kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

অ্যান্টিজেনে উৎসাহে ভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অ্যান্টিজেনে উৎসাহে ভাটা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে গত শনিবার শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা। আপাতত এ কার্যক্রম চলছে ১০ জেলায়। অ্যান্টিজেন পরীক্ষা নিয়ে মানুষের মধ্যে আগে ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল থাকলেও চালুর পর সেই অনুপাতে সাড়া মিলছে না। বরং প্রস্তুতির চেয়ে গত দুই দিনে পরীক্ষা হয়েছে অনেক কম। এ রকম বাস্তবতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের অন্য এলাকায়ও চালু করতে যাচ্ছে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা।

যেসব এলাকায় আরটি-পিসিআর ল্যাব নেই এবং যেখানে সংক্রমণের হার বেশি, সেসব এলাকায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষা কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সারা দেশে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালুর প্রক্রিয়া হিসেবে এ সপ্তাহেই টেকনোলজিস্টদের আরেক দফা প্রশিক্ষণ শুরু হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে শনিবার থেকে শুরু হওয়া ১০ জেলায় পরীক্ষা নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আগের ঘোষণা অনুযায়ী, পরীক্ষার ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যে ফল জানিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই তা জানতে না পেরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন বিশৃঙ্খলার।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশে করোনা অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালু হয়েছে, যা করোনা মোকাবেলায় আরেক মাইলফলক।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘১০ জেলায় আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা এখন সারা দেশে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরুর জন্য কাজ করছি। ডিসেম্বরের মধ্যেই সব জায়গায় এই পরীক্ষা শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।’

ড. ফ্লোরা বলেন, ‘অ্যান্টিজেন পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি হচ্ছে। কিন্তু কেন এটা হচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা আগেই বলে দিয়েছি যাদের ফল পজিটিভ আসবে শুধু তাদের রিপোর্ট সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হবে। আর যাদের নেগেটিভ ফল আসবে তাত্ক্ষণিক তা প্রকাশ না করে নমুনা ও রিপোর্ট ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠাতে হবে।’

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের কাছে নমুনা ও রিপোর্ট আসার পর আমরা তা আরটি-পিসিআরে আবার পরীক্ষা করার পর যে ফল আসবে তা ফেরত পাঠাব। অর্থাৎ প্রথম দফায় যাদের ফল পজিটিভ আসবে তারা করোনা আক্রান্ত বলে প্রমাণ মিলবে। কিন্তু যাদের ফল নেগেটিভ আসবে তাদের ফলস নেগেটিভ হওয়ার ঝুঁকি থেকে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা। এ জন্যই নেগেটিভ ফল আবার আরটি-পিসিআরে পরীক্ষা করে ফল নিশ্চিত করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় দুই-তিন দিন সময় লেগে যেতে পারে।

ঢাকার বাইরের চিত্র : সিলেটে গত দুই দিনে মাত্র ২৫ জন অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জনের ফল পজিটিভ এসেছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, নতুন এই পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে না জানার কারণে অনেকে আসছেন না।

যশোরে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরুর দ্বিতীয় দিন গতকাল একজনের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির ফল নেগেটিভ আসে। শুরুর দিন শনিবার তিনজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। ওই তিনজনের ফলও নেগেটিভ ছিল।

মুন্সীগঞ্জে প্রথম দিন ১২ জনের অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় সাতজনের করোনা শনাক্ত হয়। রবিবার ১০ জনের পরীক্ষায় দুজনের করোনা শনাক্ত হয়।

জয়পুরহাটে ১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনের পজিটিভ এবং ১৫ জনের নেগেটিভ ফল পাওয়া গেছে।

পটুয়াখালীতে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য একজন চিকিৎসকসহ তিনজন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। মেহেরপুরে তিনজনের পরীক্ষা করানো পজিটিভ হয়েছে। তিনজনের ফল নেগেটিভ আসে।  গাইবান্ধায় গতকাল ২২ জনের মধ্যে পাঁচজনের করোনা শনাক্ত হয়। পঞ্চগড়ে প্রথম দিন মাত্র তিনজন অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করিয়েছে। এর মধ্যে একজনের করোনা ধরা পড়ে। গতকাল পরীক্ষা হয়েছে সাতজনের। তাদের সবারই করোনা নেগেটিভ এসেছে।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সিলেট অফিস, যশোর, মুন্সীগঞ্জ, জয়পুরহাট, পটুয়াখালী, মেহেরপুর, গাইবান্ধা ও পঞ্চগড় প্রতিনিধি)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা