kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘গ্রেপ্তারের ১৫ দিনের মধ্যেই জামিন পাচ্ছে ধর্ষণ মামলার আসামিরা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘গ্রেপ্তারের ১৫ দিনের মধ্যেই জামিন পাচ্ছে ধর্ষণ মামলার আসামিরা’

গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টা পর হতে ১৫ দিনের মধ্যেই অভিযুক্ত আসামিরা জামিন পাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়েরকৃত ২৫টি ধর্ষণ মামলা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়- এ মামলাগুলোয় মোট অভিযুক্ত ৩৪ জন। তাদের মধ্যে ২৭ আসামি জামিন পেয়েছে এবং ২ জন প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি তাদের  গ্রেপ্তারও করা হয়নি। এছাড়া পাঁচজন অভিযুক্ত ধর্ষক কারাগারে রয়েছে।  উপরন্তু অধিকাংশ আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে মামলাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আজ এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য তুলে ধরেছে।

এই ২৫টি ধর্ষণ  মামলার মধ্যে অধিকাংশই বিচারাধীন ও সাক্ষ্যের পর্যায়ে রয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকে ৬ মাসের মধ্যে চার্জশীট হয়েছে ২২ টি মামলায়। তবে ২০১৪ -২০১৫ সালে চার্জশীট হয়েছে এরকম ৯ টি মামলার রায় এখনো হয়নি। ২০১৬-২০১৭ সালে চার্জশীট হয়েছে এরকম ১২ টি মামলার রায় এখনো হয়নি এবং দুটি ক্ষেত্রেই তেমন কোন অগ্রগতিও হয়নি। ৩ টি মামলাতে এখন পর্যন্ত অভিযোগপত্র দাখিলই করা হয়নি।

এই ২৫ টি মামলার মধ্যে ২টি মামলা একদম নিস্ক্রিয় অবস্থায় আছে। ৪ টি মামলার নথি পাওয়াই যাচ্ছে না। যে ২০ টির চার্জশীট হয়েছে, সেগুলোর ৬ - ২৩ বার শুনানি হয়েছে। ০১ টি মামলার এখনো মেডিকো-লিগ্যাল টেস্ট হয়নি।

কেন ধর্ষণ মামলার বিচারের দেরি হচ্ছে এই কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে মামলা বিচার এর জন্য নথি প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং মামলার শুনানি শুরু হলে, তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত  প্রতি কর্মদিবসে একটানা পরিচালনার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা যথাযথ ভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এই সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বলেন, ধর্ষণ ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শান্তি না হওয়ায়, ধর্ষণের ঘটনা না কমে বরং বেড়েই  চলছে। তাই আমরা সব ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার চাইছি। কিন্তু বিচারের বদলে বাড়ছে ধর্ষণ, ধর্ষণের আগে  নির্যাতন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ও নারীর পোশাক, চলাফেরা, কাজের ক্ষেত্র ও পরিবারের প্রতি নানাধরণের অভিযোগ।

এই সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের শিকার নারীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। যেমন ধর্ষণ-সংক্রান্ত আইন সংস্কার করা, সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা, নির্ধারিত সময়ে তদন্ত ও বিচার শেষ করা ও আইনী বিধানসমূহ সঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কি-না সে বিষয়ে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা প্রবর্তণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ধর্ষণের মামলা আপোষ করা বা আপোষের চেষ্টা করাকে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা।

প্রয়োজনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১৫ ও ১৬ ধারা সংশোধন করা। আর ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধিতে ভাষা ও শ্রবণ এবং বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য দিতে পারে, এমন ব্যবস্থা রেখে আইনটির সংশোধন করা।

মেডিকেল রিপোর্টে কোনরকম ত্রুটি শাস্তিযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা। ভিকটিমের আইনী সহায়তা নিশ্চিত করা। কেবলমাত্র আইনজীবীর সহযোগিতা না দিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশু এবং সাক্ষীর আদালতসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পুলিশ, বিচারক, আইনজীবী, চিকিৎসক, কোর্ট স্টাফ ও ধর্ষণ মামলার বিচার সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের জেন্ডার সমতা, হাইকোর্টের নির্দেশনা, সংস্কারকৃত আইন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা