kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

জাবিতে নতুন পদ্ধতিতে স্নাতক চূড়ান্ত পর্বের মূল্যায়নের প্রস্তাব

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৬:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাবিতে নতুন পদ্ধতিতে স্নাতক চূড়ান্ত পর্বের মূল্যায়নের প্রস্তাব

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। শুধুমাত্র চূড়ান্ত পরীক্ষা না হওয়ায় দীর্ঘ সেশনজট ও চাকরির আবেদন করতে পারছেন না তারা। চাকরির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রদানের দাবিতে আন্দোলনে নামেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ‘নতুন পদ্ধতিতে’ মূল্যায়ন করে স্নাতক চূড়ান্ত পর্বের শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদানে চিন্তা করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রস্তাবিত নতুন এ পদ্ধতিতে স্নাতক চূড়ান্ত পর্বের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বর্ষের ৫০ শতাংশ নম্বর মূল্যায়ন হবে ক্লাস পরীক্ষা, উপস্থিতি, অনলাইনে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে। আর বাকি ৫০ শতাংশ নম্বর মূল্যায়ন হবে পূর্ববর্তী তিন বর্ষের বা সাত সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রাপ্ত সিজিপিএ থেকে।

গত শনিবার (৫ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সভায় এ প্রস্তাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। যদিও প্রস্তাবনাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পরীক্ষা সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কমিটি, ডিন কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা কথা রয়েছে।

এর আগে গত ৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ সদস্য বিশিষ্ট ‘টেকনিক্যাল কমিটি’ গঠন করে। এই কমিটি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা একাডেমিক কাউন্সিলে পেশ করে যার মধ্যে এ পদ্ধতিটি একটি। একাডেমিক কাউন্সিল এ প্রস্তাবনাগুলো যাচাই বাছাই করে আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

টেকনিক্যাল কমিটির প্রস্তাবনা হলো- পূর্বের নিয়মে ক্লাস উপস্থিতি ও টিউটোরিয়াল থেকে ৩০ নম্বর এবং অনলাইনে ২০ নম্বরের ভাইভা নেওয়া হবে। এছাড়া পূর্ববর্তী বর্ষ/সেমিস্টার পর্যন্ত প্রাপ্ত জিপিএ হতে ৫০ নম্বর। যা ৩য় বর্ষ/৭ম সেমিস্টার পর্যন্ত প্রাপ্ত জিপিএ-কে নম্বরে রূপান্তর করে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হবে। এভাবে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাবনা একাডেমিক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া যাদের ৪র্থ বর্ষের কিংবা ৮ম সেমিস্টারের কিছু কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে তাদের বিষয়েও আলাদা একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

এসব প্রস্তাবনা যদি কিছু পরিবর্তন পরিমার্জন করা লাগে তাহলে টেকনিক্যাল কমিটি ও ডিন কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থার করার কথা জানিয়েছে একাডেমিক কাউন্সিল। 

টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক হফিজুর রহমান বলেন, ২০ নম্বরের ভাইভা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোর্স শিক্ষক ও একজন বহিঃস্থ শিক্ষক উপস্থিত থেকে মূল্যায়ন করবেন। এ ছাড়া চতুর্থ বর্ষের ৫০ নম্বরের ভাইভাটি অনলাইনে পরীক্ষা কমিটি সম্পন্ন করবেন। যারা তৃতীয় বর্ষের দু’একটি কোর্সে উত্তীর্ণ হতে পারেনি তাদের চতুর্থ বর্ষের ফলাফল উইথেল্ড থাকবে। পরবর্তীতে ওসব কোর্সে উত্তীর্ণ হলে তবে তার স্নাতকে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এদিকে এমন প্রস্তাবনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। শিক্ষার্থীদের এক পক্ষ এমন প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানালেও অপর পক্ষ বলছেন, ‘এ পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করলে কোন শিক্ষার্থীই চতুর্থ পর্বে কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করতে পারবে না। বিগত তিন বর্ষের প্রাপ্ত ফলাফলের গড় থেকে ৫০ শতাংশ নম্বর নেওয়ার যে গাণিতিকি হিসেব সেখানে কিছুটা গড়মিল রয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করে গণিত বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রশাসনের ফরমুলা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী যদি সিজিপিএ ৪.০০ এ ৪.০০ ও পায় তাহলেও সে ৫০ এ ৪০ পাবে। এর অর্থ দাঁড়ায় একজন সর্বোচ্চ রেজাল্ট নিয়েও ১০ নম্বর কম পাচ্ছে। এই ১০ নম্বর তাহলে কোথায় গেলো? আমাদের যাদের রেজাল্ট খারাপ তাদের এই নম্বর আরো কমে ৩০-৩৫ অথবা আরো কম হতে পারে। আর এমন হলে তো আমরা কোন কোর্সে ই এ+ পাবো না।’

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন (প্রশাসন) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টেকনিক্যাল কমিটি এই প্রস্তাবটি দিয়েছে। সেটার উপরে একাডেমিক কাউন্সিলে ব্যাপক আলাপ আলোচনা হয়েছে এবং বহু নতুন প্রস্তাবনা, সাজেশান হয়েছে এবং দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই সাজেশনগুলি বিচার বিবেচনা করে প্রশাসন, টেকনিক্যাল কমিটি ও ডিন কমিটি বসে চূড়ান্ত করবে। এটি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। একাডেমিক কাউন্সিল বলছে যেভাবেই হোক চতুর্থ বর্ষকে বের করে দিতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা