kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করে লাকিংমে চাকমার ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করে লাকিংমে চাকমার ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার দাবি

প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শিলখালি গ্রামের মেয়ে লাকিংমে চাকমার ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার দাবি করেছে আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, এএলআরডি ও ব্লাস্ট। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এই প্রদীপ প্রজ্জ্বালনের আয়োজন করা হয়।

প্রদীপ প্রজ্জ্বালনের আগে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালেয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ফারহা তানজীম তিতিল। এসময় বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, এএলআরডি’র প্রতিনিধি রফিক আহমেদ সিরাজী, লাকিংমের আইনজীবী মহিউদ্দিন খান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রীনা রায় প্রমুখ।

সমাবেশে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, লাকিংমেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মিথ্যা জন্মনিবন্ধন সনদে ধর্মান্তর এবং বাল্যবিয়েতে বাধ্য করার ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। সন্তান জন্মের মাত্র ১৩ দিন পর সে মারা যায়। তার মৃত্যুটিও অস্বাভাবিক। আরো বলা হয়, লাকিংমে চাকমার লাশ মা-বাবার কাছে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে- মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছিল। ফলে বিয়েটি অবৈধ ছিল এবং তার প্রতি ধর্ষণের মতো অপরাধ হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে উত্থাপিত দাবির মধ্যে রয়েছে- লাকিংমের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ক্ষতিপূরণ দেওয়া; ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ; মামলা তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অবহেলার বিভাগীয় তদন্ত এবং অবিলম্বে আতাউল্লাহসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ জানুয়ারি টেকনাফের বাহারছড়ার মাথাভাঙ্গা এলাকা থেকে লাকিংমে অপহৃত হয়। জন্মসনদ অনুযায়ী ওই সময় তার বয়স ছিল ১৪ বছর ১০ মাস। ঘটনার পরপরই লাকিংমের বাবা লালাঅং চাকমা টেকনাফ থানায় মামলা করতে যান। পুলিশ মামলা না নেওয়ায় গত ২৭ জানুয়ারি লালাঅং তার মেয়েকে উদ্ধারে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। গত ৯ ডিসেম্বর অপহরণের দায়ে অভিযুক্ত আতাউল্লাহর ঘরে মারা যান লাকিংমে। পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশ সৎকারের দাবি করেন লাকিংমের বাবা লালাঅং চাকমা। আতাউল্লাহ অভিন্ন দাবি করলে আদালত র‌্যাবকে ধর্মপরিচয় নিশ্চিত হয়ে মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা এবং মামলাটির পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। লাকিংমের মরদেহ গত ৪ জানুয়ারি তার বাবাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে নিরাপত্তার কারণে ওই দিন লাকিংমেকে তার গ্রাম টেকনাফের শিলখালির পরিবর্তে রামুর কেন্দ্রীয় বৌদ্ধমন্দিরে সমাহিত করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা