kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মন্ত্রিসভার বৈঠক

অক্সফোর্ডের তিন কোটি টিকা বিনা মূল্যে দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:৪০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অক্সফোর্ডের তিন কোটি টিকা বিনা মূল্যে দেবে সরকার

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রথম দফায় অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত তিন কোটি ডোজ টিকা কিনে এনে দেশের মানুষের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলমান এই মহামারি মোকাবেলায় যাঁরা সামনে থেকে কাজ করছেন, শুরুতে তাঁদের এই টিকা দেওয়া হবে।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়ালি বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক না পরে ঘরের বাইরে বেরোলে জরিমানার পাশাপাশি প্রয়োজনে জেলে দেওয়ার মতো কঠোর অবস্থানে যেতে পারে সরকার। এ ছাড়া জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিলে তাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দণ্ডবিধি অনুযায়ী সাজা দেওয়া হবে।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা বৈঠকে অংশ নেন। পরে মন্ত্রিপরিষদসচিব সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা ও ভ্যাকসিন সংগ্রহের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের তিন কোটি ডোজ সংগ্রহের প্রস্তাবে গত ১৪ অক্টোবর অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ৫ নভেম্বর সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সঙ্গে সরকার চুক্তিও করেছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য ১৬ নভেম্বর অর্থ বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এখন ভ্যাকসিন কেনার প্রস্তাব অর্থনৈতিক ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে যাবে, সে প্রস্তাব চলেও এসেছে।

প্রথম দফায় ভ্যাকসিন কারা পাবে—এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটা গাইডলাইন আছে। প্রথম কারা পাবে, দ্বিতীয় ধাপে কারা পাবে, সে অনুযায়ী তারা একটা প্রগ্রাম ডেভেলপ করছে। ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার—পুলিশ, প্রশাসনের লোক যারা মাঠে চাকরি করছে, তারপর বয়স্ক লোক, বাচ্চা—এ রকম একটা প্রটোকল আছে। তিনি বলেন, মানুষকে এই ভ্যাকসিন বিনা পয়সায় দেওয়া হবে। টাকা সরকার দিচ্ছে। তিন কোটি ভ্যাকসিন ফ্রি দেওয়া হবে।

টিকা বিতরণে অনিয়ম হলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘টিকা বিতরণে করাপশন কেউ করলে আমাদের জানাবেন, উই উইল টেক অ্যাকশন।’

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, এই ভ্যাকসিন কিনতে মোট কত টাকা করে খরচ হবে, তা ক্রয়চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। বুধবার বিষয়টি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উঠবে। আরো অনেক ভ্যাকসিনের বিষয়ে মন্ত্রিসভায় তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা বলেছে, যোগাযোগ রাখছে। এখনই বলা যাচ্ছে না কোনটা বেশি কার্যকর হবে। আমাদের এক নম্বর কন্ডিশন হলো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল মানতে হবে। যার সঙ্গে চুক্তি করবেন, যদি মেজর কোনো সমস্যা হয়, তাহলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকলের বাইরে গেলে ওই চুক্তির কোনো মূল্য থাকবে না।

বাংলাদেশে চীনা কম্পানি সিনোভ্যাকের সম্ভাব্য টিকার ট্রায়াল আটকে থাকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘ওরা একটা টাকা চাচ্ছে। সরকার এখনো দেয়নি বা রাজি হয়নি। আমরা ওটা এখনো বাতিল করিনি।’

এদিকে করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, সবার মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের ‘শক্ত অবস্থানে’ যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগেই আমরা বলেছি, এ সপ্তাহ থেকে আরেকটু স্ট্রং অ্যাকশনে যাব। আমার মনে হয়, ঢাকার বাইরে কিছুটা পজিটিভ, ডিসিরা বলছেন জেলা সদরে মানুষ মোটামুটি কেয়ারফুল হচ্ছে। ঢাকা শহরে বোধ হয় এখনো পুরোপুরি কেয়ারফলু হয়নি, তবে মোটামুটি একটা বার্তা যাচ্ছে যে ফাইন হয়ে যাবে, ফাইন দিতে হবে ৫০০ টাকা। বলে দিয়েছি, এখন থেকে ম্যাক্সিমাম ফাইন করো, না হলে আমরা আরো ইনস্ট্রাকশন দেব, বলেছি সর্বোচ্চ জরিমানা করতে।’

তার পরও মাস্ক না পরলে কী হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘তারপরে জেলে যেতে হবে।’ তিনি বলেন, মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে সারা দেশে যেভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলছে, সেভাবে আরো ৭-১০ দিন চালিয়ে এর পর থেকে তাদের আরো কঠোর শাস্তি দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মন্ত্রিসভা জাতীয় জরুরি সেবা নীতিমালা, ২০২০-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিলে তাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দণ্ডবিধি অনুযায়ী সাজা দেবে সরকার। জাতীয় জরুরি সেবা পরিচালনায় একটি আলাদা ইউনিট গঠন করে কমপক্ষে ডিআইজি পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, অপরাধ দমন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। জনজীবনের সফলতা ও সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সংক্রান্ত এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিরাপদ জীবন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে জরুরি পরিস্থিতিতে তাত্ক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংকটাপন্ন মানুষকে যাতে সহায়তা করা যায়, দুর্ঘটনা ও অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়, অপরাধের শিকার কোনো ব্যক্তির সম্পদ উদ্ধার করা যেন সহজ হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা