kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনাকালে প্রকট হয়েছে শিক্ষায় বৈষম্য

গ্রামে কম্পিউটার আছে মাত্র ২.৮২ শতাংশ: সানেম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ২১:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রামে কম্পিউটার আছে মাত্র ২.৮২ শতাংশ: সানেম

শিক্ষা খাতে যে বৈষম্য ছিল, তা করোনাকালে আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম। সংস্থাটি বলছে, এতে ‘ইন্টারজেনারেশনাল লার্নিং গ্যাপ’ সৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত ‘যুব এবং লিঙ্গভিত্তিক ইস্যুগুলো মহামারীর আলোকে পাঁচশালা পরিকল্পনায় প্রতিফলন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তাদের করা এক গবেষণায় এসব তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

সানেমের গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের মাত্র ৪.৬৯ শতাংশ বাড়িতে (খানা বা হাউসহোল্ড) কম্পিউটার বা ল্যাপটপ সুবিধা রয়েছে, শহরাঞ্চলে এ হার ১২.৪৭ শতাংশ এবং গ্রামে ২.৮২ শতাংশ।  অন্তত একবার কম্পিউটার ব্যবহার করেছেন এমন নারী জনগোষ্ঠীর হার ৪ শতাংশ, যা শহরাঞ্চলে ১০ শতাংশ এবং গ্রামে ২ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা খাতে জেন্ডার, অঞ্চল ও আয়ভেদে আগে থেকে বিদ্যমান বৈষম্য মহামারির কারণে আরো বাড়বে। এ ক্ষেত্রে আগামী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষাতে বৈষম্য হ্রাস, শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়া কমানো, কারিগরী শিক্ষার গুরুত্ব বহুগুণে বাড়ানো, কারিকুলামের আধুনিকায়ন হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।

সংস্থাটির গবেষণা আরো বলা হয়েছে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেকারত্বের হার ১০.৭ শতাংশ যা বিশ্বব্যাংকের গবেষণা অনুসারে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় ৩০ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ কোনটিতেই নেই। এক্ষেত্রে আগামী পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় তরুণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, শ্রম বাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভাচুয়াল আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমাদের যে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করতে হবে এর কোনও বিকল্প নেই। তবে আমাদের যে প্রযুক্তি এবং জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এটারও উন্নয়নে আমাদের কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, দেশের তুলনামূলক উন্নয়নের বাস্তব চিত্র দেখলে আমি আন্দোলিত হই। মাত্র দশ বছর আগে হাওড়ের যে অবস্থা ছিল, এখন সেই পরিস্থিতি নেই। ওই এলাকার গ্রমগুলো অনেক এগিয়ে  গেছে। এটা যখন দেখি আমি আনন্দিত হই।’ তবে এতেই সন্তুষ্ট না হয়ে দেশের মানুষের উন্নয়নে আরও কাজ করার তাগাদা অনুভব করার কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।
সানেমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক সায়েমা হক বিদিশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ মহামারী বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই মহামারী কতটুকু চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে সে বিষয়ে আমরা কেউ নিশ্চিত নই। অনেকে এ বিষয়ে নানা রকম তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে উপযুক্ত একটি মূল্যায়ন দরকার। মূল্যায়নটা যদি যথাযথ না হয় তাহলে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার যেসব কর্মসূচি নেওয়া হবে সেই কর্মসূচিগুলো ঠিক বাস্তবসম্মত হবে না বলে আমার মনে হয়।’

সানেমের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইশরাত শারমিন বলেন, ‘আমাদের জনমিতিক সুবিধা পুরোপুরি নিতে হলে আমাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আয়, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও লিঙ্গ বৈষম্য  ঘোচাতে হবে।’

ভার্চুয়াল সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কারিগরী শিক্ষা অধিদফতরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক প্রকৌশলী জাহঙ্গীর আলম, ব্র্যাকের পরিচালক নবনীতা চৌধুরী, সহজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা এম কাদির।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা