kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

বিশেষজ্ঞ মত

বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্টের অনেক চ্যালেঞ্জ

এম হুমায়ুন কবির, সাবেক রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্টের অনেক চ্যালেঞ্জ

একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের যে প্রক্রিয়া বা রীতি, এবার সেভাবে হয়নি। ওয়াশিংটন ডিসি প্রায় ২৫ হাজার গার্ডে পরিবেষ্টিত। নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাখ লাখ মানুষ এ সময় ওয়াশিংটন ডিসিতে আসে। সেখানে এবার মাত্র হাজারখানেক মানুষ! শপথগ্রহণ ঘিরে অস্বাভাবিক একটি অবস্থা।

পাশাপাশি বড় বিষয় হলো, বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিষেক অনুষ্ঠানে নেই। তিনি বাইডেনের নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমন একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ট্রাম্প সৃষ্টি করেছেন যে তাঁর সমর্থকরা গত ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসে গিয়ে তাণ্ডব চালাল। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অভাবনীয়, অবিশ্বাস্য। সেই পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিভাজিত যুক্তরাষ্ট্রে, জনগণকে বিভাজিত অবস্থায় রেখে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। এই বিভাজিত যুক্তরাষ্ট্রকে কিভাবে আবার ঐক্যবদ্ধ করা যায়, সেটিই তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। একই সঙ্গে এটিই তাঁর প্রধান ও প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে আবির্ভূত হবে।

বাইডেন এ ক্ষেত্রে কিছু কিছু ইঙ্গিত করেছেন। তিনি চান যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও ঐক্যবদ্ধ করতে। বিভাজনের রাজনীতিকে উতরে তিনি সহযোগিতা ও সমন্বয়ের জায়গায় যেতে চান। কংগ্রেসে যাঁরা রিপাবলিকান আছেন, তাঁদের সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও রিপাবলিকানদের তিনি প্রত্যাশা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাইডেনের নীতিগুলো এই লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে কিভাবে বিভাজন থেকে বেরিয়ে আসা যায়, সে নিয়ে তিনি কাজ করবেন।

বাইডেনের দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হলো কভিড মোকাবেলা। যুক্তরাষ্ট্রে চার লাখ মানুষ এরই মধ্যে কভিডে মারা গেছে। লিংকন মেমোরিয়ালে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাইডেন। কভিডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে বেকারত্ব বেড়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজেই অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ হবে। এটি তাঁর তৃতীয় অগ্রাধিকার হতে পারে।

বাইডেন বলেছেন, বিদেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ভিত্তিই হবে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ যুক্তরাষ্ট্র। সেটি বিবেচনায় রেখেই তিনি বিশ্বে তাঁর অবস্থান নির্ধারণ করবেন। গত চার-পাঁচ বছরে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাইডেন এটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবেন। এ ক্ষেত্রে তিনি আলোচনা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক মিত্রদের সঙ্গেও। যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই বহুপক্ষীয় কাঠামোতে তার নেতৃত্বের স্থান তৈরি করেছে। সেই স্থানটি পুনরুদ্ধারের জন্য বাইডেন সবাইকে নিয়েই চেষ্টা করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয়, যেমন—চীন, রাশিয়ার মতো বড় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কিভাবে সাবলীল করা যায় সে চেষ্টাও তিনি করবেন।

সবশেষ বিষয় হলো, বাইডেনের ভবিষ্যত্মুখী নীতি। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন পুরো প্রজন্মের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি ২০১৫ সালের জলবায়ুচুক্তিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত আনবেন।

তাঁর সামনের চ্যালেঞ্জগুলো অনেক বড়। আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক বহুপক্ষ পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের যে নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিকভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তা বিষয়ে, বিশেষ করে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতার যে জায়গা, সেগুলো আগামী দিনে আরো সমৃদ্ধ হোক। যুক্তরাষ্ট্র আবারও আগের মতো নেতৃত্বে ফিরে আসুক। যুক্তরাষ্ট্র সবার বসবাসযোগ্য একটি পৃথিবী তৈরিতে সাহায্য করুক, যেখানে সবাই অংশ নিতে পারে, বৈষম্য দূর করে যেখানে সবার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা যায় এবং আগামী দিনে একটি জলবায়ুসহিষ্ণু পরিবেশে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী সৃষ্টি হবে।

সে জায়গায় বাংলাদেশ, আমরা মনে করি—আমরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই কাজ করতে আমরা উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছি।

লেখক : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত। বর্তমানে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা