kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাইয়ের বাড়ির উইল, ৪ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৬:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাইয়ের বাড়ির উইল, ৪ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই মরহুম বিমান চালক মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের গুলশানের বাড়ি কোনো বিদেশী নাগরিককে উইল করে দিতে পারে কী না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের আইনি অভিমত জানতে সুপ্রিম কোর্টের চার সিনিয়র আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার অ্যামিকাস কিউরি হলেন- সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, সিনিয়র আইনজীবী কামাল-উল-আলম, মো. নুরুল আমিন ও কামরুল হক সিদ্দিকী।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহষ্পতিবার এ আদেশ দেন।

স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৮৭২ অনুসারে কোনো মুসলিম কোনো হিন্দু নারীকে বিয়ে করতে পারে কিনা এবং স্ত্রী হিসাবে ভারতীয় নাগরিক আঞ্জু কাপুরকে জগলুল ওয়াহিদের সম্পূর্ণ বাড়ি উইল করার আইনগত ভিত্তি আছে কীনা সেবিষয়ে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।

আগামী ১২ জানুয়ারি এ মামলায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিন পর্যন্ত দুই বোনকে নিরাপত্তা দিতে গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংকে মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের অ্যাকাউন্ট থাকলে এবং দুইপক্ষ কোনো স্টেটমেন্ট চাইলে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার তা দিবেন। পরে দুইপক্ষ তা আদালতে দাখিল করবেন। এছাড়া সিটি ব্যাংকের ফাইল আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে দুই মেয়ের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। আঞ্জু কাপুরের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মাসুদ আর সোবহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

এর আগে হাইকোর্ট গত ২৬ অক্টোবর এক আদেশে মরহুম মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ে মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশ্বেরা মোস্তফাকে তাদের পৈত্রিক বাড়িতে (গুলশান ২ নম্বরে ৯৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়ী) প্রবেশের ব্যবস্থা নিতে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে(ওসি) নির্দেশ দেন। এ আদেশের পর সেই রাতেই দুই বোনকে পুলিশী প্রহরায় বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

জানা যায়, সংগীত শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই পাইলট মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ গত ১০ অক্টোবর মারা যান। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ২০০৫ সালে। তাদের দুই মেয়ে মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশ্বেরা মোস্তফা। এদের মধ্যে বড় মেয়ে মুশফিকা মোস্তফা লেখাপড়ার জন্য ২০১৩ সালে দেশ ছাড়েন। আর ছোট বোন মোবাশ্বেরা মোস্তফা বিয়ের পর আমেরিকা চলে যান। ফলে মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ একা হয়ে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে ভারতের বেঙ্গালুরের মেয়ে আঞ্জু কাপুরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই সূত্র ধরে ২০১৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু পিতার মৃত্যুর খবর শুনে দেশে এসে পৈত্রিক বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে তাদের আটকে দেওয়া হয়। তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ায় বাড়ির সামনেই অবস্থান নেন তারা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা