kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস উদযাপন

জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৯:২১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান

বাংলাদেশের এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বেচ্ছাসেবাকে উৎসাহ প্রদানে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় জাতীয় স্বেচ্ছাসবক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করবে আশ্বস্ত করলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বেচ্ছাসেবা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

বিশ্বব্যাপী স্বেচ্ছাসেবার চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং স্বেচ্ছাসেবার উৎসাহদান ও প্রচারে ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস (আইভিড) হিসেবে উদযাপন করা হয়। এ দিবসটি উদযাপনে এ বছর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এমএলজিআরডিসি), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ওয়াটারএইড এবং ইউএনভি বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বেচ্ছাসেবা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এদিন ‘আইভিডি বাংলাদেশ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ শীর্ষক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর এ উদ্যোগের প্রতিপাদ্য ছিলো – ‘ভলান্টিয়ার ফর কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি।’

কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক মহামারির কারণে বিশ্বজুড়েই মানুষ এক অভুতপূর্ব হুমকির সম্মুখীন। প্রতিদিনই পৃথিবীব্যাপী লাখ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন, যার কারণে এখনও বৈশ্বিকভাবে মানুষ আগের জীবনে ছন্দে ফিরে আসতে পারছে না। এক্ষেত্রে, এ অতিমারি প্রতিরোধে বিশ্বজুড়েই স্বেচ্ছাসেবকরা সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিবেদিত এ স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এ কাজ করছেন। ওয়াটারএইড বাংলাদেশ, এমএলজিআরডিসি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং ইউএনভি বাংলাদেশ ‘আইভিডি বাংলাদেশ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ এর মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বেচ্ছাসেবকদের সাহসী প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে এসেছে। বিজয়ীদের এক লাখ টাকা পর্যন্ত নানা অ্যামাউন্ট দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। আবেদন পত্রগুলোর মধ্য থেকে কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়।

বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস’-এ আয়োজকরা স্বেচ্ছাসেবার চেতনা প্রচারে কাজ করার পাশাপাশি যারা নিবেদিতভাবে তাদের কমিউনিটি ও দেশের মঙ্গলে কাজ করেন তাদের নানাভাবে সম্মানিত করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, এম‌পি বলেন, ‘১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী গ্রহণ করা হয় এবং বাংলাদেশই এ কর্মসূচীর নেতৃত্ব দেয়। যেকোন দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আমরা সবসময়ই অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে গেছি। এবং আমাদের এই প্রচেষ্টা বৈশ্বিক মহামারীর সময় আরো একবার সবার নজরে এসেছে। করোনাভাইরাসের সময় স্বেচ্ছাসেবীরা হাত ধোয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অনবরত কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে, জাতি হিসেবে আমরা সুচারুভাবে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম হচ্ছি।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমরা মাদার তেরেসাকে সেবাদানের মাধ্যমে শতশত জীবন বদলে দিতে দেখেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি অনুপ্রেরণা হতে পারেন।’

জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘এ যাবতকালে বাংলাদেশের সেচ্ছাসেবকগণ সমগ্র বিশ্বে তাদের যে নিঃস্বার্থ শ্রম দিয়ে গেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। তবে উন্নতির সুযোগ বা অবকাশ শেষ হয়ে যায়নি, বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে নিজ স্বেচ্ছাসেবীদেরকে আরও যোগ্য আর দক্ষ করে তোলার। বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশের সেচ্ছাসেবকদের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী, আর তাই অচিরেই বাংলাদেশ এই খাতে আর্থিক ও কাঠামোগতভাবে আরও সমৃদ্ধ হতে যাচ্ছে। এই জনশক্তির সর্বোচ্চ উপযোগীতা আহরণ করতে পারলে অচিরেই বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকগণ গোটা বিশ্বের সামনে উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবেন, এবং আগামীর কঠিনতর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার সাহস অর্জন করবেন।’

ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির শুরু থেকেই মানবসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেদের কমিউনিটি নিরাপদ ও গতিশীল রাখতে স্বেচ্ছাসেবীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। দেশ ও জনগণের জন্য তাদের এ প্রচেষ্টার স্বীকৃতিদানেই এ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।’

ইউএনভি বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর আখতার উদ্দিন বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবা দান একটি মহতী কার্যক্রম, যার স্পৃহাকে জাগিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ারস ডে-র মত দিবস সমূহ পালিত হয়। বিশ্বব্যাপী সকল আত্মত্যাগী সেচ্ছাসেবকদের অনুপ্রেরণা যোগাতে এবং তাদের একতাকে

সুসংহত করতে এমন উদ্যোগ সমূহের বিকল্প নেই। একতাই সেচ্ছাসেবীদের মূল শক্তি। আগামীর পৃথিবীর জন্য একটি টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্তভাবে কাজ করে যেতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকেই সর্বোচ্চ সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক জাতিসংঘের জন্য কাজ করছে, এবং আমি এজন্য অত্যন্ত গর্বিত।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আখতার হোসেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী, প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের পিপিপিএ সিইও সচিব সুলতানা আফরোজ, টেকনিক্যাল ও মাদ্রাসা শিক্ষার সচিব আমিনুল ইসলাম খান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আখতারুজ জামান খান কবীর।

এদিন অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশনে ‘ভলান্টিয়ার্স কন্ট্রিবিউশনস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড নিড অব ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার পলিসি’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা স্বেচ্ছাসেবার সুগঠিত নীতিমালা প্রণয়ন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের ডাটাবেজ, নিরাপত্তা, স্বীকৃতি ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরে আলোকপাত করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা