kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি নিয়ে স্বাধীন গণআদালত

ব্লু ইকোনমির ক্ষেত্রে উপকূলীয় মানুষকে রক্ষার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৭:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্লু ইকোনমির ক্ষেত্রে উপকূলীয় মানুষকে রক্ষার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে

ব্লু ইকোনমি সম্পর্কিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপকূলীয় মানুষের অধিকার, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ, বিশেষ করে প্রাকৃতিক সম্পদ নির্ভর প্রান্তিক মানুষের জীবন ও জীবিকার অধিকার রক্ষার বিষযটি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক গণআদালত। গণআদালতে ব্লু ইকোনমি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মডেল হিসাবে আবির্ভূত হলেও তা নব্য উদারতাবাদী অর্থনীতি সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক জুরি, বিশেষজ্ঞ এবং অধিকার কর্মীদের অংশগ্রহণে এই ভার্চুয়াল এই গণআদালত পরিচালিত হয় বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

পিআইপিএফপিডি’র (ভারত) সাধারণ সম্পাদক এমজে বিজয়ান ও কোস্ট ট্রাস্টের (বাংলাদেশ) উপ-নির্বাহী পরিচালক সনাত কুমার ভৌমিক গণআদতালতটি সঞ্চালনা করেন। এতে জুরি হিসেবে ছিলেন পরিবেশ ও খাদ্য অধিকার কর্মী ডক্টর বন্দনা শিবা, প্রাক্তন ইউএন র‌্যাপোটিয়ার আনন্দ গ্রোভার, আবিকা উহাকি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ইজার এমবোগিরি (কেনিয়া), নারীপক্ষের নির্বাহী কমিটির সদস্য শিরিন পারভিন হক (বাংলাদেশ)।

উদ্বোধনী অধিবেশনে ওয়ার্ল্ড ফোরাম অব ফিশারফোক পিপল (ডাব্লিউএফএফপি) জেনারেল সেক্রেটারি নাদিন নেমবার্ড (জ্যামাইকা), ইন্টারন্যাশনাল  প্ল্যানিং কমিটি ফর (আইপিসি) ফিশারিজ ওয়ার্কিং গ্রুপের নাসিগ জাফর (দক্ষিণ আফ্রিকা), কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী (বাংলাদেশ), ন্যাশনাল ফিশারফোক ফোরাম (এনএফএফ)’র চেয়ারম্যান নরেন্দ্র পাতিল (ভারত) বক্তৃতা করেন। 

গণআদালতে সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এ গান্ধিমথি। সমীক্ষাটি এমন তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছে যা ব্লু ইকোনমি মডেলকে নব্যউদারতাবাদী মডেল করে তুলেছে, এই তিনটি কারণ উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক সম্পদের অতি ব্যবহারের ফলে জীববৈচিত্র্য হ্রাস, উপকূলীয় অধিবাসীদের নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যবহারকারীর অধিকার এবং সমুদ্র এবং উপকূলে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারের ফলে জীবিকার উৎসের ক্ষয়ক্ষতি। তবে তিনি তা বলেছেন ব্লু একোনমি উপকূলীয় জীবন জীবিকার আমুল পরিবর্তন আনতে পারবে যদি একে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। 

কক্সবাজারের বিভিন্ন পেশার কয়েকজন বাসিন্দা তাদের এলাকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি গণআদালতে উপস্থাপন করেন। পরে জুরি বোর্ড তাদের অন্তর্বকালীন পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, উপকূলীয় সম্প্রদায়ের মানুষজনকে সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রেখে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং উপকূলীয় সম্প্রদায়ের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে, লাভজনক উপার্জন নয়। এই অঞ্চলের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা করে, এই অঞ্চলের মানুষের অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, অন্ধভাবে বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফের চাপানো পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা