kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

ভাসানচরের পথে ১৭৭৪ রোহিঙ্গা

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ   

২৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:১১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাসানচরের পথে ১৭৭৪ রোহিঙ্গা

কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘনবসতি ছেড়ে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে ১৭৭৪ জন রোহিঙ্গা। সোমবার সকাল ১১টার দিকে তারা উখিয়া কলেজ মাঠ থেকে ভাসানচরগামীদের জন্য নির্ধারিত বাসে ওঠেন। মঙ্গলবার সকালে তারা চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে চেপে পৌঁছানোর কথা। ভাসানচরের পথে এটি রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দল। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১৬৪২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছান।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে উখিয়া কলেজ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে বসতি করতে আগ্রহী এমন রোহিঙ্গা পরিবারগুলো উখিয়া কলেজ মাঠে জড়ো করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই তাদের বাসে উঠানো হয়। সোমবার সকাল ১১টায় ভাসানচরগামী বাস উখিয়া থেকে রওনা দেয়। এসময় ভাসানচরগামী রোহিঙ্গারা বাস থেকে হাসিমুখে হাতনেড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানান।

উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ ইসলাম জানান, প্রথম দফায় যারা ভাসানচর গেছেন তারা সবাই সেখানকার পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। সেখানে তারা এখন আরাম আয়েশে জীবন যাপন করছেন। ভাসানচরে তাদের ভালো থাকার খবর শুনে ক্যাম্পের অন্য রোহিঙ্গারাও সেখানে যেতে আগ্রহী হয়ে ওঠছে।

তিনি আরো বলেন, প্রথম দফায় ভাসানচর যাওয়া রোহিঙ্গারা শুরুতে কিছুটা ভয় এবং উৎকণ্ঠায় ছিলেন। কিন্তু এবারের ভাসানচর যাওয়া রোহিঙ্গা গুলোর মাঝে একটা খুশির আমেজ বিরাজ করছে। তারা স্বেচ্ছায় ক্যাম্পের ঠাসাঠাসি বসবাস ছেড়ে ভাসানচরে যাচ্ছে।

টেকনাফের শামলাপুর ২৩ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের মাঝি আবুল হাশেম বলেন, সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে এসব রোহিঙ্গা ভাসান চরে নতুন করে বসতি করার জন্য স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তাদের অনেকে নির্ধারিত সময়ে ট্রানজিট পয়েন্টে চলে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনার বাস ধরছে।

ভাসানচরে রওনা হওয়া টেকনাফ শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কামাল হোসেন জানান, এখানকার ঠাসাঠাসি বসবাস আর ভালো লাগছে না। প্রথম দিকে ভাসানচর যাওয়ার কথা বললে অনেকে ভয় দেখাতো, কিন্তু আমাদের আগে যারা সেখানে গেছে তাদের কথা শুনে সে ভয় কেটে গেছে। যাওয়ার সময় ক্যাম্পর স্বজনদের অনুরোধ করেছি তারাও যেন ভাসানচরে চলে আসে। আজ সোমবার আমাদের ক্যাম্প থেকে ১১০ জন ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছি।

উখিয়ার কুতুপালং ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারী হুমায়রা বেগম জানান, পরিবারের ৬ সদস্যকে নিয়ে ভাসানচরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগে ভাসানচরে যাওয়া আমাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, উখিয়া টেকনাফের ক্যাম্পের চেয়ে ভাসানচর অনেক বেশি নিরাপদ। সেখানকার ঘরবাড়ি, খাওয়া দাওয়া সবকিছু এখানকার চেয়ে উন্নত। তাই তাদের আহবানে সাড়া দিয়ে ভাসানচর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নিপীড়নের মুখে দেশটি থেকে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। পালিয়ে আসা ওইসব রোহিঙ্গাদের ঠাঁই দেয়া হয় উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ে। নতুন ও পুরাতন মিলে ৩৪টি ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল প্রায় এগারো লাখের বেশি।

কক্সবাজারের ঘিঞ্জি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চাপ কমানোর জন্য ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে কক্সবাজার থেকে এক লক্ষ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। আশ্রয়ণ-৩ নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে। কিন্তু ২০১৮ সালে যখন প্রথম তাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়, কিন্তু রোহিঙ্গাদের আপত্তির কারণে তখন তাদের ভাসানচরে পাঠানো সম্ভব হয়নি।

ভাসানচর সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে এতদিন তারা ভাসানচর যেতে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু সরকারে তরফ থেকে নেওয়া বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের পর ভাসানচর সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা