kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারের বিচার করবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৩:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারের বিচার করবে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসটিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

ক্ষমতা থেকে চলে গেলে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারের বিচার করবে, আর এ ভয়েই তারা কৌশল করে চিরদিন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসটিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ এত দুর্নীতি ও খুন-গুম-হত্যা-অপকর্ম করেছে যে তারা ক্ষমতা ছাড়তে ভয় পাচ্ছে। আতঙ্কে প্রহর কাটছে তাদের।'

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা গায়ের জোরে আজীবন ক্ষমতায় থাকার দুরভিসন্ধি পূর্ণ করতে চাচ্ছেন। এখন তার দলের নেতারা প্রকাশ্যে তাদের নেত্রীর অভিলাষের কথা বলে বেড়াচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ গত শনিবার এক বৈঠকে বলেছেন– ‘শেখ হাসিনা যত দিন শারীরিকভাবে সক্ষম থাকবেন, তত দিন তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকবেন।' এর আগে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন– ‘আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন শেখ হাসিনা।' খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন– 'শেখ হাসিনা আমৃত্যু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।' হানিফ সাহেবরা ভোট রঙ্গ করে শেখ হাসিনাকে কেন আজীবন ক্ষমতায় রাখতে চান, তা খুব ভালো করে জানে দেশের মানুষ। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থেকে তাদের এ ধরনের বক্তব্য অসাংবিধানিক ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। দেশে যে একদলীয় বাকশাল কায়েম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, তাদের বক্তব্যে সেটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

বিচারক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রাজপথে নামার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিচারকদের অন্য কোনো চেতনা থাকতে পারে না, তাদের একটি মাত্র চেতনাই থাকা দরকার, সেটি হলো ন্যায়বিচার। নাগরিক সমাজে বিবদমান নানা পক্ষের মানুষ বিবাদ মীমাংসার জন্য আদালত ও প্রশাসনেরই শরণাপন্ন হয়। তাঁরাই যদি কোনো এক পক্ষ নিয়ে রাস্তায় নামেন তাহলে অন্য পক্ষের কথা কে শুনবে? তাহলে ন্যায়বিচার বলে তো কিছু থাকবে না। একদলীয় শাসনে যেমন একদলীয় চেতনাই রাষ্ট্রের সবখানে প্রতিফলিত হয়, সেটিরই প্রতিচ্ছবি দেখা গেল বিচারক ও প্রশাসনের ব্যক্তিদের রাজপথে নামার মধ্য দিয়ে।’

তিনি বলেন, ‘একটি সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে তাদের পবিত্র দায়িত্ব সংবিধান সমুন্নত রাখা। সরকার যদি মনে করে, দেশে কোনো নাগরিক সংবিধানবিরোধী কাজ করছে, তাহলে সংবিধান সমুন্নত রাখতে তাদের আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেটি না করে তারা কী দাবি নিয়ে রাজপথে নামলেন?  জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার বিরুদ্ধে মাঠে নামলেন? কার কাছে দাবি জানালেন? কাকে হুমকি দিলেন? কাকে প্রতিপক্ষ বানালেন?'

লুটপাটের জন্য শেখ হাসিনাকে তারা আজীবন ক্ষমতায় রাখতে চান মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ক্ষমতা থেকে চলে গেলে লুটপাট-অপকর্মের মচ্ছব বন্ধ হয়ে যাবে। ভাগেযোগে দেশটাকে লুটেপুটে নিয়ে কানাডায় বেগমপাড়া, আমেরিকায় সাহেবপল্লী, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম, লন্ডন, ইউরোপ, দুবাইতে তাদের অর্থপাচার বন্ধ হয়ে যাবে। তারা জানে, শেখ হাসিনা যত দিন থাকবে, তত দিন অবাধে লুটপাট করা যাবে। তাই যেকোনো উপায়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে চান তাঁরা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা