kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কালের কণ্ঠ-চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি গোলটেবিল

মহামারিতে শিশুদের সুরক্ষায় সমন্বিত প্রয়াস জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহামারিতে শিশুদের সুরক্ষায় সমন্বিত প্রয়াস জরুরি

করোনাভাইরাস মহামারির কবলে পড়ে শিশুরা বহুমুখী বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় সবার সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি। গতকাল শনিবার দৈনিক কালের কণ্ঠ ও চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘করোনা পরিস্থিতিতে শিশু অধিকার ও সুরক্ষা’ শীর্ষক ডিজিটাল গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এমন মতামত দেন। 

ভার্চুয়াল এ গোলটেবিল বৈঠকে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘করোনাকালে শহরের শিশুরা অনলাইনে ক্লাসসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলেও গ্রামের শিশুরা বেশ কিছু ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে। শিশু সুরক্ষায় স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পরিচর্যার বিষয় আছে। এসব দিকেই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। গত আট-নয় মাসে শিশুরা তেমন স্পেস পায়নি। এ জন্য তারা মানসিক সমস্যার মুখে পড়ছে। শিশুর এই মানসিক বিকাশ সাধনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা ছাড়া শিশুদের অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব নয়।’ 

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার বলেন, বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাংস্কৃতিক কিছু কর্মসূচি ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় কিশোর-কিশোরীদের মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে করোনা মোকাবেলায় সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা রোধ করতে তাদের শারীরিক যত্ন ও প্যারেন্টিং ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক জ্যোতি লাল কুরী বলেন, ‘আমাদের দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক শিশু। এ জন্য আমাদের শিশুদের নিয়ে ভাবতে হবে ও কাজ করতে হবে। শিশু মননের বিকাশ সাধনে কাজ করতে হবে। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আমরা অনলাইনে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শিক্ষাক্ষেত্রে শিশুরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি তাদের মনোজগতেও পরিবর্তন এসেছে। এ জন্য আমরা মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের অধীনে শিশুদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য কাজ করছি।’

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শিশু ও সমন্বয় উইংয়ের যুগ্ম সচিব মো. মহিবুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিক মূল্যবোধের জায়গাটিতে। যদি এই জায়গাটি ঠিক করতে পারি, তাহলে পারিবারিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। শিশুর প্রতি দায়িত্ব ও তাদের প্রতি ভালোবাসার জায়গাটা যদি ঠিক রাখতে পারি এবং সোচ্চার হতে পারি, তাহলে এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব।’ 

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রকল্প সমন্বয়ক নুয়ারা শফিক দিশা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কালের কণ্ঠ’র ডেপুটি চিফ রিপোর্টার তৌফিক মারুফ।

এ ছাড়া ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক  তামান্না মৌ,   প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল  বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অরলা মারফি, অ্যাকশএইড বাংলাদেশের চাইল্ড স্পন্সরশিপ ব্যবস্থাপক মনিকা বিশ্বাস,  আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল, এডুকো বাংলাদেশের চাইল্ড লেবার স্পেশালিস্ট আফজাল কবির খান, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সমন্বয়ক নাসিমা আক্তার জলি, অ্যাকশনএইডের কমিউনিটি জার্নালিস্ট মনিরা, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা মো. কামাল হোসেন, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের চাইল্ড পার্লামেন্টের স্পিকার মরিয়ম আক্তার জিম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সঞ্জয় মণ্ডল প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা