• ই-পেপার

বাম গণতান্ত্রিক জোটের স্বাস্থ্য কনভেনশন

জাতীয় স্বার্থে ‘সকলের জন্য স্বাস্থ্য’ মডেল তৈরির আহ্বান

কালের কণ্ঠের পাতায় বেনজীরের যত দুর্নীতি

অনলাইন ডেস্ক
কালের কণ্ঠের পাতায় বেনজীরের যত দুর্নীতি
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলে নোটিশ জারির পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। এসময় দ্রুত তাকে ফেরত আনা হবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাকে অতি দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

বেনজিরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থ পাচার) গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

বেনজীরের অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতি নিয়ে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ সর্বপ্রথম সংবাদ প্রকাশ করেছিল কালের কণ্ঠ। 'বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ' শিরোনামের ওই সংবাদে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি ফাঁস করেছিল কালের কণ্ঠ।

ওই সংবাদে উঠে আসে বেনজীরের প্রায় এক হাজার ৪০০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত 'সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড' এর তথ্য। এ ছাড়াও পুলিশের সাবেক এই প্রভাবশালী শীর্ষ কর্মকর্তা তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সেময় অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের নামে অন্তত ছয়টি কম্পানির খোঁজ পায় কালের কণ্ঠ।

এর পর কালের কণ্ঠের বর্তমান নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীর নেতৃত্বে অনুসন্ধানী টিম ধারাবাহিকভাবে বেনজীর ও তার পরিবারের নামে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার তথ্য প্রকাশ করে।

'বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট' শিরোনামে প্রকাশিত আরেক সংবাদে বেরিয়ে আসে 'ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা' নামের একটি রিসোর্টের মালিকানায় যুক্ত হন বেনজীর। ডিএমপি কমিশনার হিসেবে প্রভাবশালী হওয়ার সুবাদে রিসোর্টের ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা নেন তিনি।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ভাওয়াল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা সেসময় জানান, ভাওয়াল রিসোর্টের ভেতরে ও প্রবেশমুখে বন বিভাগের ৬.৭৩ একর জমি রয়েছে। অর্থাৎ বনের বিশাল এই জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ভাওয়াল রিসোর্ট। বন বিভাগের তথ্য মতে, ভাওয়াল রিসোর্টের দখল করা জমির মধ্যে রয়েছে ৪ নম্বর বরইপাড়া মৌজার ০৩, ২৭৯ ও ২৭১ নম্বর সিএস দাগে ১১ বিঘা।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, বেনজীরের ক্ষমতার দাপটে সবাই ছিলেন নির্বিকার, নিরুপায়।

'২৪০ বিঘা জমির মালিক বেনজীরের স্ত্রী' শিরোনামের আরেকটি প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মীর্জার আয়ের কোনো উৎস না থাকলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার নামে ২৪০ বিঘা জমি। রাতারাতি গৃহিণী থেকে ব্যবসায়ী বনে যাওয়া জীশান মীর্জার সম্পদের পরিমাণ স্বামীর চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ বেশি।

চাকরির শেষ তিন বছরেই কেনেন ৪৬৬ বিঘা জমি’ শিরোনামে আরো এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ। ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে বেনজীর আহমেদ পুলিশের সর্বোচ্চ পদে আসীনের পর পরিবারের সদস্যদের নামে কেনা হয় ৪৬৬ বিঘা জমি। ১৯টি প্রতিষ্ঠানে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে হয়ে যায় পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী পরিবার।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

অভিযোগপত্র বা চার্জশিট

দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেনজীর তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ গোপন করেছেন এবং তাঁর নামে অন্তত ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে।

আদালতের পরোয়ানা

অভিযোগপত্র গ্রহণের পর চলতি বছরের মার্চ মাসে ঢাকার একটি বিশেষ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর মে মাসে তাঁর অনুপস্থিতিতেই আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

২০২১ সালের ডিসেম্বরে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রেজারি বিভাগ র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

গত ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর বিশাল অবৈধ সম্পদের খতিয়ান গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান। ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোনো দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেয় আদালত।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের আইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার, দ্রুত ফেরানো হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার, দ্রুত ফেরানো হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে দুর্নীতির মামলায় বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাকে অতি দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো আবেদনের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। এই নোটিশের কার্যকারিতা বজায় রেখেই দুবাইয়ের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং স্থানীয় সময় অনুযায়ী গতকাল রাতে তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়। 

তবে এ বিষয়ে দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

গণমাধ্যম খাতের সংস্কার জরুরি: গোলাম পরওয়ার

অনলাইন ডেস্ক
গণমাধ্যম খাতের সংস্কার জরুরি: গোলাম পরওয়ার

গণমাধ্যম খাতে সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় নিত্যনতুন গণমাধ্যম গড়ে উঠছে, যা তথ্য ও সম্প্রচার খাতে স্বচ্ছতা ও নীতিমালা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কার নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে গণমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার মানের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি আরো বলেন, দলীয় স্বার্থে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। শুধু জুলাই সনদ নয়, সরকারের উচিত গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নীতিবহির্ভূত কনটেন্ট বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নীতিমালা থাকা জরুরি।

সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে গণমাধ্যমকে সীমিত করা হচ্ছে। দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কুয়েতকে বিনিয়োগে উৎসাহ

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কুয়েতকে বিনিয়োগে উৎসাহ

কুয়েত আমিরি দিওয়ানবিষয়ক মন্ত্রী শেখ হামাদ জাবের আল-আলী আল-সাবাহ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন।

সম্প্রতি হওয়া এই সাক্ষাৎ নিয়ে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পর্যালোচনা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, প্রতিরক্ষা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর আলোকপাত করা হয়।

তারা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী নিয়েও মতবিনিময় করেন এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রসারের লক্ষ্যে গৃহীত প্রচেষ্টার প্রতি উভয় পক্ষের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও সংহতির বন্ধনের ওপর জোর দেন এবং ১৯৭৪ সালে বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের একীভূতকরণে কুয়েতের মূল্যবান সমর্থনের কথা স্মরণ করেন। তিনি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য এবং সিরামিক পণ্যে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান রপ্তানি সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাই-টেক পার্কগুলোতে কুয়েতের বৃহত্তর বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেন। তিনি কুয়েতের উন্নয়ন চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ থেকে প্রকৌশলী, চিকিৎসক, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং নার্সসহ দক্ষ পেশাজীবীদের সরবরাহে জোর দেন।

কুয়েতের মন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারে দেশটির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ইতিবাচক অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি ১৯৯১ সালে কুয়েতের মুক্তির সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং বাংলাদেশ সামরিক কন্টিনজেন্টের অব্যাহত পেশাগত সহায়তার কথাও স্মরণ করেন।

তিনি বাংলাদেশের প্রতি কুয়েতের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জাতীয় স্বার্থে ‘সকলের জন্য স্বাস্থ্য’ মডেল তৈরির আহ্বান | কালের কণ্ঠ