kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা, স্বদেশ ওভারসীজের লাইসেন্স বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৮:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা, স্বদেশ ওভারসীজের লাইসেন্স বাতিল

ফাইল ফটো

গত বছর হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে বেসরকারি হজ এজেন্সি স্বদেশ ওভারসীজ (হজ লাইসেন্স নং-১৫৩১)-এর জামানত বাজেয়াপ্তসহ লাইসেন্স বাতিল করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ওই এজেন্সির বিরুদ্ধে চার হজযাত্রী অভিযোগ দায়ের করেন যে, তারা পবিত্র হজ পালনের জন্য স্বদেশ ওভারসীজের মাধ্যমে নিবন্ধন করেন। স্বদেশের মালিক খাইরুল ইসলাম ঠাকুর শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের হিসাব নম্বর প্রদান করলে ওই হিসাবের মাধ্যমে এবং নগদ টাকা প্রদান করা হয়। মানি রিসিট চাইলে সে বলে তার প্রয়োজন নাই। হজযাত্রীদের কাছ থেকে জমজম বা হিলটনের সিটের টাকা নিয়েও মক্কায় গিয়ে তারা দেখেন, ৬/৭ কিলোমিটকার দূরে রিয়া জ্যাকের নামক জায়গার বাড়িতে উঠানো হয়। এতে তারা অনেক কষ্ট ও বিড়ম্বনার শিকার হন। মোয়াল্লেম ফি ৭৫৬ এর স্থলে ১২৫৬ সৌদি রিয়াল আদায় করা হয়েছে। প্রতি টিকিটের জন্য ৯ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে।

এছাড়া মক্কা ট্যুরস অ্যান্ড ট্যাভেলস (হজ লাইসেন্স নম্বর-৯৫), মো: মাসুদুর রহমান ও মাহমুদ হোসেন, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক অভিযোগ দাখিল করা হয় যে, মক্কা ট্যুরস অ্যান্ড ট্যাভেলস (হজ লাইসেন্স নম্বর-৯৫) এজেন্সির স্বত্বাধিকারী এম এ রশিদ সম্রাট কর্তৃক সমন্বয়ের ব্যবস্থাকরণের প্রতিশ্রুতি/আশ্বাসের বিপরীতে স্বদেশ ওভারসীজের স্বত্বাধিকারী মো: খাইরুল ইসলামের নামে বিরতরণকৃত বিনিয়োগ সুবিধা অদ্যাবধি সমন্বয় করা হয়নি।

এতে আরও বলা হয়, স্বদেশ ওভারসীজসহ মোট ৫টি এজেন্সির বিরুদ্ধে হজ অফিসের পরিচালক বরাবর অভিযোগ করা হয় যে, ভিসা ও টিকিট সম্পন্ন না করেই তারা হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের নিয়ে আসে। হজ ক্যাম্পে ৮/১০ দিন অবস্থান করার পর তাদের ভিসা, টিকিট ও পাসপোর্ট প্রদান করা অথবা প্রদান না করে লাপাত্তা হয়ে যায়। ফলে হজযাত্রীদের মধ্যে ভয়, অসন্তোষ এবং হজে গমনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। হজযাত্রীদের টিকেট প্রদান না করে এজেন্সির মালিক/প্রতিনিধি সৌদি আরব চলে যাওয়ায় ঢাকা হজ অফিস হতে নগদ টাকা দিয়ে বিমান টিকিট সংগ্রহ করে হজযাত্রী প্রেরণ করা হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি স্বদেশ ওভারসীজকে শোকজ নোটিশ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই নোটিশের জবাবে যে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় তা সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। ওই কমিটির শাস্তির সুপারিশের ভিত্তিতেই জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি ২০১৯ এর ২৪ দশমিক ২ (খ) অনুযায়ী অভিযুক্ত এজেন্সিটির জামানত বাজেয়াপ্তসহ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, একইসঙ্গে আরও বেশ কিছু বেসরকারি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আল-আমিন ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্টকে (হজ লাইসেন্স নম্বর-১৩৪০) শোকজ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা