kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ৯ মার্চ ২০২১। ২৪ রজব ১৪৪২

বিদ্রোহে কোথাও ডুবছে নৌকা

তৈমুর ফারুক তুষার    

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদ্রোহে কোথাও ডুবছে নৌকা

বিদ্রোহের লাগাম টানতে না পারায় কয়েকটি পৌরসভায় মাসুল গুনতে হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে। বেশ কয়েকটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিপুল ভোটে হেরেছেন। প্রভাবশালী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নির্বাচনী এলাকায়ও ডুবেছে নৌকা। তবে হবিগঞ্জ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সেখানকার একটি পৌরসভায় দলটির মেয়র প্রার্থী জামানতও খুইয়েছেন। আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থীদের অনেকেই তাঁদের পরাজয়ের পেছনে নিজ দলের নেতাদের অসহযোগিতাকে দায়ী করছেন। টানা তিন মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার পরও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনায় দলটির নেতাকর্মীদের অনেকেই ক্ষুব্ধ।

হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য হলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় মাধবপুর পৌরসভার ভোটে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। পৌরসভাটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শ্রীধাম দাশ গুপ্ত পেয়েছেন মাত্র ৬০৮ ভোট। সেখানে বিজয়ী বিএনপির হাবিবুর রহমান মানিক পান পাঁচ হাজার ৩১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী পংকজ কুমার সাহা পান চার হাজার ১৫৬ ভোট। আওয়ামী লীগের অন্য বিদ্রোহী মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. মুসলিম পান তিন হাজার ৪৯ ভোট।

টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরও মাধবপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনায় দলের ভেতরেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং দলীয় নির্দেশ অমান্যের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের জামাতা গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী। তিনি বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এর আগে প্রথম ধাপের পৌর নির্বাচনে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে বিএনপির প্রার্থী এম এফ আহমেদ অলি চার হাজার ৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মাসুদউজ্জামান মাসুক পান তিন হাজার ১৩৯ ভোট। বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. ছালেক মিয়া পান দুই হাজার ৫৯৯ ভোট। আওয়ামী লীগের আরেকজন বিদ্রোহী প্রার্থীও সহস্রাধিক ভোট পান। আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থীর সম্মিলিত ভোট বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণ। একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে না পারায় পৌরসভাটিতে নৌকার হার ত্বরান্বিত হয়।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরাজিত হন সাবেক মন্ত্রী এবং বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের স্ত্রী আশানূর বিশ্বাস। সেখানে বিজয়ী হন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মোমিন মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা।

রাজশাহীর তানোর পৌরসভায়ও নৌকার প্রার্থী মো. শাহীদুজ্জামান হেরেছেন। এই পরাজয়ের পেছনে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের অসহযোগিতাকে দায়ী করেছেন।

প্রভাবশালী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের নির্বাচনী এলাকায় নৌকার ভরাডুবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘দেশের বেশির ভাগ পৌরসভায় আমরা জয়ী হয়েছি। ভোটাররা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন। তবে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। একটি পৌরসভায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অনেক সময় স্থান, কাল, পাত্রভেদে এগুলো হয়। তবে আমরা কিছুদিনের মধ্যেই ভোটের ফল বিশ্লেষণ করব। যেসব পৌরসভায় আমাদের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন, সেগুলোর কারণ বের করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে এমন পরিস্থিতি আর সৃষ্টি না হয়।’

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপিরা নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছেন। দু-একটি ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন হয়তো ভালো হয়নি, কিন্তু দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে এমপি-মন্ত্রীদের উচিত ছিল নৌকার প্রার্থীর জন্য কাজ করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা। কিন্তু তাঁরা দলের স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে ভেবেছেন। এ জন্যই তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থেকেও একটি পৌরসভায় নৌকার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা