kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

টিকার সঙ্গে আলোচনায় অ্যান্টিবডি পরীক্ষা

তৌফিক মারুফ   

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টিকার সঙ্গে আলোচনায় অ্যান্টিবডি পরীক্ষা

করোনা মহামারি মোকাবেলায় সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও আলোচনার কেন্দ্রে এখন বিভিন্ন কম্পানির ভ্যাকসিন বা টিকা। এর সঙ্গে আলোচনায় ফিরে এসেছে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার বিষয়টিও। বিশেষ করে টিকা দেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছি কি না বা কতটা হয়েছে তা দেখার জন্য এই পরীক্ষাটা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। আর সেদিক বিবেচনায় নিয়ে সরকারের তরফ থেকে টিকা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তৈরি হচ্ছে অ্যান্টিবডি টেস্টের ব্যবস্থাপনাও। এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সরকারকে এফডিএ অনুমোদিত অ্যান্টিবডি টেস্টিং কিট সরবরাহের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে তা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগও শুরু হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে দেখা হচ্ছে ওই জনগোষ্ঠীর কত শতাংশ এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

করোনা মোকাবেলায় সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য, ভাইরোলজির অধ্যাপক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সেরো সার্ভেইল্যান্সের জন্য র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট চালুর পরামর্শ দিয়েছি। ভুল বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর শঙ্কা থেকে হয়তো সরকার র‌্যাপিডে যেতে চায় না। কিন্তু সেরো সার্ভেইল্যান্সের মাধ্যমে র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি করলে সমস্যা নেই। আর সরকার এখনো এটা না করলে সামনে আরেক সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে টিকা দেওয়ার পর সবার মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হবে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলো কি না তা দেখার জন্য। আর মানুষ তখন সেটা করতে না পারলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে সরকারকে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘টিকা দেওয়ার পর তা শরীরে কতটা কাজ করল সেটা আমরা দেখব অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে। যদিও যারা টিকা তৈরি করছে তারা এগুলো দেখেই ফল পর্যালোচনা করছে। তবু আমাদের দেশের মানুষের শরীরের অবস্থা আমরা আলাদা করে গবেষণার মাধ্যমে দেখতে চাই। কারণ অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে বা জনগোষ্ঠীর মধ্যে তারতম্য ঘটতে পারে। আমাদের টিকার পরিকল্পনার ভেতরে অ্যান্টিবডি টেস্টের পরিকল্পনা রাখিনি। তবে আলাদা করে গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। সেটা অ্যালাইজা পদ্ধতিতে হবে।’

বিষয়টি নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘টিকার দিকে নজর রেখেই আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা প্রয়োগ-পরবর্তী সার্ভেইল্যান্সের আওতায় অ্যান্টিজেন টেস্টের জন্য। এ ক্ষেত্রে এটা হয়তো সর্বজনীন নাও হতে পারে। এ ছাড়া প্রাইভেট সেক্টরে কেউ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা এফডিএ অনুমোদিত কোনো অ্যান্টিজেন টেস্ট কিট আনতে চাইলে তাও অনুমোদনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় থাকবে।’

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, টিকা-পরবর্তী অ্যান্টিবডি টেস্টের জন্য কিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত চার-পাঁচটি গ্রহণযোগ (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা এফডিএ অনুমোদিত) কিট বাছাই করা হয়েছে। এখন এর কার্যকারিতা পরীক্ষার কাজ চলছে। সে অনুয়ায়ী চাহিদাপত্র তৈরি শেষে সংগ্রহ করা হবে।

সূত্র আরো জানায়, এরই মধ্যে আইইডিসিআরের হাতে কিছু কিট জমা হয়েছে। আমদানিকারকরা কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য এগুলো নমুনা হিসেবে জমা দিয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের মধ্যে অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু করেছে। ওই কার্যক্রমে উদ্বৃত্ত থাকা প্রায় ছয় হাজার কিট সরকারকে দেবে গবেষণার জন্য। এ ছাড়া সরকার টিকা-পরবর্তী অ্যান্টিবডি টেস্ট পরিকল্পনার আওতায় চাহিদা ঠিক করে সে অনুসারে সংগ্রহ করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা