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছেন তিনি আবার ফিরবেন, যা সিনেট কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হলে সম্ভব নয়। তবে তিনি যে বর্ণবাদকে উসকে দিয়েছেন তা সহজে মিটবে না। এই বর্ণবাদীরাই হবে সেই দেশের আগামী দিনের উগ্র সন্ত্রাসী, যা আইসিসকেও হার মানাতে পারে। বাইডেন দায়িত্ব নিয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার অন্যতম হচ্ছে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে জলবায়ু পরিবর্তন বন্ধ করার জন্য যে প্যারিস সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন, সেই সিদ্ধান্ত রহিত করা। সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছেন বাইডেন, যা ট্রাম্প নিষিদ্ধ করেছিলেন। বাইডেন ঘোষণা করেছিলেন প্রথম ১০০ দিনে ১০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। দায়িত্ব নিয়ে দেখেন, টিকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। বাইডেন এখন কী করবেন তা দেখার বিষয়। রাতারাতি এত বিপুল পরিমাণের টিকা উৎপাদন করা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রায় ভঙ্গুর। তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বাস্তবমুখী কৌশল প্রস্তুত করতে হবে, যা খুব সহজ নয়। ৭৮ বছর বয়সী জো বাইডেন কত দূর যেতে পারবেন তা ভবিষ্যৎ বলতে পারবে। তবে তা তিনি যদি করতে না পারেন, তাহলে তিনিও খুব শান্তিতে দেশ পরিচালনা করতে পারবেন না।

সব শেষে বলতেই হয়, একটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে, তাহলে অনেক ঝড়ঝাপটা সামাল দেওয়া সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলি তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। বাইডেন প্রশাসনের সাফল্য কামনা করি। ট্রাম্প জামানায় হারানো যুক্তরাষ্ট্রের সব ভালো ঐতিহ্য ফিরে আসুক। দেশটি আবার পরিণত হোক তেমন একটি দেশে, যেমনটি চেয়েছিলেন দেশটির প্রতিষ্ঠাতারা।

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা