kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তারা

‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা উত্তর-দক্ষিণ দিক থেকে এসে কেউ করে দেবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:৩০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা উত্তর-দক্ষিণ দিক থেকে এসে কেউ করে দেবে না’

ফাইল ফটো

দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা উত্তর দিক থেকে বা দক্ষিণ দিক থেকে এসে কেউ করে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা। শনিবার দুপুরে রাজধানী ধানমন্ডির একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এক দোয়া মাহফিলে নেতারা এ কথা বলেন। ‘২০২০ এর জন্য মহান আল্লাহর প্রতি শোকরিয়া, ২০২১ এর জন্য মহান আল্লাহ’র নিকট প্রার্থনা’ শীর্ষক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। অনুষ্ঠানে ৫০ জন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, অন্তত ২৫টি রাজনৈতিক দলের বিভিন্নস্তরের নেতা ও কয়েকজন সাবেক সচিবসহ অন্তত ২০ জন আমলা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা এতে অংশ নেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা রাজনৈতিক দুবৃত্তায়ন, দুঃশাসনের অবসান চাই। চাই আর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ভোটাধিকার চাই, সাম্য চাই, মানবিক মর্যাদা চাই। আজকে গণতন্ত্র দেশ থেকে বিলীন। আইনের শাসন নেই, সুশাসন নির্বাসনে। আমরা একটি পুলিশি রাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে বসে আছি। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান চাই। আসুন, আমরা সবাই মিলে রাজপথে সামিল হয়ে এই দু:শাসনকে অবসান করি। এটা কেউ আমাদেরকে করে দেবে না। উত্তর দিক থেকে এসেও করে দেবে না, দক্ষিণ দিক থেকে এসেও করে দেবে না। একমাত্র রাজপথে নেমেই এটি আদায় করতে হবে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় অসম্ভব সাহসী দেশপ্রেমিক যুবকদের দেখা পেয়েছিলাম। কিন্তু দু:খের বিষয় এখন আর সেই ধরনের তরুনদেরকে দেখতে পাই না। ধীরে ধীরে আমরা মৃতপ্রায় জাতিতে পরিনত হতে চলেছি। কেন এমন হলো? এটি হয়েছে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো কল্যানে। রাজনীতিতে এখন চলছে ব্যাপক দুর্বৃত্তায়ন। ভোটের রায় যে হাইজ্যাক করা যায় তা এই স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা দেখলাম, ’৭২ এ প্রথম ডাকসু নির্বাচনে, ’৭৩ এর জাতীয় নির্বাচনে। গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটও দিতে পারিনি। বাসা থেকে বের হতে দেয়নি পুলিশ বাহিনী- আওয়ামী লীগের মাস্তান বাহিনী। এই যে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন হলো এবং এখন আমরা ধীরে ধীরে অন্ধকারের সুরঙ্গ পথে এগিয়ে চলেছি। টানেলের নীচে আলোর রেখা দেখতে পাচ্ছি না। আজকে (গতকাল) সারাদেশের অনেক স্থানে পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে। নিশ্চিত থাকুন কালকে পত্রিকায় দেখতে পাবেন বিরোধীদল বিশেষ করে বিএনপির প্রার্থীরা কেউ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। এজেন্ট দিতে পারেনি, সাহস করে দিলেও মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এখনকার ট্রেন্ড হলো যে মার খায় সেই আসামী হয়।

নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ২০২০ সাল আমাদের ভালো যায়নি। ২০২১ সালের মধ্যেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই দখলদার সরকারকে বিদার করতে হবে। এটা অসম্ভব ব্যাপার মনে করি না। রাজনৈতিক দলগুলো যে যার দল করেন, তাদের যে শক্তি আছে এসব মিললে এই সরকারের পতন ঘটাতে ২৪ ঘন্টা সময় লাগবে না। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এখনই বলতে হবে এই সরকার মানি না, যত তাড়াতাড়ি পারে যেন চলে যান।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা কি একটা শর্তে সবাই এক হতে পারি না। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র, তারপর সুশাসন এবং সবার জন্য ন্যায় বিচার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিশ্চিত করতে চাই সুষ্ঠু নির্বাচনে যদি হেরে যান আপনি যে অত্যাচার চালিয়েছেন তা চালানো হবে না। আপনি সুষ্ঠু বিচার পাবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমরা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গর্জন শুনি, স্লোগান-ব্যাখ্যা শুনি। যারা বীর প্রতীক, বীর বিক্রম এখন তাদেরকে বলা হয় বিপক্ষের শক্তি। আর যারা রাতের আধারে ভোট করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক লুট করে, দেশের মুদ্রা বিদেশে পাচার করে, দুর্নীতি করে, মানুষকে গুম করে তারা নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি। আমি এই রহস্য কিছুতেই বুঝলাম না। মানুষ এটা গ্রহন করে কিভাবে? বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সবচেয়ে বিপক্ষের শক্তি এখন ক্ষমতায় আছে। এরা যদি বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি, আপনারা বলবেন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনার পক্ষের শক্তি। আমি কোন পক্ষে-বিপক্ষে না। আমি মনে করি বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ যদি একশ’ বছরও ক্ষমতায় থাকে বিন্দুমাত্র আপত্তি নাই।

তিনি বলেন, দেশটা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির না, ১৬ কোটি মানুষের। বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দিবো না, তো তাদের পেটান, আইনগতভাবে দমন করতে পারেন, করেন। কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিবেন কেন? সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের মালিক জনগণ। মাগুরার একটা আসনে উপনির্বাচনে কারচুপির কারণে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত একসঙ্গে রাস্তায় নেমেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে। আর তিন’শ আসনে আগের রাতেই নির্বাচন হয়ে যায়, তারপরও ঐক্য গড়ার সময় বলে ওর পরিচয় কি, তার পরিচয় কি। স্বৈরতান্ত্রিক বা অজনপ্রিয় সরকার টিকে থাকে বিভেদের রাজনীতির করে। আপনারা (উপস্থিত বিভিন্ন দলের নেতাদের) কি বিভেদের রাজনীতি করছেন না? পত্রিকায় দেখলাম বাম গণতান্ত্রিক জোট নাকি আবার ভাঙবে। আশ্চর্য লাগে আমার কাছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বর্তমান স্বাধীনতা বিরোধী সরকার যাই যাই করেও যাচ্ছে না। এই যাওয়াটাকে দ্রুততার করার জন্য যার যেখানে শক্তি আছে তা যদি একত্রিত করা যায় তাহলে দেশের পক্ষে মুক্তি সম্ভব।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মো. গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতা এই সুবর্নজয়ন্তীতে আমাদের স্বাধীনতার যে লাল সবুজ পতাকার যে মর্যাদা, তা বাচাঁতে গেলে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন।

এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) ফখরুল আজম বলেন, যেখানে দেশের সবাই মাঠে নামবো একসঙ্গে, সেখানে আমি অংশগ্রহন করতে পারি যদি কিনা দেশে সুশাসন এনে দিতে পারি।

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ১৩টি বছর আমরা সংগ্রাম করে টিকেছিলাম ২০২১ সালের জন্য। এই বছর আমরা ঘুরে দাড়াতে চাই। আমরা মানুষের পাশে দাড়াতে চাই, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার- এই তিনটি যাতে বাস্তবায়িত হয় আমরা তার জন্য চেষ্টা করতে চাই।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ড. এহসানুল হক মিলন, আলমগীর কবির, নিলোফার চৌধুরী মনি, মে. জে. (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, সাবেক রাষ্ট্রদূত আসাফউদ্দৌলা, রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মুস্তাফিজুর রহমান, মে. জে. (অব.) এহতাশামুল, ব্রি. জে. (অব.) হাসান নাসিম, লে. কর্নেল (অব.) হান্নান মৃধা, লে. কর্নেল (অব.) ডা. আকরাম, লে. কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন, লে. কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ, লে. কর্নেল (অব.) রাশিদ উন নবী, হেফাজত ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া নোমানসহ ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা