kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কপিলমুনি মুক্ত দিবসে সরকারী কর্মসূচী গ্রহণের আশ্বাস মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ নভেম্বর, ২০২০ ১৮:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কপিলমুনি মুক্ত দিবসে সরকারী কর্মসূচী গ্রহণের আশ্বাস মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর

মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক রণাঙ্গন কপিলমুনি যুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং আগামী ৯ ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবসে সরকারী কর্মসূচী গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সোমবার কপিলমুনিবাসীর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির ইতিহাস-ঐহিত্য সংরক্ষণের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি নিয়ে সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে ওই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা সাকিলা পারভীন, সিনিয়র সাংবাদিক পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য, শিক্ষক প্রদীপ কুমার মণ্ডল, ইঞ্জিনিয়ার শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, অধ্যাপক জি এম আমিনুল ইসলাম, সাংবাদিক শেখ হারুন অর রশীদ ও অনির্বাণ লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত দেবনাথ।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও যুদ্ধক্ষেত্র সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশের ন্যায় কপিলমুনি যুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রকল্প গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি আগামী ৯ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবসে আয়োজিত কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের আশ্বাস দেন।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, কপিলমুনি যুদ্ধক্ষেত্র সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি মহাত্মা রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ কপিলমুনির উন্নয়নে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের করা হবে।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এরআগে খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু’র সঙ্গে তার ন্যাম ভবনে বাসায় সাক্ষাৎ করেন। তিনি জানান, কপিলমুনি মুক্ত দিবসকে সামনে রেখে বড়ধরনের কর্মসূচী গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া কপিলমুনি যুদ্ধের ঘটনাগুলো সরকারী নথিতে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার ও তা যথাযথভাবে সংরক্ষণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রীর কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলাধীন কপিলমুনি ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ কপিলমুনি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্রও। মহান মুক্তিযুদ্ধেও ছিলো কপিলমুনিবাসীর গৌরবোজ্জল ভূমিকা। কপিলমুনিতে সশস্ত্র যুদ্ধের এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি হয়। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর যখন সরকার যুদ্ধপরাধীদের বিচার শুরু করে। সেখানে কপিলমুনি যুদ্ধক্ষেত্রের রাজাকার ক্যাম্প থেকে আটক ১৫১ জন যুদ্ধাপরাধীকে গণআদালতে বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবসে। তাই দিবসটির গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারী কর্মসূচী নেওয়া হবে বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কপিলমুনিবাসী প্রত্যাশা করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা