kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

৯ ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবসে খুলনা যাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৬:৫২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৯ ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবসে খুলনা যাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

ফাইল ফটো

আগামী ৯ ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচীতে অংশ নিতে খুলনা যাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি খুলনার জেলার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহাসিক যুদ্ধক্ষেত্র কপিলমুনিতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স কাজের উদ্বোধন করবেন।

আজ সোমবার সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর পিআরও সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান, সফরকালে মন্ত্রীর সঙ্গে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা জানান, কপিলমুনি মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী কপিলমুনি স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পন, যুদ্ধক্ষেত্র ও রাজাকার ক্যাম্প (রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর) বাড়ি পরিদর্শন। এরপর বেলা ৩টায় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির মাঠে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করবেন। এরআগে কপিলমুনির পাশ্ববর্তী মাহমুদ কাটিতে অনির্বাণ লাইব্রেরি পরিদর্শন যাবেন। বিকেল সাড়ে ৫টায় খুলনার ডুমুরিয়ায় চুকনগর স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

উল্লেখ্য, টানা চারদিন যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিলো রাজাকার বাহিনী। যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা আটক করেন ১৫৫ জন রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীকে। রাজাকার ঘাঁটি থেকে উদ্ধারকৃত বিভিন্ন কাগজপত্রের সাথে পাওয়া যায় রাজাকারদের হাতে লেখা এক হাজার ৬০১ জন শহীদের তালিকা। পরবর্তী টার্গেট হিসেবে এলাকার সহস্রাধিক বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের তালিকা পাওয়া যায়। আর পাওয়া যায় দেয়ালে পেরেকবিদ্ধ সৈয়দ আলী গাজীর ঝুলন্ত মৃতদেহ। এই খবরে ফুঁসে ওঠে এলাকার আমজনতা। পাশ্ববর্তী কপিলমুনি হাই স্কুল মাঠেই বসে জনতার আদালত। গণআদালতের রায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৫১ জন রাজাকারের। মুক্তিযুদ্ধকালে গণআদালতের রায়ের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার ঘটনা খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলাধীন কপিলমুনিতেই ঘটনাটি একটি উদাহরণ। অথচ স্বাধীনতা যুদ্ধের এই ঐতিহাসিক ঘটনার যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি। সেখানকার স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দেয়ালে পেরেকবিদ্ধ সৈয়দ আলী গাজীর পরিবার ও সকলের পরিচিত গুরুদাসি মাসিরা আজো অবহেলিত। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার কপিলমুনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং গণআদালতের রায় কার্যকরের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এই কর্মসূচী নিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা