kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

নতুন এডিপি ২ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার

সজীব হোম রায়   

৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন এডিপি ২ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার

পৃথিবীজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রায় সব দেশে চলছে অর্থনৈতিক বিপর্যয়। বাংলাদেশের অর্থনীতিও এর ব্যতিক্রম নয়। আবার করোনার কারণে সরকারের পরিচালন বা অনুন্নয়ন ব্যয় বেড়েছে অনেক গুণ। ফলে আগামী অর্থবছরের বাজেটে এডিপির আকার কিছুটা কমিয়ে ধরা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপির) আকার দুই লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করেছে। নতুন এডিপিতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতে আসতে পারে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প। এদিকে সংশোধিত এডিপিতে আট হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী এডিপি নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা আছে। করোনার জন্য নতুন করে অনেক কিছু করতে হচ্ছে। নতুন বাজেটের এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মানুষ যাতে ভালো থাকে আমরা সে ব্যবস্থা করতে চাই। গ্রামীণ অবকাঠামো নিয়ে কাজ করতে চাই। শিক্ষা এবং কৃষিও গুরুত্ব পাবে আগামী এডিপিতে।’

এডিপি বাস্তবায়নের হার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এডিপি বাস্তবায়নের হার নিয়ে চিন্তায় আছি। তবে আমরা বাস্তবায়নের হার বাড়ানোর চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার পরও প্রকল্প পরিচালকরা (পিডি) প্রকল্পের গাড়ি নিয়ে ঢাকায় বসে থাকে। এগুলো আমরা জোরালো মনিটরিংয়ে আনব।’

সূত্র মতে, আগামী বাজেটে এডিপির আকার ধরা হচ্ছে দুই লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ শতাংশ। এটি চলতি বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের বাজেটে এডিপির আকার দুই লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা। নতুন এডিপির আকারটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক প্রস্তাব। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এডিপির আকারের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পারে। সাধারণত ১৫ মের মধ্যে এডিপি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় পাস করা হয়।

করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে এবারের নতুন এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বাড়ানো হবে। ৯টি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে শীর্ষস্থানে থাকবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা খাত। সরকার মনে করে, চলতি বাজেট ঘোষণার সময় ছিল করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের অচলাবস্থা। এরপর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তা ধরে রাখা যায়নি। বিশ্বজুড়ে আবারও শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রাণহানির পাশাপাশি করোনার এই সময়ে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে কর্মসংস্থান। বেড়েছে বেকারত্ব। দ্বিগুণ হারে বেড়েছে দারিদ্র্য। ফলে আসছে নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে নতুন এডিপিতে আসতে পারে একগুচ্ছ প্রকল্প। নতুন এসব প্রকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখবে। তবে নতুন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তি কিংবা প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে সম্পদের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিকে। অগুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রকল্প আগামী এডিপিতে থাকবে না। তা ছাড়া এডিপিতে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার চেয়ে চলমান প্রকল্পগুলো শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নতুন এডিপিতে উচ্চহারে প্রবৃদ্ধি অর্জন, কৃষি উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ভৌত ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবহন এবং নগর উন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া নতুন এডিপিতে বৈষম্য হ্রাস ও দারিদ্র্য নিরসনের মতো বিষয়গুলো মাথায় রাখা হবে।

এদিকে প্রশাসনিক অদক্ষতা, করোনার প্রভাব, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, গাফিলতি ও দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে চলতি বছর এডিপি বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে না। অবশ্য এটিকে চিরাচরিত ব্যবস্থাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব কারণে প্রতিবছরই এডিপিতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। চলতি বাজেটের প্রথম ছয় মাসে মোট এডিপির ৩০ শতাংশই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নের হার যথাক্রমে—২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯১ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯৪.০২ শতাংশ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৮৯.৭৬ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯৩ শতাংশ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯১ শতাংশ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৯৩ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের এডিপি বাস্তবায়নের হার আরো কমবে।

এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আরএডিপি বা সংশোধিত এডিপি তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয় সংশোধিত এডিপি এক লাখ ৯৭ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাব করেছে। এটি জিডিপির ৬.২৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছর এডিপির আকার দুই লাখ পাঁচ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে সংশোধিত এডিপি বা আরএডিপির আকার আট হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা