kalerkantho

রবিবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৫ রজব ১৪৪২

এলো ভারতের বন্ধুত্বের টিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এলো ভারতের বন্ধুত্বের টিকা

উপহার হিসেবে ভারত সরকারের দেওয়া করোনার টিকা গতকাল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে ফ্রিজারভ্যানে করে এসব প্রতিষেধক নেওয়া হয় ইপিআই স্টোরেজে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সরকারিভাবে কেনা টিকা সময়মতো আসা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারত সরকারের বন্ধুত্বের স্মারক উপহারের ২০ লাখ চার হাজার ডোজ টিকা দেশে এসে পৌঁছাল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল  সোয়া ১১টার দিকে ওই টিকা নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইট অবতরণ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এরপর সেখান থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে দুটি তাপানুকূল কাভার্ড ভ্যানে করে তা নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গোডাউনে।

বিমানবন্দরে কোনো আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ভারতীয় দূতাবাসের কিছু কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী এই টিকার চালান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

অতিথি ভবন পদ্মার সবুজ লনে উন্মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ ভারত সরকার বাংলাদেশের মানুষের জন্য ২০ লাখ চার হাজার ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে। উপহার হিসেবে ভারত সরকারের দেওয়া কোনো দেশের জন্য এটাই সর্বোচ্চসংখ্যক টিকা। বাংলাদেশের জনসংখ্যার কথা চিন্তা করে এত বেশিসংখ্যক টিকা দিয়েছে বন্ধুপ্রতিম ভারত সরকার।

তিনি বলেন, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল, ভারত যখন টিকা পাবে বাংলাদেশ একই সময়ে টিকা পাবে এবং ভারত অন্য দেশে টিকা দেওয়ার প্রথমেই বাংলাদেশকে টিকা দেবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত শনিবার ভারতে টিকা দেওয়া শুরু হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশও পেয়েছে। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবেলায় ভারত ও বাংলাদেশ একযোগে কাজ করছে ও করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আজ আমাদের এক ঐতিহাসিক দিন। ভারত যে আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু আবারও তার প্রমাণ দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেভাবে আমাদের সহায়তা দিয়েছে এবারও আমরা তাদের কাছ থেকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সহযোগিতা পেলাম।’ তিনি বলেন, আশা করি বাকি টিকাও দ্রুত সময়ের মধ্যে এসে যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আজ আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। এত দিন আমরা অপেক্ষায় ছিলাম টিকা আসবে আসবে বলে। এখন ২০ লাখ টিকা আমাদের হাতে এসে গেছে। আমরা তা গ্রহণ করে আমাদের স্টোরে নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘ভারত যেভাবে মহান স্বাধীনতার সময় আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল। এবারও এই করোনা মহামারিতেও তারা সাহায্য করল টিকা দিয়ে। এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বন্ধুত্ব ও দুই দেশের সৌহার্দ্যের প্রতীক।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে চুক্তির আরো তিন কোটি টিকা আসবে ভারত থেকে। সেই টিকা পাঠানোর জন্য এবং চুক্তি যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন হয় সেটি যাতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেখা হয় সে জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’ মন্ত্রী বলেন, সব ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে এ মাসেই ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহিরয়ার আলম বলেন, ‘ভারত আবারও প্রমাণ করল তারা আমাদের পরম বন্ধু। আমরা এক সঙ্গে সব সময় কাজ করছি।’

গতকাল টিকা নিয়ে রাখা হয়েছে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই সেন্টারের গোডাউনে। করোনার টিকা রাখার পরিকল্পনা থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। মোট ১৬৭টি কার্টনে প্রতিটিতে এক হাজার ২০০ ভায়াল করে টিকা সাজানো আছে। এক ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা রয়েছে, যা ১০ জনকে দেওয়া যাবে।

এদিকে অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবার খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোনোভাবেই টিকা নিয়ে কোনো গুজব না ছড়ায়। যেকোনো টিকা বা ওষুধেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। ফলে এসব জেনেই আমাদের টিকা নিতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা