kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

কিডনি রোগের প্রধান কারণ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ২০:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কিডনি রোগের প্রধান কারণ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ

১০ বছর পূর্বে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর হার ছিল ৫-৬ ভাগ; বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১-১২ ভাগ। উচ্চ রক্তচাপের হার ছিল ১০ ভাগ এবং এখন তা ২০-২৫ ভাগ। বর্ধিত হারে এই দুই রোগের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর কিডনি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেননা কিডনি রোগের প্রধান কারণ হচ্ছে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়। এর মাত্র ২০ ভাগ রোগীর চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। বাকি ৮০ ভাগ রোগী চিকিৎসার অভাবেই মারা যায়। বছরে মারা যাচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।

যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি, যাদের পরিবারে কিডনি, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী আছে, যারা ধুমপায়ী, যারা মুটিয়ে যাচ্ছে, অলসতায় দিন কাটায় তাদেরকে বছরে অন্তত দুইবার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ মাপাসহ প্রস্রাবে প্রোটিন নির্গত হচ্ছে কিনা—তা পরীক্ষা করা উচিত। এছাড়া লবন কম খাওয়া, চিনিজাতীয় খাবার ও ফাস্ট ফুড পরিহার করে কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম করা ইত্যাদি নিয়মগুলো মেনে চললে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি কিডনি রোগের প্রকোপও কমে আসবে।

বৃহস্পতিবার কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের দুইদিনব্যাপি ১৬ তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদের সভাপতিত্বে এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব:) ডা. আব্দুল মালিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিস এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান। কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মুহিবুর রহমান সহ দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা কিডনি রোগ ও ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। কিডনি রোগের নানা দিক, ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসা, কিডনি অকেজো রোগীর দেহে মৃত ব্যাক্তির কিডনি সংযোজন সহ উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির কথাএ ভার্চুয়াল আলোচনায় উঠে আসে।

জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব:) আব্দুল মালিক বলেন, অসংক্রামক রোগের ভয়াবহতা বেশি। কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ—এই তিনটি রোগে একে অপরের যোগসূত্র রয়েছে। এই রোগগুলো থেকে মুক্তি পেলে জীবনের ঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো যায়। দুর্ভাগ্যজনক হলো, বাংলাদেশে ৫০-৬০ ভাগ মানুষ জানেই না যে তাদের ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ রয়েছে। ফলে তারা কখনো ডাক্তারের শরনাপন্ন হন না। যখন তারা ডাক্তারের শরনাপন্ন হন তখন দেখা যায়, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের কারনে তাদের কিডনির কার্যকারিতা ৭০-৮০ ভাগ নস্ট হয়ে গেছে। তখন আসলে কিছুই করার থাকেনা।

অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান বলেন, বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগী। এ রোগের বিস্তার রোধে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা ও ব্যায়াম করা ছাড়াও খাদ্যাভাস পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ, ফাস্টফুড পরিহার করতে পারলে ডায়াবেটিস বহুলাংশে রোধ করা যায়।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ বলেন, যখন কিডনির কার্যকারিতা কমে যায় তখন ক্রমান্বয়ে হৃদরোগও বৃদ্ধি পায়। কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকলে মাত্র ২ ভাগ কিডনি রোগী হৃদরোগের জটিলতায় ভোগে। কিন্তু কিডনির কার্যকারিতা ৮০ ভাগ কমে গেলে হার্ট অ্যাটাকের প্রবনতা ৪০ ভাগ বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়। এর মাত্র ২০ ভাগ রোগীর চিকিৎসা করার সুযোগ রয়েছে। বাকি ৮০ ভাগ রোগী চিকিৎসার অভাবেই মারা যায়। কেননা এই স্বল্পোন্নত দেশে প্রতি বছর ৪০ হাজার রোগীর ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন করা সম্ভব হয় না। সুতরাং কিডনি রোগ হাবার আগে প্রতিকার ও প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা